অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২রা অক্টোবর ২০২০ | ১৬ই আশ্বিন ১৪২৭


ভোলায় জুয়োলীতে ক্রেতা সেজে স্বর্ণ চুরি করা ৩ নারী বরিশালে গ্রেপ্তার


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ২২শে জুলাই ২০২০ রাত ০১:০৪

remove_red_eye

১৩১৪

বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক: ভোলায় ক্রেতার ছদ্মবেশে বিসমিল্লাহ গোল্ড হাউজ থেকে এক ট্রেতে থাকা ১৫টি আংটিসহ প্রায় সাড়ে ৪ ভরি স্বর্ণ চুরির হওয়ার পর অবশেষে সংঘবদ্ধ ৩ মহিলা চোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।  ভোলার পর বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ক্রেতা সেজে জুয়েলারি দোকান থেকে ৩০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার চুরি করে পালানোর সময় স্বর্ণ চোর চক্রের তিন নারী সদস্যকে বরিশাল নগরী থেকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের সাথে থাকা চক্রের অপর নারী সদস্য চুরি করা স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। আটককৃত আন্ত:জেলা নারী স্বর্ণ চোর চক্রের তিন নারী সদস্য হলেন ঢাকার কামরাঙ্গির চরের ঝাউতলার বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. হাসি বেগম ওরফে লাকি (৪৫), রাজধানীর রমনা থানাধীন মগবাজার এলাকার শহীদুল ইসলামের স্ত্রী জোহরা বেগম (৫৫) ও একই এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেনের স্ত্রী ঝর্ণা বেগম (৪৫)। এছাড়া শিল্পী নামে চক্রের অপর সদস্য স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তিনি ওই একই এলাকার সদস্য বলে জানিয়েছেন মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. আবিদুর রহমান। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ওই জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নম্বর ১৩।

ভোলায় জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক অবিনাশ নন্দি জানান, ভোলা শহরে বরিশাল দালান সংলগ্ন বিসমিল্লাহ গোল্ড হাউজ থেকে গত ১৪ জুলাই  ৪ জন নারী ক্রেতা স্বর্ণালঙ্কার ক্রয় করতে যায়। কিন্তু তারা ক্রেতার ছদ্মবেশে ওই দোকান থেকে এক ট্রেতে থাকা আড়াই থেকে ৩ ভরি ওজনের ১৫/২০টি স্বর্ণের আংটি চুরি করে নিয়ে যায়। তাৎক্ষনিক এ ঘটনা দোকান মালিক ধরতে না পারলে পরে তারা সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে চুরির স্পষ্ট দৃশ্য দেখে নিশ্চিত হন। তাতে দেখা যায়,বোরকা পরা মুখে কাপড় দেয়া কয়েক জনারী একসাথে ওই দোকানে গিয়ে এই চুরির ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার পর দোকান মালিক পক্ষ ভোলা পুলিশকে জানান। কিন্তু তখন কোন মামলা হয়। জুয়েলার্স মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক আরো জানান, ওই প্রতারক চক্র ভোলা শহরের তরুণ জুয়েলী ও  হীরা জুয়েলারীতে পর্যন্ত ক্রেতা সেজে যান। তার মধ্যে তরুণ জুয়েলারীর ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সেই দোকানের সিন্দুকে দোকানীকে ফাঁকি দিয়ে হাত দিয়ে চুরির চেষ্টা করে। বরিশালে ওই চোর চক্র গ্রেফতার হওয়ার পর ভোলার চুরির ঘটনায় বুধবার থানায় মামলা হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধন জুয়েলার্সের মালিক মাসুম বিল্লাহ জানান, ‘সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বোরকা পরা তিনজন মহিলা স্বর্ণের চেইন কেনার কথা বলে দোকানে আসেন। তাদের কথামতো চেইনের একটি বক্স বের করে দেখানোর জন্য তাদের সামনে দেওয়া হয়। এসময় দূরে দাড়িয়ে থাকা বোরকা পরা অপর এক নারী এসে রূপার নূপুর দেখাতে বলেন।


তিনি বলেন, ‘পেছনে ফিরে ওই নারীর জন্য রূপার নূপুর আনতে গেলে তাদের মধ্যে তিনজন বক্সে থাকা ৩০ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে সটকে পড়েন। এর পর পরই অপর নারীও কৌশলে জুয়েলারি দোকান থেকে কেটে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুধাবন করতে না পারলেও পরে বক্স কাউন্টারে রাখতে গিয়ে দেখতে পান চেইন নেই।

মাসুম বিল্লাহ বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ওই চার নারীর খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন। এসময় জানতে পারেন ওই চারজন মেহেন্দিগঞ্জ থেকে স্পিডবোট রিজার্ভ করে বরিশালের তালতলী এলাকায় নেমেছেন। পরে স্পিডবোট চালকের কাছ থেকে জানতে পারে ওই চার চোর নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের দিকে গেছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে দোকান মালিকের সাথে একটি ভাড়ার মোটরসাইকেল নিয়ে চোরদের পিছু ছোটেন স্পিডবোট চালক। এক পর্যায় দুপুর ২টার দিকে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় গিয়ে চারজনকে খুঁজে পেলে একজন কৌশলে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ ওই তিনজনকে আটক করে।

মেহেন্দিগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. আবিদুর রহমান জানান, ‘সোমবার রাতে আটককৃত আন্তঃজেলা স্বর্ণ চোর চক্রের তিন নারী সদস্যকে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের কাছ থেকে তাদের জিম্মায় নেন। এমনকি মঙ্গলবার দুপুরে এই ঘটনায় জুয়েলার্স মালিক বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ওই তিন চোরকে।

তিনি আরও বলেন, ‘আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। কদিন আগে ভোলায় একটি জুলেয়ার্সে স্বর্ণ চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সাথেও তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। এছাড়া আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকলেও তদন্তের স্বার্থে তা বলা সম্ভব নয় জানিয়ে ওসি বলেন, ‘চুরির ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া চক্রের অপর সদস্য এবং তাদের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।