অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ২৮শে জানুয়ারী ২০২১ | ১৪ই মাঘ ১৪২৭


তজুমদ্দিনে লঞ্চে যৌন হয়রানির ঘটনায় ৩ জন আটক


তজুমদ্দিন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ই জুলাই ২০২০ রাত ১০:৫৬

remove_red_eye

২১১






তজুমদ্দিন প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাসনের বেতুয়া থেকে ঢাকা  নৌরুটে চলাচলকারী এমভি কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে এক কিশোরী যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে নদী লাফিফে পড়ার ঘটনায়  সোমবার সকালে পুলিশ লঞ্চের ৩ ষ্টাফকে আটক করেছে। রাতে এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত যৌন হয়রানির ঘটনায় তজুমদ্দিন থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছিলো।

উদ্ধার হওয়া তজুমদ্দিনের তেলিয়ার চরের  কিশোরী কন্যা (১৬) স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন,শনিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তজুমদ্দিন ¯øুইজঘাট থেকে কর্ণফুলি-১৩ লঞ্চে উঠেন। লঞ্চে উঠার পর লঞ্চের ষ্টাফরা ওই কিশোরীকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাবের মাধ্যমে যৌন হয়রানি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে কিশোরীকে তাদের সাথে কেবিনে রাত্রি যাপন করতে টানাটানি করলে ইজ্জত রক্ষার্থে সে নদীতে ঝাপ দেন। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করতে একটি বয়া ফেললেও পানির ¯্রােতে বয়া ধরতে পরেনি কিশোরী। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধারে অন্যকোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করেই ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যান লঞ্চটি। নদীতে ঝাপ দেয়ার প্রায় ৩ ঘন্টা পর জেলেরা তাকে উদ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করেন। কর্ণফুলি-১৩ লঞ্চের সুপারভাইজার মোঃ রুবেল সাংবাদিকদের বলেন, আমি লঞ্চের উপরে ছিলাম পরে শুনছি লঞ্চ থেকে একজন মহিলা পানিতে লাফ দিয়েছে। তাকে উদ্ধারের জন্য আমরা একটি বয়া ফেলছি সে বয়া ধরতে পারেনি। আমরা ঢাকায় চলে যাই পরে কি হয়েছে জানি না।
এদিকে যৌন হয়রানির শিকার কিশোরীও রবিবার দিবাগত রাতে তজুমদ্দিন থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নিয়ে আসেন। এদিকে এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। তজুমদ্দিন থানার ওসি এস এম জিয়াউল হক জানান, সোমবার সকালে তজুমদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কর্ণফুলী লঞ্চের স্টাফ শাকিল (১৮), বাবুর্চি গিয়াস উদ্দিন (২৯ ) ও শাকিল (১৯) নামে ৩ জনকে পুলিশ আটক করেছে। এ ব্যাপারে যৌন হয়রানির অভিযোগে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে আটককৃত লঞ্চের বাবুর্চি গিয়াস উদ্দিনের ভাষ্য অনুয়ায়ী ওসি জানান, কয়েকদিন আগে মেয়েটিকে লঞ্চের ষ্টাফ গিয়াস উদ্দিন ঢাকায় একটি বাসায় কাজ করতে দিলে মেয়েটি সেখান থেকে মোবাইলসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে পালিয়ে যায়। এরপর গত শনিবার ওই কিশোরী ঢাকায় যাওয়ার জন্য লঞ্চে উঠলে গিয়াস তাকে দেখতে পেয়ে হাত ধরে লঞ্চের পিছনে নিয়ে যায় এবং চুরির অপরাধে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখায়। কিন্তু এক পর্যায়ে মেয়েটি লঞ্চের পিছন থেকে সামনে গিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেয়। অপর দিকে পুলিশের কাছে ওই কিশোরী অভিযোগ করে বলেন, লঞ্চে উঠার পর লঞ্চের ষ্টার্ফরা ওই কিশোরীকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাবের মাধ্যমে যৌন হয়রানি করতে থাকেন। এক পর্যায়ে কিশোরীকে তাদের সাথে কেবিনে রাত্রি যাপন করলে সকালে ২শত টাকা দেয়ার প্রস্তাব করেন। পরে ইজ্জত রক্ষার্থে কিশোরী নদীতে ঝাপ দেন।