অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট ২০২৬ | ৯ই ভাদ্র ১৪৩৩


দৌলতখানে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ


দৌলতখান প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৪শে আগস্ট ২০২৬ রাত ০৮:৪৮

remove_red_eye

৫৮

দৌলতখান প্রতিনিধি : ভোলার দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসা ও দায়িত্বে অবহেলায় এক নবজাতক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে সিনিয়র স্টাফ নার্স নুসরাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রসূতি পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে হট্টগোল শুরু করেন। পরে কান্নায় ভেঙে পড়ে নার্সের বিচারের দাবি জানান স্বজনরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে রোগীর স্বজন ও নার্সের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
নবজাতকের পরিবারের অভিযোগ, রোববার বিকেলে দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বসরুদ্দি বাড়ির রুবেলের স্ত্রী তানজিলা বেগমের প্রসবব্যথা উঠলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আলট্রাসনোগ্রাম না করেই সিনিয়র স্টাফ নার্স নুসরাত প্রসব করানোর উদ্যোগ নেন।
প্রসূতির দেবর মো. ইমন অভিযোগ করে বলেন, প্রসবের একপর্যায়ে নবজাতকের শরীরের কিছু অংশ বের হলেও বাকি অংশ বের হচ্ছিল না। পরে টানাহেঁচড়া করে শিশুটিকে বের করার পরপরই তার মৃত্যু হয়। তার অভিযোগ, রোগীর শারীরিক অবস্থা যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করেই প্রসবকক্ষে পাঠানো হয়েছিল।
নবজাতকের নানিও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নার্স যদি স্বাভাবিকভাবে প্রসব করাতে না পারেন, তাহলে কেন চেষ্টা করা হলো এবং কেন উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি,এ বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়। 
এদিকে, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইমতিয়াজ বলেন, প্রসূতি তানজিলা বেগমের কাছে তিন-চার সপ্তাহ আগের একটি আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট ছিল। সে কারণে তিনি নতুন করে আলট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষা দেননি বলে জানান। তবে রোগীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা যাচাই না করে কেন তাকে ডেলিভারি রুমে পাঠানো হলো এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান। পরে রোগীর পরিবারের সদস্য ও অভিযুক্ত নার্স নুসরাতের বক্তব্য শোনেন। বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমানকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনিসুর রহমান বলেন, নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।