অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ই আশ্বিন ১৪২৭


ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮শে জুলাই ২০২০ রাত ১০:৪৬

remove_red_eye

১৫২



ঈদকে সামনে রেখে দুশ্চিন্তায় জেলেরা


আকতারুল ইসলাম আকাশ : ভরা মৌসুমেও ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে কাক্সিক্ষত ইলিশের দেখা মিলছে না। ইলিশ পাওয়ার আশায় প্রতিদিন নদীতে গেলেও জেলেদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। একদিকে করোনা অন্যদিকে শূন্য জাল এ অবস্থায় ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন জেলে পল্লীগুলো। নতুন করে জড়িয়ে পড়ছেন ধারদেনায়। আর লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগর থেকে ইলিশ নদীতে আসতে দেরি হচ্ছে তাই এ সময় জেলেদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ মৎস্য বিভাগের।
বৈশাখ থেকে আশ্বিন পর্যন্ত টানা এ ছয় মাস মেঘনা নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। অথচ ইলিশ পাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বর্ষা, নদীতে প্রচুর পানিসহ সব লক্ষণ থাকলেও দেখা নেই শুধু ইলিশের। তারপরও প্রতিদিন আশায় বুক বেঁধে নদীতে ছুটছেন হাজার হাজার জেলে নৌকা-ট্রলার নিয়ে। কিন্তু হাতেগোনা দু-চারটি ইলিশ পাওয়া গেলেও তা বিক্রি করে তেলের টাকা উঠছে না জেলেদের। তাই ইলিশনির্ভর বিশাল এ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা এখন নানামুখী সংকটে।
জেলেরা জানান, ‘নদীতে কোনো মাছ নেই। কিন্তু সামনে কোরবানি। এখন আমরা কীভাবে চলব ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। এখন শ্রাবণ মাস চলছে, নদীতে মাছের দেখা মিলছে না। ইলিশা ঘাটের আরৎদার বাবুল পাটওয়ারী বলেন, ভোলা সদরের মৎস্য অফিসের নিবন্ধিত ২৪ হাজার ৭'শো ৩৫ জন জেলে আছে। এছাড়া নিবন্ধনের বাইরেও প্রায় ২০ হাজার জেলে রয়েছে। এ জেলেদের পরিবারগুলো মেঘনা-তেঁতুলিয়ার ইলিশের ওপর নির্ভরশীল। বছরের এ সময় তারা মাছ ধরে যা রোজগার করেন তা দিয়ে পুরো বছর চলে। শোধ করেন মহাজনের ধারদেনা। নদীতে মাছ না থাকায় জেলেরা যেমন দিশেহারা, তেমনি মাছ ব্যবসায়ীরা হতাশ।
মাছ ব্যবসায়িরা জানান, ইলিশের আশায় প্রতিদিন নৌকা ও ট্রলার নিয়ে দলে দলে নদীতে ছুটছেন জেলেরা। যে মাছ পাওয়া যায় তাতে করে ট্রলারের তেলের টাকাও হয় না। অন্যদিকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। আর আমরা যে আরত দিয়ে বসেছি কর্মচারী খরচ দিয়ে খরচের টাকা পর্যন্ত ওঠে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে মাছ ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের মধ্যে অনেকেই এবার কোরবানি দিতে পারবেন না।
তবে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান খান জানান, জলবায়ু পরিবর্তন হলে আগস্ট মাস থেকে জেলেদের জালে ধরা পড়তে পারে রুপালী ইলিশ।