অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৫ই আশ্বিন ১৪২৭


মনপুরায় জোয়ারের লবণাক্ত পানিতে ৩ শত হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি


তজুমদ্দিন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৫শে আগস্ট ২০২০ রাত ১০:০৪

remove_red_eye

১০৫




মেহেদি হাসান নাহিদ, মনপুরা : ভোলার মনপুরা উপকূলে গত ৪ দিনের জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর আমন ও আউশের ক্ষেত। এতে জোয়ারে লবনাক্ত পানি ডুকে ৩ শত হেক্টর আমন ও আউশের জমি সম্পূর্নরুপে ক্ষতি হয়। এছাড়াও হাজার হাজার হেক্টর জমিতে লবানাক্ত পানিতে জলাবদ্ধতা থাকায় চাষাবাদ করতে পারছেনা কৃষক। এতে করে লবণাক্ত পানিতে শেষ হচ্ছে উপকূলের হাজারো কৃষকের স্বপ্ন। তবে এই দূর্যোগে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শসহ সহযোগিতা না পাওয়ায় কৃষকের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জোয়ারের পানিতে ১১০ হেক্টর জমির আমন , ৩০ হেক্টর জমির আউশ, আমনের বীজতলা ৫০ হেক্টর ও ৮০ হেক্টর জমির শাকসবজির বাগান সম্পূর্ণরুপে ক্ষতি হয়।

উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট গ্রামের চরমরিয়ম এলাকার কৃষক আলাউদ্দিন, জয়নাল, শামসু, মিজান সহ অনেকে বলেন, জোয়ারের পানিতে চরমরিয়মের ৩ হাজার হেক্টর আমন ফসলের ক্ষেত ডুইবা গেছে। আমাগো হকল (সকল) ফসল নষ্ট হইয়া গেছে। কোন কৃষি কর্মকর্তা আমাগোরে কোন পরামর্শ দেয় নাই। এহন ( এখন) আমরা কি হরুম (করুম) বুঝে পাইতেছিনা। সরকার কিছু না হরলে (করলে) আমরা বউ, পোলা-পাইন লইয়া না খাইয়া মইরা যামু।

এদিকে উপজেলার সোনারচর, কাউয়ারটেক এলাকার কৃষক খোকন, করিম, ইব্রাহীম, এমরান, সোনা মিয়া সহ অনেকে জানান, জমির আইলের উপরে এখন দুই হাত জোয়ারের পানি। কেমনে চাষাবাদ করুম। জোয়ারের পানিতে লবণাক্ত পানি জইমা রইছে। যা আমনের বীজতলা করছি, সব পইচা নষ্ট হইয়া গেছে। জোয়ারের গেছে আইজা ৫ দিন হয়, কিন্তু কোন কৃষি স্যারেরা আইয়ে নাই।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাটের চরমরিয়ম বিল, সোনার চর বিল, চরযতিন গ্রামের ধান ক্ষেতের বিল জোয়ারের পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়াও মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক, পূর্ব আন্দির পাড় ও উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের আলমনগর, মাষ্টারহাট ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়া গ্রামের আমন ফসলের ক্ষেত জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছে।

এই ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আকাশ বৈরাগী  জানান, বিগত ৪ দিনের জোয়ারের পানিতে ২৭০ হেক্টর জমির আমান ও আউশের ক্ষতি হয়। সরকারি বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি, সরকারি বরাদ্ধ পেলে কৃষকের কাছে পৌছে দেওয়া হবে। জোয়ারের সময় ও এখন পর্যন্ত কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকের পরামর্শ সহ সহযোগিতা করেনি এমন প্রশ্নে তিনি কোন উত্তর দেয়নি।