ভোলা, সোমবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ই ফাল্গুন ১৪২৬

বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক


২৮শে জানুয়ারী ২০২০ রাত ১০:১৪




ভোলায় ক্যাপসিক্যাম চাষ বেড়েছে

কৃষি




হাসনাইন আহমেদ মুন্না : ভোলা জেলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যপসিক্যাম চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বল্প সময়ে কম খরচে অধিক লাভে কৃষকরা বিদেশী এই সবজি চাষে ঝুঁকছেন। চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিক্যাম আবাদ হয়েছে। আর গত মৌসুমে আবাদ হয়েছিলো ২৪ হেক্টর জমিতে। তার আগের বছর হয়েছিলো ১৫ হেক্টর জমিতে চাষ। প্রতিবছরই এখানে লাভজনক এই সবজি চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। মৌসুমে এসব চরে কোটি কোটি টাকার ক্যাপসিক্যাম বিক্রি হয়। যা চরাঞ্চলের অর্তনীতিকে সমৃদ্ধ করছে এবং পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নত করছে।
শুধু ক্যাপসিক্যাম চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন এখানকার অনেক কৃষক। মেঘনা নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরাঞ্চলগুলো ধান, সয়াবিনের পাশাপাশি লাউ, শসা, কড়লা চিচিংগাসহ বিভিন্ন সবজির সাথে এখন ক্যাপসিক্যাম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সিমীত পরিশ্রমে বেশি লাভ হওয়ায় বিদেশী এই সবজি চাষের কথা ভাবছেন এখন অনেকেই। এবছর সদর উপজেলার মাঝের চরে ১৫ হেক্টর, দৌলতখানের মদনপুর চরে ২০ হেক্টর ও লালমোহনের পশ্চিমের চর উমেদে ২ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিক্যাম আবাদ হয়েছে।
কৃষকরা জানায়, গত ৬/৭ বছর আগে এই চরে ক্যাপসিক্যাম চাষ শুরু হয়। প্রথম দিকে নতুন সবজি হওয়ায় অনেকের মনে কৌতহল ও সংকা থাকলেও এখন পূজিঁ থাকলে অনেকেই এটা চাষ করছেন। কারণ এই সবজি ক্ষেতে পোকা-মাকর, রোগ-বালাই’র আক্রমন তেমন হয়না। চরাঞ্চলের আবহাওয়া সাথে চমৎকার সমন্বয় করেছে এই সবজি। এছাড়া বাজারে ক্যাপসিক্যামের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। অনেক কৃষক নৌপথে চর থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ক্যাপসিক্যাম পাঠাচ্ছেন।
উপজেলা সদরের মেঘনা নদীর বিচ্ছিন্ন মাঝের চর। কয়েক হাজার মানুষের বসবাস এখানে। এই চর থেকেই জেলায় প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ক্যাপসিক্যামের চাষ শুরু হয়। এখানে বর্তমানে শতাধীক কৃষক ক্যাপসিক্যাম চাষ করছেন। এখানকার চাষি মো: হান্নান বাসস’কে বলেন, এবছর ৩ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ২ একর জমিতে ক্যাপসিক্যাম চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত ৫ লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়েছে। মাঠে আরো ৬ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাপসিক্যাম রয়েছে বলে জানান তিনি। একই এলাকার অপর চাষি মো: হাসেম আলী জানান, মুলধন বেশি থাকলে ক্যাপসিক্যাম চাষে লাভ বেশি হয়। অনেকেই ক্যাপসিক্যাম আবাদ করে লাভের মুখ দেখেছেন। তিনি ৩ একর জমিতে চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত ৬ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে তিনি লাভবান হবেন বলে জানান।
মো: কাশেম ব্যাপারী এই চর থেকেই সবজি কিনে প্যাকেট করে রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারী বাজারে বিক্রি করে থাকেন। তিনি বলেন, প্রতি কেজি সবজি ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ দরে বিক্রি হয়। ঢাকার বাজারে প্রচুর চাহিদার কথাও জানান তিনি।
কৃষক মো: হান্নান মিয়া জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে বিদেশী সবজি ক্যাসিক্যাম চাষ করছেন। সৌদী সরকার জাপান থেকে বীজ রপ্তানী করে থাকে। গত ২ বছর ধরে সরাসরি সৌদী আরব থেকে বীজ আনেন তিনি। এবছর তিনি ৩০০ গ্রাম বীজ এনেছেন। প্রতি ১০০ গ্রাম বীজ আনতে খরচ পড়েছে ১৬ হাজার ৩০০টাকা। এতে করে অন্যন্য চাষিদের চাইতে তার লাভ ভালো হয় বলে জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির জানান, চরাঞ্চলের আবহাওয়া ক্যাপসিক্যাম চাষের অনুকুলে থাকায় প্রতিবছর আবাদী জমির পরিমান বাড়ছে। গত বছর সদরে ক্যাপসিক্যাম চাষ হয়েছিলো১২ হেক্টর ও দৌলতখানে ১২ মিলিয়ে মোট ২৪ হেক্টর জমিতে। তার আগের বছর সদরে ৬ ও দৌলতখানে ৯ হেক্টরসহ মোট ১৫ হেক্টর হয়েছে। সাধারণত নভেম্বরের ১৫ তারিখ থেকে মার্চের ১৫ তারিখের মধ্যে এই সবজি চাষ সম্পন্ন হয়ে থাকে।
দৌলতখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানান, আমাদের চরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে ক্যাসিক্যাম চাষ সম্প্রসারণের ব্যাপক সুজোগ রয়েছে। চরাঞ্চলে এই সময়টাতে অনেক জমি পতিত থাকে। সেসব জমি কাজে লাগিয়ে বেকারত্ব দূর করতে ক্যাপসিক্যাম গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। সবচে ভালো দিক হলো যারা ক্যাপসিক্যাম চাষ করছে তারা সবাই খুব একটা পেশাদার কৃষক নয়। বলা যায় অধিকাংশই যুবক এবং সফলতার মুখ দেখছে। আমাদের পক্ষ থেকে কৃষকদের কারিগরী সহায়তাসহ সব ধরনের পরামর্শ সেবা প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষœ দেবনাথ বলেন, মেঘনার চরগুলোতে কয়েক বছর ধরে ক্যাপসিক্যাম চাষ ভালো হচ্ছে। স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সারা ফেলেছে ক্যাপসিক্যাম চাষ। অনেকেই নিজ উদ্যেগে ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রতিবছরই এর উদ্যেক্তা ও উৎপাদিত সবজির পরিমান বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে কৃষকদের সমাস্যা সমাধানে কাজ করছে বলে জানান তিনি।