ভোলা, সোমবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ই ফাল্গুন ১৪২৬

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক


১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ১০:৪৯




এসে গেছে ঋতুরাজ বসন্ত ভোলায় ফুল বিক্রির ধুম

ভোলা সদর


এম শরীফ আহমেদ : আজ প্রহেলা ফালগুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন।তাইতো কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতার ভাষায় বলতে হয়-ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক, আজ বসন্ত। কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতাটি ঋতুরাজকে  আহŸান জানায়। ফুল ফোটার পুলকিত এই দিনে বন-বনান্তে নানা রঙের কোলাহলে ভরে ওঠে চারদিক। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লাগে দোলা। পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহু কুহু ডাক ব্যাকুল করে তোলে আমাদের  অন্তর। বসন্ত মানেই পূর্ণতা। বসন্ত মানেই নতুন প্রাণের কলরব। মিলনের এ ঋতু বাসন্তী রঙে সাজায় মনকে; মানুষকে করে আনমনা। নাগরিক জীবনে বসন্তের আগমন বার্তা নিয়ে আসে আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রæয়ারি ও একুশের বইমেলা। বসন্ত আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্ত রঙিন পু®িপত রক্তের স্মৃতির ওপর রঙ ছড়ায়। ৮ ফালগুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ¡াস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ার যেন মিলেমিশে একাকার।প্রকৃতি আজ দক্ষিণা দুয়ার খুলে দিয়েছে। ফাগুনের হাত ধরেই ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতেই প্রকৃতির আজ এত বর্ণিল সাজ। বসন্তের এই আগমনে প্রকৃতির সঙ্গে তরুণ হৃদয়েও লেগেছে দোলা।এ সময়েই শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন পাতা, ¯িœগ্ধ  সবুজ কচি পাতার ধীরগতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রঙের খেলা। মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য ঋতুর নাম ও উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম 'বসন্ত উৎসব' উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় ' বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ' বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। বসন্তের প্রথম দিনে অসংখ্য তরুণীরা গায়ে হলুদ আর বাসন্তী রঙের শাড়ি জড়িয়ে  আর ছেলেরা পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে  বাসন্তী রঙে নিজেকে রাঙিয়ে তোলে।
এদিকে বসন্তকে বরন করতে ভোলা সরকারি কলেজে আয়োজন করা হয়েছে বসন্ত বরন উৎসব। এছাড়াও একই দিন বিশ্ব ভালবাসা দিবস হওয়ায় ভোলা শহরে ফুল বিক্রির ধুম পড়েছে।