ভোলা, বুধবার, ১লা এপ্রিল ২০২০ | ১৭ই চৈত্র ১৪২৬

অচিন্ত্য মজুমদার


২৩শে মার্চ ২০২০ রাত ১১:২৯




ভোলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে করোনা মোকাবেলায় নেই সুরক্ষার উপকরণ

ভোলা জেলা

অচিন্ত মজুমদার :: ভোলা সদর হাসপাতালে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় নার্স ও চিকিৎসকদের জন্য ৩ শত পিস পিপিই আসলেও জেলার অন্যান্য হাসপাতাল গুলোতে এখনো তা পৌছায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতে কর্মরত চিকিৎস-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য মাস্ক, গাউন ও হ্যান্ড গ্লাবস (পিপিই) না থাকায় ভয়ে ভয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সরা । এদিকে হাসপাতালে আসা রোগীদের সুরক্ষার জন্য পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি রোগিদের হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করার ব্যবস্থা নেই। এতে যে কোন সময় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংর্স্পশে ডাক্তার-নার্স ও সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্থানীয়রা।

এদিকে ভোলায় গত ২৪ ঘন্টায় বিদেশ ফেরত  আরো ৭ জনকে করোনা ভাইরাস ঝুঁকিতে থাকায় হোম  কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে ভোলায় এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে  হোম  কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা: রতন কুমার ঢালী । তবে গত ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ভোলার ১৪৫৮ জন ব্যাক্তি আসেন।  এর মধ্যে ২৭৯ জনকে  হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও বাকি ১১৭৯ জনের কোন হদিস নেই। তবে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সাধারণ শাখার দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকিব ওসমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের থেকে পাওয়া তথ্য অনুয়ায়ী ভোলায় আসা বিদেশ ফেরতদের মধ্যে বর্তমানে ৪৭৬ জনের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার মেয়াদ রয়েছে। তবে এর মধ্যে অনেকেই ভোলা জেলায় অবস্থান না করায় তাদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আনা যায়নি।
 
ভোলা সদর হাসপাতালে তত্ববধায়ক ডা: সিরাজুল ইসলাম জানান, সদর হাসপাতালে করোনা প্রতিরোধে পিপিই পৌছেছে। যা বিগত দিনের গুলোসহ চাহিদার চেয়ে বেশী প্রায় ৩ শত পিপিইসহ অন্যান্য সরঞ্জাম রয়েছে। তার মধ্যে হাসপাতালের ৩০ জন ডাক্তারদেরকে ২টি করে পিপিই দেয়ার পাশাপাশি নার্স, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্ন কর্মীসহ সকলকে ১টি করে দেয়া হয়েছে। এর পরও যে কয়টি পোষাক রয়েছে তা অন্যান্য উপজেলায় দেয়ার ব্যাপারে মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত হবে।

অপরদিকে মনপুরার দেড় লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলার কোন উপকরণ নেই। পানি সংকটের কারনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা হয়নি ও জীবানুনাশক স্প্রে নেই বলে স্বীকার করেছেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুর রশীদ।


জানা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইসিও বেড, ভেন্টিলেটর ও পরীক্ষারগার নেই। নামমাত্র ৩ বেডের একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছে। ওই আইসোলেশন কক্ষে তিনটি বেড ছাড়া কিছুই নেই। কর্তব্যরত চিকিৎসক-নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের পিপিই নেই। এছাড়াও করোনা মোকাবেলার উপকরণ নেই। এখন পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করার কোন কীট হাসপাতালে আসেনি। এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদুর রশীদ জানান, করোনা মোকাবেলার উপকরণ দ্রুত আমাদের হাতে এসে পৌছবে। চাহিদা পাঠানো হয়েছে। করোনা রোগিদের জন্য একটি আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন বাজারে বাজারে জনসাধারনের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিং করা হচ্ছে।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: মহসিন জানান, তার হাসপাতালে করোনা মোকাবেলায় ডাক্তার ও চিকিৎসকদের নেই কোন সরঞ্জাম। একই অবস্থা জানান, চরফ্যাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শোভন বশাক। অন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোতেও একই অবস্থা বলে সূত্র জানিয়েছে।


তবে ভোলা সিভিল সার্জন ডা: রতন কুমার ঢালী জানান, ভোলায় এখনো করোনা প্রতিরোধে চিকিৎসক ও নার্সদের সরঞ্জামসহ পিপি ভোলায় আসেনি। তবে কাল পরশু সরঞ্জাম আসতে পারে বলে তিনি জানান। গত ২৪ ঘন্টায় বিদেশ ফেরত  আরো ৭ জনকে করোনা ভাইরাস ঝুঁকিতে থাকায় হোম  কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।