অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২রা অক্টোবর ২০২০ | ১৬ই আশ্বিন ১৪২৭


হত্যাকান্ড বিএনপি’র অভ্যাস : প্রধানমন্ত্রী


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১শে আগস্ট ২০২০ রাত ১১:১১

remove_red_eye

৪৮

বাংলার কন্ঠ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিগত বিএনপি সরকার হত্যার রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি ‘দুর্নীতির বিষবৃক্ষ রোপণ’ করেছে যার ফল এখন বাংলাদেশ ভোগ করছে।
তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে ক্ষমতা হলো দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা কামানোর উপায় এবং দেশ এখন তাদের পাঁচ বছরের দুঃশাসন কালে রোপন করা বিষবৃক্ষের মূল্য দিচ্ছে।’
ভার্চুয়াল আলোচনায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বিএনপির একের পর এক দুর্নীতি উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করছে।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের একটি সমাবেশে বর্বর গ্রেনেড হামলা চালায় উল্লেখ করে বলেন, হত্যাকান্ড বিএনপির অভ্যাস।
তিনি বলেন, ‘(সত্যিকারেই) হত্যাকান্ড বিএনপি’র অভ্যাস, তারা দেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে না।’
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীতে একটি সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ বোমা হামলার ১৬তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে আজ সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।
দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় কার্যালয়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
২১ আগস্টের হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক এবং মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনীসহ ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৫০০ বেশি লোক আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন।
সর্বশক্তিমান আল্লাহতায়ালার অশেষ রহমতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতারা কোনরকমে প্রাণে রক্ষা পান।

বিএনপি-জামায়াত জোটের বল্গাহীন দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, তারা এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লম্বা লম্বা কথাবার্তা বলছে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছে যে, তাদের আমলে বাংলাদেশ পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল… সবাই তা ভাল করেই জানে।’
বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এতো বিপুল পরিমাণ অর্থোপার্জন করেছিল যে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের একজন বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ রকম জীবনযাপন করতে পারি না, তবে তারা পারে। কোথা থেকে তারা এ অর্থ পাচ্ছে? (শুনেছি) তারা ‘জুয়ার আড্ডা’ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া দায়িত্ব গ্রহণের পর তার স্বামী সামরিক একনায়ক জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশজুড়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে পোস্টিং দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন।
‘তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান হত্যাকারী ফারুক-রশিদের খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং বিবিসিসহ বিভিন্ন মিডিয়াকে দেয়া তাদের সাক্ষাৎকার থেকে তা প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, পরবর্তীতেও খুনিদের সাথে জিয়ার সম্পর্ক ছিল।’


শেখ হাসিনা বলেন, জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা করিয়েছিলেন এবং তার ছেলে তারেক রহমান এতে জড়িত ছিল।
তিনি বলেন, যারা হামলা চালিয়েছিল তাদের স্বীকারোক্তি থেকে হামলার পরিকল্পনা এবং কোথায় ও কীভাবে তারা হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করেছিল তা বের হয়ে এসেছে।
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, ওই জনসভার কিছুদিন আগে, খালেদা জিয়া ভবিষ্যৎবাণী করেন যে, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় যেতে পারবে না এবং আমি কখনো প্রধানমন্ত্রী বা এমনকি বিরোধীদলের নেতাও হতে পারব না।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া কীভাবে এমন পূর্বাভাস দিয়েছিলেন? কারণ তারা আমাকে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র করছিল। নাহলে তারা কিছুই করতে পারত না। আমরা যদি তাদের মন্তব্যগুলো দেখি, তাহলে এই ষড়যন্ত্র বেরিয়ে আসে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেটে হজরত শাহজালাল (রা.) এর মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর জঙ্গিদের হামলাসহ সারা দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গি তৎপরতার প্রতিবাদে শান্তির পক্ষে আওয়ামী লীগ ২০০১ সালের ২১ আগস্ট দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের আয়োজন করেছিল।
গ্রেনেড হামলার ভয়াবহ দৃশ্য স্মরণ করে সংসদে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা বলেন, মোহাম্মদ হানিফসহ দলের নেতা-কর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে তাকে রক্ষা করেছিলেন।
তিনি কলেন, ‘একটি ট্রাকে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চ লক্ষ্য করে ১৩টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং আরো দু’-তিনটি গ্রেনেড অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে গেয়েছিল।
গ্রেনেড হামলার প্রমাণ নষ্ট করার জন্য বিএনপি সরকারকে দায়ী করে শেখ হাসিনা প্রশ্ন করেন যে, বিএনপি যদি জড়িত না হয়, তাহলে কেন তারা প্রমাণ নষ্ট করেছিল?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রেনেড হামলার পরে সিটি কর্পোরেশন (যার মেয়র ছিলেন সাদেক হোসেন খোকা) সমস্ত প্রমাণ মুছে ফেলতে পানি দিয়ে পুরো এলাকা ধুয়ে ফেলেছিল।
তিনি বলেন, প্রমাণ হিসাবে একটি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড রাখতে চেয়েছিলেন বলে খালেদা জিয়া একজন সেনা অফিসারকে বরখাস্ত করেছিলেন। এর অর্থ এই যে তারা হামলার একটি প্রমাণও রাখতে চাননি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন হামলার পরে পুলিশ হতাহতদের উদ্ধারের পরিবর্তে হামলাকারীদের নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য টিয়ার গ্যাসর নিক্ষেপ করে এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করে।
‘তৎকালীন বিএনপি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা সম্ভব হতো না। বিএনপি সরকার সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং বিদেশে পালানোর সুযোগ সৃষ্টি করেছিল।’
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি সরকার ভেবেছিল এই হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, কিন্তু আমি এই হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছি এবং যখন বিএনপি সরকার শুনল যে তিনি মারা যাননি, তখন তারা চারজন খুনীকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল।
এই হামলায় তৎকালীন অনেক বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আহত হয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংসদে তাদের একটি শব্দও উচ্চারণ বা আলোচনা করতে দেয়া হয়নি।
এমনকি আমাদের এই হামলার নিন্দা জানাতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব আনতে বাধা দেয় হয়েছিল। বরং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেত্রী খালেদা জিয়া বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা করে বলেছিলেন যে, তাকে (শেখ হাসিনা) কে হত্যা করবে?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দলের অসংখ্য নেতা এবং সংসদ সদস্য সে সময় হাসপাতালে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, কিন্তু সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কোন অধিকার আমাদের ছিল না এবং এই বিষয়ে কথা বলার জন্য সংসদে আমাদের কাউকে মাইক দেওয়া হয়নি… যদি তারা এই হামলায় জড়িত না থাকত, তাহলে তারা এভাবে বাধা দিতে পারত না।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে অপহরণের পর হত্যার পরিকল্পনা করেছিল এবং এফবিআই তদন্ত থেকে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
তিনি বলেন, তদন্তে বিএনপির এক নেতাকে দোষী সাব্যস্ত ও সাজা প্রদান করা হয় এবং আদালতের রায়ে বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান ও শফিক রহমানের নাম প্রকাশ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অপরাধের জন্য যে ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, তিনি তারেক জিয়ার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়টি জানতে পারতাম না যদি এফবিআই এর তদন্ত না করতো এবং এ ব্যাপারে রায় প্রদান না করা হতো।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলায় শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জন্য এবং বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সাহায্য করার জন্য দলের সকল নেতা ও কর্মী এবং সহযোগী সংগঠনগুলোকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, দেশের কোন রাজনৈতিক দল এভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ায়নি। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দলের অনেক নেতা ও কর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন। তিনি নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে একটি বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী এই মারাত্মক রোগের সংক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশকে স্বাধীন করেছেন এবং তাঁর স্বপ্ন ছিল দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো।


তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য অর্জনে অনেক অগ্রগতি লাভ করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, করোনাভাইরাস সবকিছু আটকে দিয়েছে। তা সত্ত্বেও আমরা অর্থনৈতিক কাজের চাকা সচল রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।
তার জীবননাশের অপচেষ্টা বেশ কয়েকবার করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ অবশ্যই ২১ আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা থেকে তাকে রক্ষা করে কিছু কাজ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি যেনো চালিয়ে যেতে পারি এবং সর্বশক্তিমান আমাকে সেই সুযোগ দেবেন এবং আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নে সোনার বাংলা গড়ে তুলবো।
বাংলাদেশের জনগণ করোনাভাইরাস থেকে যেনো রক্ষা পায় এবং দেশের উন্নয়নের গতি যাতে অব্যাহত থাকে এজন্য শেখ হাসিনা সবাইকে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র:বাসস