অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ধনিয়ায় বিধবা ও অসহায় ৫০টি পরিবারের মুখে হাসি


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২রা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:০৪

remove_red_eye

৪৮৮

মোঃ আমির হোসাইন : ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া  ইউনিয়নে শীতের তীব্রতা থেকে কিছুটা স্বস্তি পেলেন  অসহায় বিধবা পরিবারগুলো । রবিবার  ধনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনিয়া সুইজগেট গ্রামে ৫০টি বিধবা ও দরিদ্র পরিবারকে শীতের নতুন কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামানের সহযোগিতায় এবং রাজাপুর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে, ভোলা জেলা পরিষদ এর অর্থায়নে, এই মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।
কম্বল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে নিরুতাজ বেগম (৭০)বলেন  স্বামী মারা গেছে ২০ বছর আগে  এখন পর্যন্ত কোন সরকারি সহযোগিতা  পাননি, তার বিধবা মেয়ে মিনারা  বেগম (৪০)  কে নিয়ে  ধনিয়া সুইজগেট  রাস্তার উপরে বসবাস করেন, তার থাকার মত একটি ঘরও নেই, কম্বল টি পেয়ে  তিনি অনেক খুশি হয়েছেন এই শীতে তার উপকারে আসবে।
রানু বিবি বলেন, "তিন বছর স্বামী মারা গেছেন, এতোদিনেও কোন সহায়তা পাইনি আজ ইউএনও স্যারের মাধ্যমে একটি শীতের কম্বল পেলাম, এটা আমার জন্য অনেক উপকার হবে। খুব খুশি হয়েছি। আল্লাহ তাআলা আপনাদের ভালো রাখুক।” দীর্ঘদিনের বঞ্চনার পর এমন সহায়তা পাওয়ায় তাঁর চোখেমুখে স্বস্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল।
আরেক উপকারভোগী রেসমা  বলেন, আমি  আগে কোনো কিছু পাইনি। আজ একটি কম্বল পেয়ে অনেক খুশি হয়েছি। শীতের রাতে আমার ছেলে-মেয়েদেরও উপকার হবে।” শীতের রাতে শিশুদের কষ্টের কথা স্মরণ করে তিনি এই সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শীত মৌসুমে দরিদ্র ও বিধবা পরিবারগুলোর কষ্ট লাঘব করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, “শীত মৌসুমে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। রাজাপুর সমাজ উন্নয়ন সংস্থার সহযোগিতায় আমরা এই কম্বল বিতরণ করতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও এমন মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়দের মতে, আরিফুজ্জামান একজন নিরহংকার, মানবিক ও জনবান্ধব কর্মকর্তা। কল্যাণমূলক কাজে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ভোলা সদর উপজেলার মানুষের হৃদয় জয় করেছে। এমন একজন ইউএনও পেয়ে ভোলাবাসী সত্যিই আনন্দিত ও গর্বিত।