অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩


লামায় অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের কোনো ছাড় নেই: পার্বত্য উপদেষ্টা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭শে ডিসেম্বর ২০২৪ বিকাল ০৫:৩১

remove_red_eye

১৬৬

বান্দরবানের লামায় আগুন নিয়ে ১৭ ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা।  

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে পার্বত্য পরিদর্শন শেষে এ কথা বলেন তিনি।

সড়কপথে বান্দরবান সদর থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের পূর্ব বেতছড়া পাড়ায় যান। পরে তিনি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি এবং এলাকা পরিদর্শন করেন।  

এসময় এলাকার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন পার্বত্য উপদেষ্টা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পার্বত্য উপদেষ্টা বলেন, এ ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে এবং আইনের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।  

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। ঘর পুড়ে যাওয়ায় যারা কষ্ট পাচ্ছেন, তাদের আমরা সহযোগিতা করব। প্রধান উপদেষ্টাও এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন এবং আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের যা প্রয়োজন সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিতে। আমরা যতটুকু পারি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে আছি, আগামীতেও থাকব।  

এসময় পার্বত্য উপদেষ্টা আরও বলেন, জমি নিয়ে যে বিরোধ রয়েছে, তা আইনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। এসময় পার্বত্য উপদেষ্টা দুর্গম এ এলাকাটিতে স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নিদের্শনা দেন।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই, জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কাওছারসহ সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে মঙ্গলবার(২৪ ডিসেম্বর) রাতে পাড়াবাসী পাশের টংগঝিরি পাড়ায় বড়দিন উপলক্ষে গির্জায় প্রার্থনা করতে গেলে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি পূর্ব বেতছড়া পাড়ার ১৭টি কাঁচা বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।  

এ ঘটনায় বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে গঙ্গাং মনি ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তি লামা থানায় সাতজনের নামে ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন।  
এ ঘটনায় বুধবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হবে।  গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন বাঙালি ও তিনজন ত্রিপুরা গোষ্ঠীর।  
তারা হলেন পূর্ব বেতছড়া পাড়ার বাসিন্দা স্টিফেন ত্রিপুরা (৫০), মইশৈ ম্যা ত্রিপুরা (৪৮), টংগঝিরি পাড়ার বাসিন্দা জোয়াতিং ত্রিপুরা (৫২) এবং টংগঝিরি পাড়ার মো. ইব্রাহিম (৬৫)।

গত তিন মাস আগে লামা উপজেলা ও পাশের আলীকদম উপজেলা থেকে ১৯টি ত্রিপুরা পরিবার উপজেলার সরই ইউনিয়নের পূর্ব বেতছড়া পাড়ায় বসতি শুরু করেন।