অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ২রা মে ২০২৬ | ১৯শে বৈশাখ ১৪৩৩


চরফ্যাশনের লণ্ডভণ্ড উপকূল বিধ্বস্ত হাজারো ঘরবাড়ি,ডুবেছে ফসল ও মাছের ঘের


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮শে মে ২০২৪ দুপুর ০২:২৭

remove_red_eye

২৯৪

 
এআর সোহেব চৌধুরী, চরফ্যাশন থেকে: ঘূর্ণিঝড় রেমালের তান্ডবে রীতিমতো তছনছ হয়ে গেছে চরফ্যাশন উপজেলার উপকূল। তীব্র বাতাসের তোরে বিধ্বস্ত বাড়িঘর ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে থাকারো উপায় নেই ক্ষতিগ্রস্তদের। এছাড়াও নিম্নাঞ্চলে পানি উঠেছে প্রায় ৫থেকে ৬ফিটের উপরে। তাতে ভেসে গেছে মানুষের বাড়িঘর । পানিতে ভাসছে টিনের আস্তো চাল, ভাসছে মানুষ ও গবাদিপশু। গাছ উপড়ে গেছে আবার কোথাও কোথাও গাছের বড় ডাল ভেঙে গিয়ে পড়েছে বাড়িঘরের চালে। পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার আগেই বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা পরিবার নিয়ে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুরে সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নেয়া অনেক বাসিন্দাই বাড়ি ফিরে গিয়ে দেখেন তাদের সাজানো ঘরটি আর নেই। পানিবন্দি হয়ে মারা যাওয়ার পর ভেসে গেছে তাদের শখের গবাদিপশুগুলো। এমন চিত্র দেখে সহায় সম্বল হাড়ানো মানুষগুলো কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন।
প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল এর শক্তিশালী প্রভাবে উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢাল চর,চর কুকরি-মুকরি,চর পাতিলাসহ মুজিবনগর এবং উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর,রসুলপুর, চর মানিকা, নজরুল নগর,নুরাবাদ, আহাম্মদপুর,নীলকমল, চর কলমী এলাকার হাজারো বাসিন্দা পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা বেঁচে আছেন এক দুর্বিসহ পরিস্থিতিতে।
 
চরপাতিলার সিকান্দার আলি ও বিবি হাজেরা বেগম বলেন, আমাদের ঘর ভেঙে গেছে, থাকার জায়গাটুকু পানিতে ডুবে গেছে, একই সাথে পুকুর, মাছেরসহ এলাকার শতশত হ্যাক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
 
ঢাল চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালাম হাওলাদার জানান, প্রায় ৬ফিট পানি উঠে ঢালচরের অনেক ঘরবাড়ি ডুবে গিয়েছে, গাছ পড়ে ঘর ভেঙ্গে গেছে এবং অনেক গবাদিপশু মারা গেছে। পাশাপাশি পানিতে আটকে আছে প্রায় ১২হাজার বাসিন্দা।
 
ঝড় শুরু আগ থেকেই চরফ্যাসন উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নেটওয়ার্কের পাশাপাশি মোবাইল টাওয়ারগুলোতে সমস্যা হওয়ায় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
 
চরফ্যাসন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নওরীন হক জানান, উপজেলার ২১ টি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তবে সেটার পরিমান এখনো নির্ধারন করা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে প্রশাসন কাজ করছে।