অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ১লা অক্টোবর ২০২০ | ১৫ই আশ্বিন ১৪২৭


ভোলায় পিসিআর ল্যাবে নতুন ৬ চিকিৎসক পদায়ন, দুই জনের যোগদান


অচিন্ত্য মজুমদার

প্রকাশিত: ১লা জুলাই ২০২০ সকাল ০৯:১৫

remove_red_eye

৪৩৯

অচিন্ত্য মজুমদার: ভোলায় পিসিআর ল্যাবের জন্য নতুন করে আরো ৬ জন চিকিৎসকে পদায়ন করে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এদের মধ্যে দুই জন ২৫০ শয্যা ভোলা জেনারেল হাসপাতালে যোগদান করেছে। গতকাল বুধবার যোগদানের পর করোনা পরীক্ষা ল্যাবে কাজ করার জন্য তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বাকি ৪ জনের একজন যোগদান করার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিলেও ৩ জনই যোগদানে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তবে যোগ দেয়া ওই দুই চিকিৎসকের প্রশিক্ষণ শেষে স্থানীয় টেকনোলজিস্টদের নিয়ে খুব শিগ্রই পিসিআর ল্যাবে করোনা পরীক্ষার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। অপর দিকে দুই জন টেকনোলজিস্টকে ভোলা পোস্টিং দেয়া হলেও প্রেশনে তাদের কর্মস্থল কুরমীটোলা ও কুষ্টিয়া নির্ধারন করা হয়েছে।

 

২৫০ শয্যা ভোলা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ সিরাজ উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করে আরো জানান, পিসিআর ল্যাবের জন্য আসা দুই চিকিৎসকের মধ্যে একজন ডাঃ আতাউলগনী মুগদা মেডিকেল থেকে ও অপরজন ডাঃ মহশিন কবির বরিশাল মেডিকেল থেকে যোগদান করেছেন। এছাড়া ফেনী মেডিকেল থেকে পদায়ন দেয়া এক নারী চিকিৎসক যোগ দানের কথা রয়েছে। তবে সলিমুল্লা মেডিকেল থেকে পদায়ন দেয়া চিকিৎসকের করোনা পজেটিভ থাকায় তিনি কর্মস্থলে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া টাঙ্গাইল ও ঢাকা মেডিকেল থেকে পদায়ন দেয়া বাকি দুই চিকিৎসক নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়ার ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে এখনও কোন যোগাযোগ করেনি বলে তিনি জানিয়েছেন।

 

এর আগে দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশর মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা ভোলার চিকিৎসা সহায়তায় গত ১০ জুন ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় প্রায় ৯০০ বর্গ ফুট যায়গায় ৩২ লক্ষ টাকা ব্যায়ে একটি অত্যাধুনিক পিসিআর ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ হয়। এরপর ল্যাবটিতে করোনা পরীক্ষার জন্য আরটি-পিসিআর (পলিমার চেইন রি-এ্যাকশন) মেশিন স্থাপন করা হয় ১৬ জুন। পাশাপাশি পিসিআর মেশিন পরিচালনার জন্য ১৮ জনের একটি চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট দলকে দেয়া হয় প্রশিক্ষণ। দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকা বিবেচনা করে এখানকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দু'দুবার মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও ভাইরোলজিস্ট পদায়ন করা হলেও কাজের দক্ষতা না থাকাসহ নানা তালবাহানায় ল্যাবটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্তে নমুনা পরীক্ষার কাজ শুরু হয় নি। ফলে এখানকার করোনা উপসর্গ নিয়ে নমুনা দেয়া মানুষদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নমুনার রিপোর্ট ঢাকা বরিশাল থেকে আসতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ দিন। তাই করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের দেয়া নমুনা পরীক্ষায় জট দিন দিন বেড়েই চলেছে। রিপোর্ট না আসায় নমুনা দেয়া এসব ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন যত্রতত্র। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির সংর্স্পশে আসা ব্যাক্তি নিজে যেমন সংক্রমিত হচ্ছে তেমনি অন্যদেরও সংক্রমিত করছেন। এতে একদিকে যেমন মানুষ ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে পাশাপাশি করোনা সংক্রমন ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, ভোলায় করোনা আক্রান্ত ২৮৭ জনের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০৯ জন। এর মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত ১৩৩ জনের মধ্যে সুস্থ ৪২ জন। দৌলতখানে আক্রান্ত ২৩ জনের মধ্যে সুস্থ ২১ জন। বোরহানউদ্দিনে আক্রান্ত ৩৪ জনের মধ্যে সুস্থ ৪ জন। লালমোহনে আক্রান্ত ৩১ জনের মধ্যে সুস্থ ১১ জন। চরফ্যাশনে আক্রান্ত ৩৯ জনের মধ্যে সুস্থ ২১, মনপুরা উপজেলায় আক্রান্ত ১৩ জনের মধ্যে সুস্থ ৯ এবং তজুমদ্দিন উপজেলায় আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে সুস্থ ২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন ভোলা জেনারেল হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আছে। বাকিরা নিজ নিজ উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত¡াবধানে হোম আইসোলেশনে আছেন। এছাড়াও করোনা আক্রান্ত হয়ে ভোলা সদর, লালমোহন ও চরফ্যাশনে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে উপসর্গ নিয়ে আরো অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সিভির সার্জন কার্যালয় সূত্র আরো জানায়, এ পর্যন্ত ভোলা জেলায় ৩৬৪৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকা ও বরিশাল ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রির্পোট এসেছে ৩২৩৮ জনের। তার মধ্যে ২৯৫২ জনের রির্পোট নেগেটিভ এবং ২৮৭ জনের পজেটিভ। এছাড়া ৪০৪ জনের রির্পোট এখনো আসেনি।