অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট ২০২৬ | ১০ই ভাদ্র ১৪৩৩


বাবাহারা হুমাইরার স্বপ্ন থামতে দিল না ছাত্রদল


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯শে নভেম্বর ২০২৫ বিকাল ০৩:১৮

remove_red_eye

২৩৯

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : বাবার মৃত্যুর পর কঠিন আর্থিক সংকটে পড়ে ভোলা সদর উপজেলার মেয়ে হুমাইরা যখন পড়াশোনার স্বপ্ন প্রায় হারাতে বসেছিলেন, ঠিক তখনই তার পাশে দাঁড়াল ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল। ভর্তির শেষ দিনে এগিয়ে এসে তারা শুধু ভর্তি সম্পন্নই করেনি, বরং নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সব ধরনের সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছে।

২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ভোলা সরকারি কলেজের অনার্স ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় স্থান পেলেও অর্থাভাবে ভর্তি হতে পারেননি হুমাইরা। পরে ডিগ্রি পাস কোর্সে ভর্তির সুযোগ এলে সেখানেও একই আর্থিক প্রতিবন্ধকতা বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। ঠিক সেই সময় বিষয়টি জানতে পারেন ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক আরাফাত ইসলাম ইফতি।

খবর পেয়ে সদস্য সচিব আবদুস সামাদসহ কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন। ভর্তির শেষ দিনে হুমাইরার ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

হুমাইরা বলেন, “বাবা মারা যাওয়ার পর অনেক কিছুই এলোমেলো হয়ে যায়। অনার্সে ভর্তি হতে না পারার ভয়টা আমাকে আরও ভেঙে দেয়। শেষ দিনের এই সুযোগও যদি চলে যেত, হয়তো আর পড়াশোনায় ফেরা হতো না। ছাত্রদলের ভাইয়েরা আমাকে নতুন করে বাঁচার শক্তি দিয়েছে। এই উপকার আমি কোনোদিন ভুলব না।”

সদস্য সচিব আবদুস সামাদ বলেন, “এটা শুধু সাহায্য নয়—মানবিক দায়িত্ব। হুমাইরার পড়াশোনা নির্বিঘ্ন রাখতে আমরা যা প্রয়োজন, তা করব। প্রতিটি সাধারণ শিক্ষার্থীর জন্য সুন্দর ক্যাম্পাস গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”

আহবায়ক আরাফাত ইসলাম ইফতি বলেন, “টাকার অভাবে একজন শিক্ষার্থীর জীবন থেমে যেতে পারে না। হুমাইরার বাবা নেই, কিন্তু আমরা তার ভাই হয়ে পাশে আছি। শুধু ভর্তি নয় আগামীতে চাকরি পর্যন্ত সহযোগিতা করতে পারলে সেটাও করব। ছাত্ররাজনীতিকে শিক্ষার্থীদের ভরসা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই এই উদ্যোগ সেই পথের শুরু।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. ফজলে রাব্বি, মো. সিফাতুল্লাহ সিফাত, মো. রাজু ও সাফায়েত হোসেন শাফিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় মহলে ছাত্রদলের এই মানবিক উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, এমন সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।


ভোলা সদর মোঃ ইয়ামিন