অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩


সাংবাদিকতা ও বাংলারকণ্ঠ


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১শে ডিসেম্বর ২০২৪ সন্ধ্যা ০৬:১৮

remove_red_eye

৪০৯

৩০ বছরে রইল অনেক শুভ কামনা

 

জুন্নু রায়হান : সংবাদ, সংবাদপত্র এবং সাংবাদিক আজকের দিনে বহুল আলোচিত তিনটি শব্দ। আমার শৈশবে অর্থাৎ আশির দশকেও দেখেছি শব্দগুলো থেকে একধরনের অভিজাত সৌরভ ছড়াতো। শব্দগুলোর সাথে একটা পরিচ্ছন্ন-সত্য-পবিত্র ভাব জড়িয়ে থাকতো। কোন একটা ঘটনার সত্যাসত্য নিরুপণ হত পত্রিকার পাতায়। এমনকি একটি শব্দের বানান ভুল না কি শুদ্ধ তা আমরা নিশ্চিত হতাম পত্রিকার বানান দেখে। অর্থাৎ দৈনিক পত্রিকা ডিকশনারির কাজ করতো।  অথচ আজ শব্দ তিনটি ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। তারপরও কোন কোন সংবাদ, সংবাদপত্র এবং সাংবাদিক সগৌরবে সমহিমায় মাথা উঁচু করে সত্যের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। পবিত্র মহিমায় টিকে আছে; টিকে থাকার সংগ্রাম করে যাচ্ছে। তাদেরকে ব্যক্তিগত কোন লোভ, কোন ক্ষোভ সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারছে না। এমনই এক সংবাদপত্র দ্বীপজেলা ভোলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলারকণ্ঠ। এর প্রকাশক, সম্পাদক, সম্পদনা পরিষদ, সাংবাদিক সকলে গত তিন দশক ধরে নীতি আদর্শ আঁকড়ে থাকার নিরন্তর সংগ্রাম করে যাচ্ছে। এখানে অন্যায় অনিয়মের সাথে কোন আপোষ নেই। 

 

এক সময় সাংবাদিক দেখলে লোকে ভরসা পেত। আশ্বস্ত হত। এগিয়ে আসত। মনে করত আর কেউ অনিয়ম করতে পারবে না। অপরাধী ধরা পড়বে। দুর্নীতিবাজের মুখোশ খুলে যাবে। কিন্তু এখন মানুষ সাংবাদিক দেখলে ভরসা পায় না। উল্টো ভয় পায়। এড়িয়ে চলতে চায়। কারন সংবাদ, সংবাদপত্র আর সাংবাদিক এই শব্দ তিনটির উপর কালিমা পড়েছে। বিশেষ করে মফস্বলে এর অবস্থা না কি ভয়াবহ মাত্রা ছাড়িয়েছে। পাঠক হয়তো ভাবেন 'না কি' বলার কারন কী? কারন হচ্ছে নিজের চেহারা দেখতে হয় অন্যের চোখে। বিভিন্ন সময় নানান কথা কানে আসে। অনেক সময় বিব্রত হতে হয়। তবে কখনো কখনো উল্টো কথাও কানে আসে। তখন গর্ব হয়। দু'চার জন মোনাজাত উদ্দিন এখনো আছেন বলেই আমরা স্বপ্ন দেখি। শত শত মেঘখণ্ডের মাঝে দু'চারটা নক্ষত্র আকাশ আলোকিত করে রাখবে। 

জগতের একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হচ্ছে সব শিয়ালের এক রা। সকল অপশক্তি একতাবদ্ধ থাকে। সকল খারাপরা জোটবদ্ধ থাকে। আর ভালরা সব আলাদা আলাদা। একাকী থাকাটাই ভালদের বৈশিষ্ট্য। তাই এরা বারবার খায় মার। ঠিক সংবাদ, সংবাদপত্র আর সাংবাদিক এই ক্ষেত্রেও একই রকম দেখা যায়। এখানেই আমাদের দৈনিক বাংলারকণ্ঠ পত্রিকার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। প্রকাশের পর থেকে অদ্যবধি সত্য সংবাদটাই  পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে। পাশাপাশি এটি সত্যনিষ্ঠ সৎ সুন্দর চিন্তার সংবাদকর্মীদের মিলনক্ষেত্র। ব্যতিক্রমী এখানে বেশিদিন টিকতে পারে না। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল শ্রেয়- এই প্রত্যয় নিয়ে সাংবাদিকতায় নমস্য ব্যক্তিত্ব এম. হাবিবুর রহমান দীর্ঘ ত্রিশ বছর নিরবিচ্ছিন্নভাবে দৈনিক বাংলার কণ্ঠ প্রকাশ করে যাচ্ছেন। আরও সৎ সুন্দর সাবলীল হোক তার এবং তার পত্রিকার পথ চলা। সমৃদ্ধ হোক  দ্বীপজেলা ভোলার সাংবাদিকতা। দৈনিক বাংলার কন্ঠের ঐতিহ্যের ৩০ বছরে রইল অনেক শুভ কামনা।