অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল ২০২৬ | ১৭ই বৈশাখ ১৪৩৩


চরফ্যাশনে ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার বেতন না দিয়ে আয়াকে মারধর


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬ই ডিসেম্বর ২০২৪ বিকাল ০৫:৫০

remove_red_eye

৪২১

চরফ্যাশন প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশনে এক প্রাইভেট হাসপাতালের আয়াকে বেতন পরিশোধ করার কথা বলে মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে বেতন না দিয়ে চুরির অপবাদে মারধর করে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক কুলছুম আক্তার পলির বিরুদ্ধে। বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ওই হাসপাতালে এঘটনা ঘটে। মারধরের ঘটনায় আয়া জোসনা বাদী হয়ে ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক কুলছুম আক্তার পলিকে আসামী করে চরফ্যাশন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসময় আহত জোসনা হাসপাতালের মালিকের বিচারের দাবী জানান।
ভুক্তভোগী জোসনা বেগম জানান, তার স্বামী মৃত্যু বরন করার পর সংসারে আয়-রোজগার করার মতো কেউ না থাকায় সংসারের হাল ধরেন। চলতি বছরের নভেম্বর মাসের শুরুতে ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ৬ হাজার টাকা বেতনে আয়া পদে কাজ শুরু করেন। হাসপাতালের মালিক কুলছুম আক্তার পলি হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মচারীকে মারধর ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করার কারনে জোসনা হাসপতালের মালিকের এসব কান্ড দেখে চাকরী না করার সিন্ধান্ত নেন। ২৯ নভেম্বর চাকরী ছেড়ে সেন্ট্রাল ইউনাইটেড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নতুন করে আয়া পদে চাকরি নেন। এর মধ্যে ইকরা হাসপাতালের মালিক তাকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে দুই হাজার টাকা বেতন পরিশোধ করেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে বাকি চার হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে ম্যানেজারকে দিয়ে মুঠোফোনে ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ডেকে নিয়ে জোসনাকে বেতন না দিয়ে চোর অপবাদে ব্যাপক মারধর করেন হাসপাতালের মালিক কুলছুম আক্তার পলি। মারধর করেই ক্ষ্যন্ত হননি পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেন। এসময় জোসনা পুলিশের সামনে কুলছুম আক্তার পলির পা ধরে মাপ চেয়ে রক্ষা পায়। রাতে আয়া জোসনা বাদী হয়ে হাসপাতালের মালিক কুলছুম আক্তার পলিকে আসামী করে চরফ্যাশন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক কুলছুম আক্তার পলি চোর অপবাদ দিয়ে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আয়া জোসনা তার হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে আর কাজে যোগদান করে নাই। তাই তাকে বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে হাসপাতালে মুঠোফোনে ডেকে আনা হয়েছে এবং পুলিশ এসে হাসপাতালেই বসে বিষয়টি মিমাংসা করে দেয়।
চরফ্যাশন থানার উপ-পরিদর্শক ইয়াসিন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে গিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। তখন আয়া জোসনা মারধরের বিষয়টি আমাদেরকে জানায়নি। তবে রাতে ওই ভুক্তভোগী নারী হাসপাতালের মালিক কুলছুম আক্তার পলিকে আসামি করে চরফ্যাশন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, জোসনা বেগম নামের এক নারী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।