অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২রা ফাল্গুন ১৪৩২


টুইটার কিনেছেন, ঘোষণা দিলেন মাস্ক


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭শে অক্টোবর ২০২২ রাত ১১:৪৪

remove_red_eye

৩৫১

বিস্তর জটিলতা ও জলঘোলা করার পর অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটার কিনে নিয়েছেন বলে ঘোষণা দিলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। বৃহস্পতিবার এক টুইটবার্তায় এই ঘোষণা দেন তিনি।

নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টের নামও পরিবর্তন করেছেন তিনি। অ্যাকাউন্টের নতুন নাম দিয়েছেন ‘চিফ টুইট’। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অভয় দিয়ে বলেছেন, নতুন মালিকানায় টুইটার কর্তৃপক্ষ কোনো নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নেবে না।

টুইটারের বিজ্ঞাপনদাতাদের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রিয় টুইটার বিজ্ঞাপনদাতারা, আমি কী কারনে টুইটার কিনেছি— তা পরিষ্কার করতে সম্ভব হলে আপনাদের সবার সঙ্গে আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতাম। কারণ, কেন আমি টুইটার কিনেছি এবং এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনদাতাদের সম্পর্কে আমি কী চিন্তা-ভাবনা করি— এসব ব্যাপার নিয়ে বাজারে অনেক অনুমান ও ধারণার উদ্ভব হয়েছে। এসব অনুমান এবং ধারণার অধিকাংশই ভুল।’

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান টেসলা ও মহাকাশযানের যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য উপকরণ প্রস্তুতকারী কোম্পানি স্পেসএক্সের শীর্ষ নির্বাহী এই ধনকুবের আরও বলেন, ‘সভ্যতার ভবিষ্যতের স্বার্থেই একটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটি ডিজিটাল টাউন স্কয়্যার প্রয়োজন যেখানে মানুষজন তাদের চিন্তা-ভাবনা প্রকাশ করতে পারবে। এসব চিন্তাভাবনা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে, তবে অবশ্যই সেসব বিতর্ক হতে হবে স্বাস্থ্যকর। এমন তর্ক-বিতর্ককে অবশ্যই সেই ডিজিটাল প্ল্যাটফরমে সমর্থন করা হবে না— যেগুলো সংঘর্ষ উস্কে দিতে পারে।’

‘আমাদের এই প্ল্যাটফরম অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ হবে এবং সবাইকে স্বাগত জানাবে। এটা এমন একটি জায়গা হবে, যেখানে প্রত্যেক ব্যবহারকারী তার নিজ নিজ পছন্দের ক্ষেত্র খুঁজে পাবেন। যেমন উদারণ হিসেবে বলা যায়, যারা সিনেমা পছন্দ করেন— তাদের জন্য এখানে যেমন জায়গা থাকবে, তেমনি যারা ভিডিও গেম পছন্দ করেন, তারাও এখানে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন।’

বর্তমানে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে ৫১ বছর বয়সী মাস্ক বলেন, ‘বর্তমানে যেসব মিডিয়া প্রচলিত রয়েছে, সেগুলোর সবই কোনো না কোনো ভাবে উগ্র ডান বা বামপন্থার সমর্থক। তারা বিশ্বাস করে, নিজেদের বাণিজ্যের জন্য এই দুই নীতির কোনো একটিকে তাদের এগিয়ে নিতে হবে।’

‘এতে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয় বটে, কিন্তু আলোচনার সুযোগ কিংবা ক্ষেত্র হারিয়ে যায়।’

‘এ কারণেই আমি টুইটার কিনেছি। আমার জন্য এটা কেনা সহজ ছিল বলে কিনেছি— ব্যাপারটি এমন নয়। আমি টাকা কামানোর জন্য টুইটার কিনিনি। বরং মানবতাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কিনেছি, কারণ মানবতাকে এগিয়ে নেওয়া সংক্রান্ত যে কোনো পদক্ষেপের প্রতিই আমার ভালবাসা রয়েছে।’

‘কিন্তু এটাও আমি সবিনয়ে স্বীকার করে নেব যে, সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও আমাদের মধ্যে হয়তো খুঁত থেকে যাবে। তবে সেসব খুঁতকে অতিক্রমের চেষ্টা সবসময়ই টুইটারের থাকবে।’