অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৯ই জুলাই ২০২৬ | ২৫শে আষাঢ় ১৪৩৩


ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং: ভোলায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭শে অক্টোবর ২০২২ রাত ০১:৪৪

remove_red_eye

৩৪০



ইকরামুল আলম    :  ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের আঘাতে উপকূলীয় জেলা ভোলায় আমন ধান ও সবজিসহ প্রায় তিন হাজার ৪৪৩ হেক্টর ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আমন তিন হাজার ১৬০ হেক্টর, শীতকালিন সবজি ১৫০ হেক্টর, পেপে ৭০ হেক্টর, কলা ৬০ হেক্টর, পান ৩ হেক্টর। জেলায় আমনের তেমন ক্ষতি না হলেও প্রায় সকল সবজিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 বুধবার সকাল থেকে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নসহ জেলার অন্যান্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমনের ক্ষেতে এখনো পানি জমে আছে। আবার নিচু এলাকায় অনেক আমন ধান পানির নিচে রয়েছে। তবে এ পানি আগামী দুই এক দিনের মধ্যে সরানো না গেলে আমন ধানেরও ক্ষতি হবে বলে দাবি করেন কৃষকরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর এক লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৮ হেক্টর জমিতে আমান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২৩ হাজার ৭০০ হেক্টর, দৌলতখানে ১৪ হাজার ৪১৫ হেক্টর, বোরহানউদ্দিনে ১৮ হাজার ১৫৫ হেক্টর, তজুমদ্দিনে ১১ হাজার ৮২৩ হেক্টর, লালমোহনে ২৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর, চরফ্যাশনে ৭১ হাজার ৬২৫ হেক্টর ও মনপুরায় ১২ হাজার ৩০০ হেক্টর। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়েছে সদর উপজেলায় ৪২৬ হেক্টর, দৌলতখানে ২৬০ হেক্টর, বোরহানউদ্দিনে ২৯১ হেক্টর, তজুমদ্দিনে ২১০ হেক্টর, লালমোহনে ৪২০ হেক্টর, চরফ্যাশনে এক হাজার ২৯০ হেক্টর ও মনপুরায় ২২৭ হেক্টর। এছাড়াও জেলায় আবাদ হওয়া ১৫০ হেক্টর জমির সকল সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের সবজি চাষী মো.নিজাম উদ্দিন জানান, গত এক মাস আগে তিনি দুই কানি জমিতে ক্যাপসিক্যাম, করলা ও চিচিঙার আবাদ করেছেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের কারনে তার জমির সকল ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার এওয়াজপুর গ্রামের সবজি চাষী মো. সেলিম উদ্দিন জানান, এ বছর তিনি সাড়ে ৪কানি জমিতে টমেটু, শষা ও করলার চাষ করেছেন। কিন্তু সবে মাত্র জমি রেডি করে চারা লাগিয়েছেন। এর মধ্যেই ঘূর্ণিঝড় এসে তার পুরো সবজি ক্ষেত নষ্ট করে দিয়েছে। এতে তার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন আবার নতুন করে জমি প্রস্তুত করে চারা রোপন করতে হবে। এতে করে এক দিকে যেমন লোকশানের মুখে পড়তে হচ্ছে অন্য দিকে সবজি চাষে প্রায় এক থেকে দেড় মাস পিছেয়ে যাবেন। মো. সেলিম উদ্দিনের মতো ওই এলাকায় আরো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মো. কালু। তিনি দুই কানি জমিতে মিষ্টিকুমড়া. টমেটু ও শষার আবাদ করেছেন।
একই উপজেলার চর কলমী ইউনিয়নের সবজি চাষী মো.রুহুল আমিন জানান, তিনি ধার-দেনা করে সাড়ে তিন কানি জমিতে বেগুন, করলা ও টমেটু আবাদ করেছেন। কিন্তু ঘুর্ণিঝড়ে তার জমির সকল ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে তিনি তিন থেকে চার লাখ টাকা ক্ষতির মধ্যে পড়েছেন।  
সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম, ইয়াছিন, মারুফ মালসহ ৫-৭জন কৃষক জানান, অনেক ক্ষেতের আমন ধান কেবল বের হয়েছে। এ অবস্থায় জমিতে পানি ওঠে যাওয়ায় ও বৃষ্টি হওয়া ক্ষতিকর। তবে যে সকল ক্ষেতে এখনো ধান বের হয়নি সেগুলোর তেমন ক্ষতি হবে না। তাই এখন ক্ষেতের পানি সরানো কৃষকদের জন্য চ্যালঞ্জে হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চর উমেদ ইউনিয়নের জাহাজ মারা গ্রামের কৃষক ইমরান মাল জানান, তিনি ১৫ গন্ডা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। ঘূর্ণিঝড়ের কারনে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে তার ১০ গন্ডা জমির ধান এখনো পানির নিচে রয়েছে। বাকী পাঁচ গন্ডা বাতাসের কারনে হেলে পড়েছে। এ অবস্থায় জমি থেকেও পানি সরানোর কোনো যায়গা নেই। আরো দুই একদিন জমিতে পানি জমে থাকলে সকল ধান নষ্ট হয়ে যাবে।
একই কথা বলেন ওই এলাকার কার্তিক কর্মকার, প্রকাশ কর্মকার ও মামুনসহ ৪-৫জন কৃষক। তারা জানান, তাদের সকলের জমির ধান পানির নিচে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করায় পানি নামানোর কোনো যায়গা নেই। আর অবস্থায় জমিতে পানি জমে থাকলে সকল ধানই নষ্ট হয়ে যাবে। ক্ষতির মুখে পড়বে ওই এলাকার শতাধিক কৃষক। তাই যেভাবে হউক জমির পানি অপসারণ করার ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।
 ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাসান ওয়ারিসুল কবীর জানান, ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারনে ভোলায় মোট তিন হাজার ৪৪৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমন ধান তিন হাজার ১৬০ হেক্টর। বাকী সবজিসহ অন্যান্য ফসল মিলিয়ে ২৮৩ হেক্টর। ক্ষতিপ্রস্ত ফসলের প্রাথমিক তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়ে।ে তবে আমন ধানের ক্ষতি এখনো নিশ্চত না। কারন যে সকল ধান হেলে পড়েছে এবং পানির নিচে রয়েছে সেগুলোর তালিকা করা হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ পর আমন কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা বলা যাবে। এছাড়াও জেলায় আবাদ হওয়া আমনের মধ্যে ১০ শতাংশের ধান বের হয়েছে। সেগুলো কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেটি উল্লেখযোগ্য না।
তিনি আরো জানান, ফসলের ক্ষতি নিরুপনে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক কাজ করছে। কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে কৃষকদের জন্য কোনো সহায়তা আসলে তালিকা করে তা বিতরণ করা হবে।

 





মনপুরায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

মনপুরায় টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ভোলায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন ও কারেন্ট জাল জব্দ

ভোলায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন ও কারেন্ট জাল জব্দ

উত্তাল সাগরে যেতে পারছেনা শতশত ট্রলার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো জেলে

উত্তাল সাগরে যেতে পারছেনা শতশত ট্রলার কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো জেলে

মনপুরায় প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মনপুরায় প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ভোলায় শিক্ষা সুরক্ষা প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা ও পর্যালোচনা সভা

ভোলায় শিক্ষা সুরক্ষা প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা ও পর্যালোচনা সভা

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ ও দ্রুততম সমাধানে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাস চর্চাই জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি : ডেপুটি স্পিকার

ইতিহাস চর্চাই জাতির আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের ভিত্তি : ডেপুটি স্পিকার

২০৪০ সালে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য সরকারের : জ্বালানি মন্ত্রী

২০৪০ সালে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের লক্ষ্য সরকারের : জ্বালানি মন্ত্রী

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান পেলেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান পেলেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের ৩০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে যুবদলের ৩০০ নেতাকর্মী বহিষ্কার

আরও...