অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ই আশ্বিন ১৪২৭


চরফ্যাসনে জমির বিরোধ নিয়ে বৃদ্ধার চোখ উপরে ফেলার চেষ্টা


এ আর সোহেব চৌধুরী

প্রকাশিত: ২৭শে জুলাই ২০২০ রাত ১১:০৩

remove_red_eye

৮৬



লাঠিয়াল বাহিনীর হামলায় আহত-৪

এআর সোয়েব চৌধুরী,চরফ্যাশন : ভোলার চরফ্যাশন রসুলপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে জমি জবর দখলকে  কেন্দ্র করে হাওয়ানুর বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার চোখে উৎপাটনের চেষ্টা করা হয়েছে।  এসময় লাঠিয়াল বাহিনীর হামলায় ৪জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন হাওয়ানুর বেগম (৬৫), ইলিয়াস আখন (২৪), পারভেজ  আখন (৪৫) ও জাকির শিকদার (৩৫)। আহত হাওয়ানুর বেগমকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
বৃদ্ধা হাওয়ানুর বেগমের ছেলে মো.পারভেজ সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, রসুলপুর মৌজার ২৫৯০ নং খতিয়ানের ১৮৯/১ এর দাগে আমার মা হাওয়ানুর,খালা আঞ্জুরা বিবি, মালেকা পারভীন, শাহেরজান বিবি ও মামা আব্দুস সোবহান এবং কাজল বেপারীর এক একর ওয়ারিশি সম্পত্তি রয়েছে। যা সরকার খাস খতিয়ানে নিয়ে গেলে আমি ওয়ারিশদের সাথে পরামর্শ সাপেক্ষে আমার নামে বন্দবস্ত নেই। আমাদের পূর্বপুরুষ আমল থেকে আমরা পরিবার নিয়ে ওই জমিতে র্দীঘ ৫০ বছর যাবত ভোগদখল করছি। এই জমিতে প্রতিপক্ষ রফিকুল ইসলাম সাঝী গং ১নং খতিয়ানের ১৮৮ দাগে ৪০ শতাংশ জমি খরিদ করে।  বর্তমানে আমাদের অন্যান্য দাগের ভোগ দখলি জমিতে তারা দেড় একর জমি দাবি করে পূর্বে কয়েকবার হামলা ও মামলা করে হয়রানি করে। পরে সেই জমি নিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফা সালিশ ফয়সাল করে দিলেও রফিকুল ইসলাম সাঝী গং সালিশ ফয়সালা উপেক্ষা করে আমাদের ওই জমি জোর জবর দখলের পায়তারা করে। পরে উপজেলা ভূমি কমিশনার বরাবর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাহিন আহমেদ উভয় পক্ষকে ডেকে আদালতে চলমান মামলার রায় না হওয়া পর্যন্ত যারযার জায়গায় অবস্থান করার নির্দেশ দেন।

কিন্তু  সোমবার (২৭জুলাই) সকালে ভূমি কমিশনারের নির্দেশনা অমান্য করে আমাদের ওই জমিটি জবর দখলের পায়তারা করে।
এসময় আমার মাছের ঘেরের শ্রমিককে রিফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মারধর করলে খবর শুনে আমি ছুটে যাই এবং বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে রফিকুলের ছেলে হুমায়ুন সাঝী,শাকিল, হাসেম,শাহিদা বেগম, হনুফা বিবি'সহ আরও ১০/১২ জন মিলে আমাকে মারধর করে। এসময় আমার ছোট ভাই মো. ইলিয়াস সহ মা হাওয়ানুর বেগম ও জাকির শিকদার আমাকে উদ্ধার করতে আসলে তারা আমাদের সকলকে লাঠিসোঁটা ও দ'সেনি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর ও কুপিয়ে জখম করে এবং লোহার রড দিয়ে ছোট ভাই ইলিয়াসের মাথা ফাটিয়ে দেয় ও মা হাওয়ানুরের চোখে দা দিয়ে কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। স্থানীয় এলাবাসী আমাদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে।
এ অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলাম সাঝীর ছেলে মোঃ হুমায়ুন সাঝী বলেন, ওই জমিটি নিয়ে আদলত চলমান তবে পারভেজ আখনসহ তার লোকজন সেখানে কাজ করছিল আমি মোবাল ফোনে ভিডিও করলে তারা এসে আমার ফোনটি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমাদের সাথে মারামারির ঘটনা ঘটে।
তবে পারভেজ আখন আরও বলেন, আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে ঘেরের ঘাস লতাপাতা পরিস্কারের জন্য সেখানে শ্রমিক পাঠাই।
শশিভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এঘটনায় থানায় একটি মামলার এজহার কপি পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।