অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ২২শে জুলাই ২০২৬ | ৬ই শ্রাবণ ১৪৩৩


কালার ব্রয়লার মুরগী পালনে ঝুঁকছে ভোলার খামারীরা


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই জুন ২০২৩ রাত ১০:৩৯

remove_red_eye

৭৬৮

মলয় দে: পোল্ট্রির একটি জাত কালার ব্রয়লার। দেখলে যে কারোই প্রথমে দেশী মুরগী অথবা সোনালী মুরগী মনে হবে। এমন এক নতুন জাতের ব্রয়লার মুরগীর দেখা মিললো ভোলার দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর ইউনয়িনের মিয়ারহাট বাজার সংলগ্ন কয়েকটি বাড়িতে। দেশী মুরগীর ন্যায় দেখতে হওয়ায় এর কদরও অনেক বেশী।
জানা যায়,পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউনন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহায়তায় গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থার একটি প্রকল্পের আওতায় কালার ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা বিনামূল্যে সংস্থাটির সদস্যদের দিয়ে থাকে। জেলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান এই দুটি উপজেলা এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থার তথ্য মতে, এই দুই উপজেলায় ৫০জন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে বিনামূল্যে ১৫০টি করে মুরগীর বাচ্চা নগদ অর্থ ও অন্যান্য উপকরন দিয়ে আসছে সংস্থাটি। জলবায়ু উপযোগী ও লালন পালনে কষ্ট কম হওয়ার কারনে সহজেই যে কেউ এই মুরগী পালন করতে পারে। অন্যান্য ব্রয়লার মুরগীর চেয়ে কালার ব্রয়লার মুরগীর মৃত্যুর হার কম হওয়ায় অধিক লাভের আশায় পারিবারিক ও বাণিজ্যিক ভাবে এই মুরগীর অনেক খামার গড়ে উঠেছে। এটি মাত্র ৪০ দিনে ১ কেজি বা ১কেজি ২০০গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয় এবং যা বিক্রি উপোযোগী। এদিকে সোনালী মুরগী বাজারজাত করতে ২মাস সময় লেগে যায়। এত অল্প সময়ে এই মুরগী বিক্রি উপযোগী হওয়ায় খামারগুলোতে এই মুরগীর চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।ওই এলাকার অনেক বাড়িতেই এখন কালার ব্রয়লার মুরগীর খামার গড়ে উঠেছে।বাজারে চাহিদা ভালো এবং খেতে সুস্বাদু হওয়ায় পাইকাররা বাড়ীতে এসে প্রতি কেজি ২৭০-২৮০ টাকা দরে এই মুরগী কিনে নিয়ে যায়।এবং খুচরা বাজারে সেই মুরগী ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।পাইকারদের পাশাপাশি  এলাকার মানুষেরাও খামারে এসে এই মুরগী কিনে নিয়ে যায়। ঝামেলাহীন ও লাভজনক হওয়ায় ,এই মুরগীর পালন করে অসহায় অনেক পরিবার স¦াবলম্বী হয়েছে।তাদের জীবনযাত্রার মান বদলে দিয়েছে এই কালার ব্রয়লার বলা চলে।
উত্তর জয়নগর ইউনিয়নের এমনি একজন আছমা বেগম। এক মেয়ে ও স্বামী মিলে তার সংসার। গত এক বছর আগেও যিনি সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাই করে কোন রকম তার সংসার চালাতো। কালার ব্রয়লার মুরগী পালন করে এখন তিনি স্বাবলম্বী।মুখে ফুটেছে সন্তুষ্টির হাসি। আছমা বেগম জানায়,১ বছর আগে গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থা থেকে আমাকে বিনামূল্যে ১৫০টি কালার ব্রয়লার মুরগীর বাচ্চা দেয়। বাচ্চাগুলো লালন পালন করার জন্য প্রশিক্ষণ ও দিয়েছিল। তাদের সে প্রশিক্ষণকে কাজে লাগিয়ে আমি বাচ্চাগুলো লালন পালন শুরু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমি এখন সব মিলিয়ে অনেক ভালো আছি।
কালার ব্রয়লার পালন করে একই এলাকার এমন আর একজন খামারী বিবি হালিমা।স্বামী ও স্ত্রী দুজনে মিলে গড়ে তুলেছে একটি খামার। দেখাশোনা করে দুজনে মিলেই।তার স্বামী মোঃ ইব্রাহিম জানান, আমাদের এলাকায় এখন অনেকেই এই কালার ব্রয়লার মুরগী পালন করে।তাদের সাথে কথা বলে দেখলাম এই মুরগী পালন অনেক লাভজনক।তার পাশাপাশি এই মুরগী পালনে কষ্ট ও ঝামেলা দুটোই অনেক কম।বাজারে এই মুরগীর চাহিদাও খুব ভালো।পাইকাররা এসে ভালো দামে খামার থেকে মুরগী কিনে নিয়ে যায়।বিক্রি করতেও কারো কাছে যেতে হয় না।
আঃ রহমান,পেশায় একজন পাইকারী মুরগী ব্যবসায়ী। তিনি জানান,নতুন এই মুরগীটি দেখতে দেশী মুরগীর মতো হওয়ায় এর চাহিদা অনেক ভালো। ব্রয়লারের একটি জাত হলেও খেতে অনেক সুস্বাদু। আমরা প্রতি কেজি মুরগী খামার থেকে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় ক্রয় করি এবং সামান্য লাভে তা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করি।পরে তারা খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করে।
 জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল জানান,ভোলা জেলায় এখন নতুনভাবে পোল্ট্রির একটি জাত হলো কালার ব্রয়লার। এই মুরগী পালন লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এই মুরগী পালনে আগ্রহ প্রকাশ করছে। ২০০টি মুরগী ৪০দিন পালন করে কেউ কেউ ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকাও লাভ করছে।কালার ব্রয়লার জেনেটিক্যাললি বিভিন্ন জাতের সাথে সংমিশ্রণ করে তৈরি করা হয়েছে।এই মুরগী জলবায়ু সহিষ্ণু হওয়ায় অতি ঝড়,অতি বৃষ্টি বা যে কোনো পরিবেশেই এদের বৃদ্ধিতে আবহাওয়ার কোন প্রভাব পরবে না।এই মুরগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশী থাকায় এর মৃত্যুর হারও কম।
তিনি আরো বলেন,জেলাব্যাপী যদি এই মুরগী পালন করা যায়। তাহলে আমাদের ভোলায় মাংসের চাহিদা যেমন পূরন হবে তার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় এটি বিক্রির জন্য পাঠানো যাবে।ইতিমধ্যে অনেকেই এই মুরগী পালন করে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে বলেও তিনি জানান।





ভোলায় ক্যাশলেস বাংলাদেশে পূবালী ব্যাংকের ক্যাম্পেইন

ভোলায় ক্যাশলেস বাংলাদেশে পূবালী ব্যাংকের ক্যাম্পেইন

দৌলতখানে জোয়ারে ভেসে গেছে দুই শতাধিক গবাদিপশু

দৌলতখানে জোয়ারে ভেসে গেছে দুই শতাধিক গবাদিপশু

ভোলায় নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

ভোলায় নারী ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত

দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়: জুবাইদা রহমান

দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয়: জুবাইদা রহমান

মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী

মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী

সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন না, জানালো ইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবেন না, জানালো ইসি

শিক্ষকদের বদলির তদবিরে অতিষ্ঠ শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষকদের বদলির তদবিরে অতিষ্ঠ শিক্ষামন্ত্রী

৪৫ বছর মোজাফ্ফর কোথায় ছিলেন, জানতে চান রিজভী

৪৫ বছর মোজাফ্ফর কোথায় ছিলেন, জানতে চান রিজভী

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

আরও...