অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২রা অক্টোবর ২০২০ | ১৬ই আশ্বিন ১৪২৭


বোরহানউদ্দিনে নার্সের কাছ থেকে সরকারি ঔষধ উদ্ধার : তদন্ত কমিটি গঠন


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ই আগস্ট ২০২০ রাত ১০:৩৭

remove_red_eye

১০৫




বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সরকারি বিভিন্ন ধরনের ৪৮ পাতা ঔষধ গোপনে বাসায় নিতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা খেলেন হাসপাতালের নার্স তৃপ্তি রায়। রবিবার দুপুরের হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ বাড়ি নেয়ার পথে এলাকাবাসী তাকে বাঁধা দেয়। স্থানীয়দের বাঁধার মুখে বাসায় না গিয়ে পুনরায় হাসপাতালে এসে স্টোর কিপারের কাছে ঔষধ গুলো ফিরিয়ে দেয়। এ দিকে সোমবার এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এ ব্যাপারে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৃপ্তি রায় দীর্ঘ দিন ধরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কাজ করছেন। যার কারণে সরকারি ওই প্রতিষ্ঠানটির সকলের সাথে তার সুসর্ম্পক তৈরি হয়। এই সুবাদে তিনি বিভিন্ন সময় হাসপাতাল থেকে অবৈধভাবে ঔষধ নিয়ে যেতেন। একই ভাবে রবিবার হাসপাতালের বহির্বিভাগের ঔষধ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে ৪৮ পাতা ঔষধ নিয়ে তিনি বাড়ি যাচ্ছিলেন। এ সময় পথে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে। পরে তাকে এত  ঔষধ কোথায় ও কেন নিয়ে যাচ্ছেন  প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর না দিয়ে দ্রæত আবার হাসপাতালে চলে যান। পরে স্থানীয়রা পিছু পিছু হাসপাতালের ওই কক্ষে ছুটে যান। এ সময় স্থানীয়রা তার হাতে থাকা বক্স ও ইউনিফর্মের পকেট থেকে বিভিন্ন ধরনের ৪৮ পাতা ঔষধ বের করে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও সরকারি ঔষধ বাসায় নিয়ে বাহিরে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নার্স তৃপ্তি রানী রায় জানান, তিনি এসব ওষুধ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী টিকেটের মাধ্যমে তার আত্মীয়-স্বজনদের জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রয়োজনে মাঝে মাঝেই এভাবে ঔষধ নিয়ে যান বলে স্বীকার করেন তিনি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তপতি চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমি লোকের মুখে শুনেছি। তিনি যদি ঔষধ নিয়ে থাকেন তাহলে তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হবে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুর রহমান জানান, বিষয়টি আমি শোনার সাথে সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তপতি চৌধুরীকে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী জানান, ওই ঘটনায় ডা: মনিরুজ্জামানকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২০ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত রির্পোট দিবে।