অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ২৭শে নভেম্বর ২০২০ | ১৩ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭


প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিলে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে কুকরি-মুকরি


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২০ রাত ০২:৪৮

remove_red_eye

২১৮



বিশেষ প্রতিবেদক :উপযুক্ত যানবাহন সংকটসহ নানান অব্যবস্থাপনার কারণে পর্যটক আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে ভোলার অপার সৌন্দর্যের দ্বীপ চর কুকরী-মুকরী। শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে অতি উৎসাহী যে সকল পর্যটক ওই দ্বীপে যাচ্ছেন তারাও অভ্যন্তরীণ যানবাহনের অভাবে ম্যানগ্রোভ বন অথবা সমুদ্র বীচের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন না। তা ছাড়া ওই দ্বীপে  প্রয়োজনীয় আবাসন ব্যবস্থা নেই। নেই যথাযথ থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা থেকে উদ্যোগ নেয়া হলে কুকরী-মকুরীকে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।

দেশের দ্বীপ জেলা ভোলার সর্ব দক্ষিণে বঙ্গপোসাগরের বুকে প্রায় ৮শত বছর আগে জেড়ে ওঠা এক নয়নাভিরাম দ্বীপের নাম চর কুকরী-মুকরী। দুর থেকে মনে হবে বিশাল সাগর ললাটে সবুজের টিপ। ঘন সবুজ বনের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য সরু খাল। দুই পাড়ে সারি সারি কেওড়া, গোলপাতাসহ নানা গাছ। সাগর তীরে রয়েছে ছোট ছোট বিচ। শীতের পাখি আর বন্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ যেকোন প্রকৃতিপ্রেমীর মন কেড়ে নেয়। এসব সৌন্দর্য দেখতে প্রতি বছর শীতের মৌসুমে ভীড় করছেন দেশ-বিদেশের পর্যটক। তবে দিন দিন পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা। তবে প্রায় দুই বছর আগে তৎকালীন পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের প্রচেষ্টায় বন বিভাগ থেকে অত্যাধুনিক একটি রেস্টহাউজ তৈরি করা হয়েছে। যা রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ উদ্বোদন করেন।

ছুটির দিনগুলোতে একমাত্র রেস্টহাউজে ঠাঁই হয় না অনেকের। তবে শিগগিরই সমস্যা সমাধান করে আকষর্ণীয় পর্যটন এলাকা গড়ে তোলার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ। তাছাড়া চর কুকরী-মুকরীর দ্বীপের অবকাঠামাগেত উন্নয়ন, বিনাদেনের পর্যাপ্ত সুযাগে সৃষ্টি, পর্যটন আকর্ষণের বহুমাত্রিকতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা বিধান, পর্যটন খাতে বিনিযাগে বান্ধব পরিবেশন সৃষ্টি, বাজার সংযোগ এবং সেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে পিকেএসএফ এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নযন তহবিল (ইফাদ) এর অর্থায়নে সহযোগী  সংস্থা, পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ), “চর কুকরি মুকরিতে কমিউনিটি ভিত্তিক ইকো ট্যুরিজম উন্নয়ন” শীর্ষক ভ্যালু চেইন উপ-প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে।

চর কুকরী দ্বীপের ঘন বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়ায় সরু খাল হয়ে যখন পর্যটকদের নৌকা, ট্রলার ছুটে চলে তখন সবুজের রাজ্যে মন হারিয়ে যায়। আর সবুজের বুক চিরে এগিয়ে গেলেই সাগর তীর ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে নারিকেল বাগান, তাড়–য়া বিচসহ অসংখ্য ডুবোচর। এসব চর থেকে পূর্ব-পশ্চিমে তাকালেই মনে হয় সাগর পাড়ের শুভ্র সাদা মেঘ আর দিগন্ত বিস্তৃত আকাশ আলিঙ্গন করছে। এর মাঝে অতিথি পাখির জলকেলি ভ্রমণ পিপাসুদের মন কেড়ে নেয়। তবে এখানে এসে ব্যস্ত জীবনে প্রশান্তির ছোঁয়া লাগলেও যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয় পর্যটকদের।
স¤প্রতি সাহিত্যিক আড্ডা আর চড়–ইভাতি করতে ঢাকা থেকে দেশি-বিদেশি আড়াইশ কবি, লেখক, শিল্পী সাহিত্যিক আসেন চর কুকরী-মুকরীতে। এখানকার প্রকৃতি আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যে তারা মুগ্ধ হলেও পর্যটকদের জন্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর দাবি তাদের। কোলকাতার কবি গৌতম চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের যা যা লাগে তার একটু ব্যবস্থা করলে ভালো হয়। সাপ্তাহিক পূর্বাপর স¤পাদক হাসান মাহমুদ বলেন, চর কুকরি-মুকরি ভোলার কন্যা স্বরূপ। এই কন্যাকে দেখার জন্যই তার ভাইয়েরা এখানে বার বার ফিরে আসেন। থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা অপ্রতুল উল্লেখ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হাসেম মহাজন যোগাযোগসহ পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। আর ইকোপার্ক নির্মাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করাসহ পর্যটনকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কাজ করার কথা জানালেন বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ শেষ হলেই একটা সমৃদ্ধ ইকোপার্ক আপনারা দেখতে পাবেন। জেলা সদর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরের কোল ঘেঁষে ৮শ বছরের পুরানো দ্বীপ কুকরী-মুকরীর সৌন্দর্য দেখতে এ মৌসুমে প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক এসেছেন।