অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ১৯শে আগস্ট ২০২৬ | ৪ঠা ভাদ্র ১৪৩৩


চরাঞ্চলে মহিষ পালনে সংকট ও লাভজনক সম্ভাবনা


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬শে জানুয়ারী ২০২৩ রাত ০৯:১৩

remove_red_eye

৫৫৭


এআর সোহেব চৌধুরী ,চরফ্যাশন থেকে : সবুজ ঘাসে ভরপুর বিস্তৃর্ন চরাঞ্চলে মহিষ পালনে ব্যপক সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মহিষের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি করে নগদ লাভের সম্ভাবনাও ব্যপক। চরফ্যাশন উপজেলাধীন ছোট বড় প্রায় ২০টি চর রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি চর জোয়ারে ডুবে ও ভাটায় ভেসে ওঠে। দক্ষিণ আইচার চর কচ্ছপীয়া থেকে তেতুলিয়া নদী সংলগ্ন খুডার চর,চর বিস্টিন,চর হাসিনা,চর মনোহর,চর কুকরি-মুকরী,চর পাতিলা ও বঙ্গপোসাগর সংলগ্ন মেঘনা নদীর সীমা রেখায় জেগে ওঠা চর তারুয়া,পূর্বের চর, ভাসান চর, বয়ার চর, চর আলিম, আন্ডার চর, কলাগাচিয়া চর ও শিব চরের আয়তন প্রায় ২০ হাজার একরের অধিক। বনায়নকৃত বিস্তৃত বন জঙ্গলে ঘেরা এসব চরের সবুজ ঘাসের বুকে দেখা মেলে শতশত মহিষ বাথানের। এসব চর সংলগ্ন আশপাশের এলাকা থেকে মহিষ বর্গা নেয়া চাষিরা ভাটার সময় চারণভূমিতে মহিষের বাথান ছেড়ে দেয়। মহিষের পাল সারাদিন পেট ভরে ঘাস খায়। এসময় রাখালেরা খাল ও নদীর স্রোতে জাল পেতে মাছ ধরে সময় কাটান। ভাটা শেষে জোয়ার আর জোয়ার শেষে ভাটার জলে সূর্য ডোবার ঠিক আগ পর্যন্ত চারণভূমিতেই বিশ্রাম নেয় মহিশের পাল। সারাদিন ঘাস লতাপাতা খাওয়া শেষে বিকেল হলেই রাখালের হাঁক-ডাকে নদী ও খাল সাঁতরে মহিষের বাথান গিয়ে আশ্রয় নেয় খোলা মাঠ অথবা মহিষ কিল্লায়।
চর কচ্ছপীয়ার মহিষের রাখাল আবদুল বারেক (৪৫) জানান, সকালে নদীতে মহিষ নামিয়ে দিলে ভেসে ভেসে বড় মহিষের পিছু মাঝারি ও ছোট মহিষগুলো চরে গিয়ে ওঠে। গেলো বছর তিনি ১৬টি মহিষ বর্গা নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮টি মহিষ বাচ্চা দিয়েছে। যেগুলোর বয়স বর্তমানে ৬-৮মাস। তাঁর সব মিলিয়ে এখন ২৪টি মহিষ। চর হাসিনা জোয়ায়ারের সময় জলমগ্ন থাকে। ভাটার সময় কাদামাখা কচকচে ঘাস খেয়ে পেট ভরে যায় মহিষগুলোর।
বেলা ডোবার আগেই আবদুল বারেক নৌকা নিয়ে চলে যান চরে। এসময় জোয়ারের পানিতে চর ঘাস ডুবে যায় কানায় কানায়। এসময় মহিষের বাথান স্রোতে গা ভাসিয়ে ঢেউ ভেঙে সাঁতরে ফিরে আসে চর কচ্ছপীয়ার দক্ষিণে দৌলতপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায়। বারেক,হালিম,কামালসহ একাধিক মহিষ বাথানের রাখাল জানান, চর ছাড়া বড় পরিশরে মহিষ পালন করা সম্ভব না। গ্রামে পর্যাপ্ত ঘাসের সংকট রয়েছে। ভাটার সময় তেঁতুলিয়া নদীর মধ্যে জেগে ওঠা চরে ঘাস খাওয়ানোর জন্য নদীতে নামিয়ে দেন তাঁরা। তারা আরও জানান,একেকটি মহিষের পেছনে বছরে ৩২-৩৩ হাজার টাকা খরচ হয়। বছর শেষে বাচ্চা ও দুধ বিক্রি বাবদ টাকা আয় করেন এসব চাষিরা। আর মহিষের বাচ্চা  টিকিয়ে রাখতে নানা প্রতিকূল সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। পাশাপাশি ওষুধ বড়ির পেছনে প্রচুর টাকাখরচ হয় বলেও জানান এসব রাখাল ও মহিষের মালিকরা। এসব চরের গবাদিপশুর মালিক,বর্গাদারসহ খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চরফ্যাশনের উপকূলবর্তী চরাঞ্চলে মহিষ পালনে ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও কয়েকটি সমস্যা সমাধান করলে মহিষ পালন প্রচুর লাভজনক একটি খাত হয়ে উঠবে। এ উপজেলায় প্রচুর চর রয়েছে। এরপরেও গো-চারণ ভূমি ও কাঁচা ঘাসের সংকট থেকেই যায়। এসব চরগুলোর হাজার হাজার হেক্টর জমি প্রভাবশালী মহল ও বন বিভাগের দখলে রয়েছে। এসব চরে গবাদিপশু চরালেই অনেকেই টাকা দিতে হয়। এছাড়াও অপরিকল্পিত গ্রাম ও হাটবাজার নির্মিত হওয়ায় চারণভূমি ও ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি  নোনাপানির সমস্যা। শীতের শেষে নদীর পানি লবনাক্ত হয়ে যায়। যা চার-পাঁচ মাস থাকে। মাঝে মাঝে চরেও ওঠে নোনাপানি। নোনাপানিতে ভরে যায় পুকুর ও নালার পানি। এ পানি খেয়ে গরু-মহিষের পাতলা পায়খানা, গায়ের পশম ঝরে যাওয়া, উকুনসহ নানা রকম রোগ হচ্ছে। অনেক সময় রোগাক্রান্ত ও মরা বাছুরও প্রসব হয় এসব মহিষের। পাশাপাশি চরগুলোর মধ্য দিযে় বয়ে যাওয়া খালগুলোতে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছে অসাধু জেলেরা। বিষ প্রয়োগের ফলে এসব পানি ও নোনাপানি খেয়ে অনেক মহিষ মারাও যাচ্ছে। বিশেষ করে পৌষ ও মাঘের সময় এসব চরে মিষ্টি পানির (স্বাদু) অভাব দেখা দেয়।
চরগুলোতে প্রায়শই ঝড়-জলোচ্ছ্বাস ও উচ্চ জোয়ার দেখা দেয়। উপকূলীয় এই অঞ্চলে বছরে অমাবস্যা-পূর্ণিমায় তেঁতুলিয়া ও মেঘনা নদীতে বিপৎসীমা অতিক্রম করে জোয়ারের উচ্চতা।ঝড়-ঝঞ্চাও দেখা যায় হরহামেশা। এ সময় এক চর থেকে আরেক চরে বা অন্যকোনো  জেলা উপজেলায় এসব চরের মহিষ ভেসে যায়। হারিয়ে যাওয়া এসব মহিষ খুঁজে বের করতে ঘাম ঝড়া পরিশ্রমের সঙ্গে অনেক টাকাপয়সাও খরচ করতে হয় মালিকদের। অনেক সময় টাকা খরচ করেও পাওয়া যায়না হারানো মহিষগুলো। যার ফলে  উপজেলার প্রত্যেকটি চরে সরকারিভাবে নির্মিত পর্যাপ্ত কিল্লা ও চারণভূমির প্রয়োজন। এসব অঞ্চলে বাথানভিত্তিক যে মহিষগুলো পালন হচ্ছে,সেই মহিষগুলোর অন্তপ্রজনন বা ইনব্রিডিং সমস্যা রয়েছে। বংশপরম্পরায় একই বাথানের বা একই গত্রের চেলামহিষ (পুরুষ মহিষ) দিয়ে ব্রিডিং হচ্ছে। এতে মহিষের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও দুধ, মাংস কমে যায় বলে যানা যায়। যে মহিষ ৫-৬ লিটার দুধ দিতে পারে, সেটি দিচ্ছে দেড় থেকে দুই লিটার। উপজেলা ভেটেনারী সার্জন রহমত উল্লাহ বলেন, চরফ্যাশনে গবাদিপশু পালনে ব্যপক সম্ভাবনা রয়েছে। যার মধ্যে মহিষ পালন ও দুধ উৎপাদনে উদ্যোক্তা খামারি বা চাষিদের এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি মহিষের দুর্বল জাত চিহ্নিত করতে হবে। বেশি মাংস ও দুধ উৎপাদনে সক্ষম উন্নত মুরাহ ও নীলি জাতের মহিষ সংগ্রহ করে তা বিস্তার করতে হবে। এর মাংস ও দুধ উৎপাদন খুবই ভালো। একটি মুরাহ মহিষ ২০-২২ লিটার পর্যন্ত দুধ দেয়। বর্তমানে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে মুরাহ ও নীলি জাতের মহিষের সিমেন দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলার প্রত্যেকটি এলাকাতেই চারণভূমি করা প্রয়োজন। চরাঞ্চলের পুকুরের পাড়গুলো উঁচু করা প্রয়োজন। যাতে নোনাপানি প্রবেশ করতে না পারে।





কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

কান্নাজড়িত বিদায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট চাইলেন মির্জা ফখরুল

একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, আগামীকাল ভোটগ্রহণ : সিইসি

ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন, আগামীকাল ভোটগ্রহণ : সিইসি

গণমাধ্যম বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে : তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যম বাংলাদেশে এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে : তথ্যমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যগণ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠকে বসেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্যগণ

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ৫ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের ৫ জন বাংলাদেশি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত আনল বিজিবি

আরাকান আর্মির হাতে আটক ২৪ জেলেকে ফেরত আনল বিজিবি

১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে নতুন কমিশন: দুদক চেয়ারম্যান

জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে নতুন কমিশন: দুদক চেয়ারম্যান

শিশুসহ প্রাণ গেল কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দম্পতির

শিশুসহ প্রাণ গেল কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দম্পতির

আরও...