অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ৪ঠা মে ২০২৬ | ২১শে বৈশাখ ১৪৩৩


ভোলায় উদ্ধারের পর বিপন্ন প্রজাতির দু'টি ভোঁদড় প্রকৃতিতে অবমুক্ত


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১লা ডিসেম্বর ২০২৩ রাত ০৯:২৯

remove_red_eye

২৯৭

ভোলার চরফ্যাসনের এওয়াজপুর ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে বিপন্ন প্রজাতির দু'টি বন ভোঁদড় উদ্ধারের পর অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। শুক্রবার দুপুরে জেলার সর্বদক্ষিণের সাগর মোহনার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কুকরি-মুকরির বনে ভোঁদড় দুটি অবমুক্ত করা হয়। 
 
ভোলার বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, চরফ্যাশন উপজেলার এওয়াজপুর ইউনিয়নের চর ফকিরা গ্ৰামের মহাজন বাড়ির পুকুরে মাছ শিকার করতে এসে জালে জড়িয়ে বিপন্ন প্রজাতির ভোঁদড় দুটি আটকা পড়ে। এসময় পুকুর মালিক জাকির হোসেন ও আব্দুল কাদের ভোঁদড় দুটিকে খাঁচায় বন্দি করে রাখে।
 
স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে বনবিভাগের সদস্যরা ভোঁদড় দুটি উদ্ধার করে। পরে শুক্রবার দুপুরে ভোঁদড় দুটি বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর কুকরি-মুকরির গহীন অরণ্যের জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়েছে। 
 
তিনি আরো জানান, উদ্ধার হওয়া ভোঁদড় দুটির গায়ের রং ছিলো বাদামী কালো বর্ণের এবং ওজন ছিলো প্রায় ৩ কেজি। এসব ভোঁদড় বা উদ বিড়াল এখন আর সচরাচর দেখা না গেলেও এরা সাধারণত নদী ও পুকুরের জলাশয়ে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। নদীতে জেলে‌ ট্রলার ও মানুষের গতাকম্য বেড়ে যাওয়ায় এসব বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী লোকালয়ে চলে আসে বলেও তিনি জানান।
 
ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির কো-অর্ডিনেটর ও বন্যপ্রাণী গবেষক সামিউল মেহেসানিন ইমেইলের মাধ্যমে প্রাণী দুটির ছবি দেখে এগুলো বিপন্ন প্রজাতির মসৃন ভোঁদড় (Smooth Coated Otter) বলে নিশ্চিত করেছেন। বিশ্বব্যাপী ঝুঁকিতে থাকায় মসৃন ভোদড় দুর্লভ ও বিপন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী। বাংলাদেশে অঞ্চলভেদে এসব প্রাণী উদবিড়াল, ভোঁদড়, মাছ নেউল বা ধেড়ে নামেও পরিচিত। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে এধরনের বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর প্রকৃতিতে টিকে থাকা কঠিন হবে বলেও জানান এই বন্যপ্রাণী গবেষক।