অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ১লা অক্টোবর ২০২০ | ১৬ই আশ্বিন ১৪২৭


চরফ্যাসনের চর পাতিলায় শিক্ষা ব্যবস্থায় নাজুক পরিস্থিতি!


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৪ই আগস্ট ২০২০ রাত ০৯:৫২

remove_red_eye

১১৫


এআর সোহেব চৌধুরী,চরফ্যাশন : দক্ষিণাঞ্চলের নদী ও সাগর বেষ্টিত  ভোলার চরফ্যাসনের কাদা জলের দ্বীপ ইউনিয়ন কুকরি-মুকরির ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ড বিচ্ছিন্ন চর-পাতিলা। এ চরে পূর্ব ও পশ্চিম বাজার,শরীফপাড়া,পাতিলা এবং উত্তরকান্দী নামের ৫টি গ্রাম মিলিয়ে  প্রায় ৫হাজার মানুষের বসবাস। যেখানে স্কুলগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২হাজারের বেশি তবে কিছু সংখ্যক শিশু শিক্ষার্থী প্রাথমিকের গন্ডি পার হলেও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার মূল ধারা থেকে ঝড়ে পড়ছে। এ অঞ্চলের প্রায় এক হাজার পরিবারের শিশু ও কিশোরেরা শিক্ষা বঞ্চিত হয়ে অল্প বয়সেই নদী ও সাগরে মৎস শিকারে চলে যাচ্ছে স্বজনদের সাথে। ফলে দিন দিন বাড়ছে নিরক্ষরতার হার। এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও অবকাঠামো ছোট এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি। এছাড়াও ওই চরের আয়োতন ও জনসংখ্যার দিক থেকে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় অপ্রতুল বলে জানান স্থানীয়রা। বিচ্ছিন্ন এ চরটিতে মূল ভূখন্ডের সাথে নৌপথ ছাড়া যোগাযোগের অন্য কোনো মাধ্যম না থাকায় শিশু কিশোরদের চরফ্যাশন শহরে পাঠিয়ে শিক্ষা দিতে রাজি না পরিবার। জল ও স্থল মিলিয়ে প্রায় দুই ঘন্টার বেশি সময় লাগে পাতিলা থেকে দক্ষিণ আইচা থাানায় আসতে। এছাড়াও ৮০ ভাগ জেলে পেশার পরিবার আর্থিক অনোটনে ও দূরের শহরে পাঠিয়ে লেখাপড়ার খরচের যোগান দিতে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আর তাই ইচ্ছা থাকা সত্বেও সন্তানের ভবিষ্যত গড়তে পারছেনা এসব পরিবার। পড়ালেখা ও কাজকর্ম না থাকায় এ চরের কিশোরীরাও পরিবারে বোঝার মতো। তাই অল্প বয়সেই এ অঞ্চলের কিশোরীদের বিয়ে দিয়ে দেয় তাদের পরিবার। চরের কিশোর,কিশোরীরা লেখাপড়ার মাঝে থাকলে অন্তত বাল্য বিয়ে ও মাদকসহ অন্যান্য অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মুক্তি পেত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি স্থানীয় শিক্ষিত যুবকদের প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
ওই বিদ্যালয়ের প্রধাণ শিক্ষক এইচএম ইউসুফ জানান, অন্ধকারে নিমজ্জিত চর পাতিলার কোমলমতি শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতেই এ স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে এখানে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা একশ জন। এ প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সহায়তা পেলে এখানকার শিশু কিশোররা সবার জন্য শিক্ষা অন্তত এ যায়গাটি থেকে বঞ্চিত হবেনা এবং তারা সমাজ ব্যবস্থার মূল ধারায় অংশ নিতে পাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
 বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কুকরি-মুকরি ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন বলেন, চর-পাতিলায় মাত্র একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকা ও এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় এ চরে নিরক্ষরতার হার ক্রমেই বাড়ছে। কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানাই এখানে যেন চরাঞ্চলের ক্যাটাগড়িতে আরও একটি প্রাথমিক ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন শিক্ষা ব্যবস্থায় শতভাগ নিরক্ষর মুক্ত বাংলাদেশ গড়া হয়।