অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১৫ই আশ্বিন ১৪২৭


চরফ্যাসনে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন : গর্ভের সন্তান হত্যার অভিযোগ


এ আর সোহেব চৌধুরী

প্রকাশিত: ১১ই আগস্ট ২০২০ রাত ১২:৩৩

remove_red_eye

৮৪


মামলা করায় এসিডে ঝলসে দেয়ার হুমকি

 চরফ্যাসন প্রতিনিধি : যৌতুকের টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধরে গর্ভের সন্তান হত্যায় ভোলার  চরফ্যাশন সদর থানায় মামলা করার ফলে জেল হাজতে আটকাধীন আসামী শাহজালালের পরিবার কর্তৃক এসিড দিয়ে ঝলসে দেয়ার হুমকির অভিযোগ রয়েছে।

গত শনিবার (৮আগস্ট) বেলা ১১টার সময় চরফ্যাশন পৌরসভা ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা  সিরাজুল ইসলামের মেয়ে নুসরাত জাহান নিশিকে লালমোহন উপজেলার কর্তারহাট রমাগঞ্জ ইউনিয়নের সাঝিবাড়ির মৃত জাকির হোসেনের মেয়ে রিনা বেগম ও তার বোন জামাই মহিউদ্দিনসহ মা মাহমুদা খানম মিলে এ হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন নুসরাত জাহান নিশি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, লালমোহন রমাগঞ্জের জাকির হোসেনের ছেলে মো. শাহজালের সাথে ২০১২সালে প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হয়। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে ১৬ সালে ৫লাখ টাকার কাবিনে বিবাহ হলে পরবর্তীতে যৌতুক বাবদ আমার কাছে ৫লাখ টাকা দাবি করে। কিন্তু আমার পরিবার ওই টাকা না দিয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও যাবতীয় লেপ তোষক টিভি হাড়ি,পাতিল কিনে দেয় যার মূল্য এক লাখ ৭৭হাজার টাকা ছাড়াও নগদ উপহার দুই লাখ ৫০হাজার টাকা প্রদাণ করে তাদের বাড়িতে আমাকে তুলে দেয়া হয়।

আমাদের সন্তান থাকার পরেও আমার স্বামী শাহজালাল আমাকে না জানিয়ে ১৮সালে গোপনে খাদিজা নামক একজনকে বিবাহ করে বিভিন্ন বাসা বাড়িতে ভাড়া থাকে এবং একাধিক মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলে পরক্রিয়ায় জড়ালে আমার সাথে এবিষয়গুলো নিয়ে প্রায় সময় বাকবিতন্ডা ও মারধর রক্তাক্ত ফোলা জখম করত। খাদিজাকে বিবাহের পরে শাহজালালসহ তার পরিবারের চক্রান্ত করে ব্যবসা বানিজ্যের বাহানা দিয়ে আমার নিকট আবারো তিন লাখ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকে। আমি অস্বীকার করায় শাহজালাল ও তার পরিবার আমাকে শাড়িরিক ও মানুষিক নির্যাতনসহ নানা রকম অত্যাচার করে। এবিষয়ে আমার পরিবারকে জানালে আমার পরিবার ঋণ করে শাহজালালকে ব্যবসার জন্যে তিন লাখ টাকা দেয়। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে নামমাত্র একটি মোবাইল ফোনের সার্ভিসিং এর দোকান দেয় এবং বাকি টাকা অসামাজিক কাজকর্মে খরচ করে ফেলে। এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হলে সে আবারও যৌতুকের টাকার জন্য আবার চাপ দিয়ে নানানরকম অত্যাচার নির্যাতন করে আমার পিত্রালয়ে আমাকে পাঠিয়ে দেয়। এসময় আমি তিন মাসের অন্তসত্বা ছিলাম।

কিছুদিন পরেই শাহজালাল ও তার পরিবার মিলে আমাদের বাড়িতে আমাকে নেয়ার জন্য আসে এবং সকলের কাছে ক্ষমা চায় আমার পরিবার খুসি হয়ে তার পরদিন (৫জুলাই) সকালে  আমকে তাদের হতে তুলিয়া দেয়ার সময় শাহজালাল আমাকে ব্যবসা করবে বলে শেষবারের মতো তিন লাখ টাকা দেয়ার জন্য আমার পিতা শিরাজুল ইসলামকে জানাতে বলে এবং আর কোনোদিন খারাপ পথে চলবেনা এবং আমাকে মারধর করবেনা বলেও প্রতিজ্ঞা করে।

এসময় আমাকে আমাদের বাড়ির সড়কের পূর্বে মাঠের কাছে নিয়ে আমাকে টাকার জন্য জোর চাপ দিতে থাকে এ সময় আমি তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করলে শাহজালাল ও তার ভাই হুমায়ুন কবির,বোন রিনা বেগম এবং মা মাহমুদা খানম মিলে বাকবিতন্ডা করে। এসময় শাহজালাল আমাকে লাঠিসোটা দিয়ে পর্যাপ্ত মারধর ও লাথি ঘুশি মারলে আমার পেটে আঘাত লাগে এবং গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্ত ঝরে। আমার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধারে আসলে শাহজালাল ও তার পরিবার দ্রæত চলে যায়।

আমাকে উপজেলাপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিলে বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায় আমার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। আমার সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় চরফ্যাশন সদর থানায় চারজনকে আসামী করে গত জুলাইয়ের ৯ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করি যার নং ০৩। চরফ্যাশন সদর থানা পুলিশ শাহজালালকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠান।

এবিষয়কে কেন্দ্র করে গত শনিবার ১১টার সময় বাকি আসামীরা আমার বাড়ির সম্মুখ দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় বলে, মামলা উঠিয়ে না নিলে শাহজালাল জেল থেকে বের হয়ে আসলে  আমার শরিরে এসিড মেরে আমাকে ঝলসে দিবে এবং মারধর করে আমার হাত,পা ভেঙ্গে দিবে। এছাড়াও মামলা মকদ্দমায় আমাদের হয়রানি করারও হুমকি দেয়। তাই আমি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা করে চরফ্যাশন থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছি যার নং ৩২৫। এবিষয়ে শাহজালালের পরিবারকে বাড়িতে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি।