অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১১ই মে ২০২৬ | ২৭শে বৈশাখ ১৪৩৩


অভ্যুত্থান নিয়ে আমেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গি ১৫ মাস আগেই জানার চেষ্টা করেছিল বঙ্গবন্ধুর খুনিরা


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩রা আগস্ট ২০২২ রাত ০৮:৪১

remove_red_eye

২৯১

১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকান্ডের অন্তত ১৫ মাস আগেই অভ্যুত্থান নিয়ে আমেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গি জানার চেষ্টা করেছিল বঙ্গবন্ধুর খুনিরা। এছাড়াও, অভ্যুত্থানের পর বিদেশি কোন শক্তি  বিশেষ করে ভারত যাতে হস্তক্ষেপ করতে না পারে সেইদিকটা আমেরিকা দেখবে কিনা সেটাও যাচাই করতে চেয়েছিল তারা।  
  শুধু তাই নয়, এর আগেও তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য আমেরিকা থেকে অস্ত্র কেনার ছল করে তথ্য জানতে আমেরিকান দূতাবাসে যায়। তারা সেখানে সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষোভের কথা সেখানে ব্যক্ত করে।
আমেরিকান সাংবাদিক লেখক বি জেড খসরু‘র ইংরেজিতে লেখা ‘ বাংলাদেশে মিলিটারি ক্যু সিআইএ লিঙ্ক’ গ্রন্থে  এ ব্যাপারে বিস্তারিত বর্ণনা আছে। গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন সিরাজ উদ্দিন সাথী। বাংলাদেশের ইউনিভার্সেল একাডেমি বইটি প্রকাশ করেছে।
বি জেড খসরু তার বইতে লিখেন, ঢাকার আমেরিকান দূতাবাস এমন অভ্যুত্থানের কথা শুনেছিল ১৫ আগস্টের ঘটনার অন্তত ১৫ মাস আগে। ১৯৭৪ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায়  লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান (বহিষ্কৃত) আগে থেকে না জানিয়েই আমেরিকান দূতাবাসের জনসংযোগ অফিসার উইলিয়াম গ্রেসামের বাসায় যায়। ফারুক তাকে জানায় যে, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার নির্দেশে সে আমেরিকানদের মনোভাব জানার জন্য এসেছে। সে বলে, তারা নিশ্চিত হতে চায় সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা গ্রহন করলে আমেরিকানদের দৃষ্টিভঙ্গি কি হবে। ফারুক তাকে বলে, বিদেশি কোন শক্তি  যাতে হস্তক্ষেপ করতে না পারে সে দিকটা আমেরিকা দেখবে কিনা। ফারুক বিশেষ করে ভারতের কথা বোঝাতে চায়।
 ফারুক গ্রেসামকে জানায়, সারা দেশে সেনা অভিযান চলাকালে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগ নেতাদের না ধরার জন্য যে আদেশ দিয়েছেন তাতে সেনাবাহিনী সরকারের উপর ভীষণ চটে আছে। গ্রেসাম ফারুককে জানান, আমেরিকা বর্তমান সরকারকে স্বীকৃতি দেয় এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোন হস্তক্ষেপ করবে না। তবে, ফারুকের এই সাক্ষাতের বিষয়টি দূতাবাস ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্টকে অবগত করে। তারা একে অস্বাভাবিক অ্যাপ্রোচ বলে আখ্যায়িত করে।
তারা বলে, গত দু’বছরে এটাই প্রথমবার সেনাবাহিনীর অসন্তোষের এবং ক্যু-এর খবর নয়। আগেও এমন কথা দূতাবাসের কানে এসেছে। কিন্তু, এর কোনটাই সত্য হয়নি। তারা আরো উল্লেখ করে, ফারুক ও রশীদ এক বছর আগেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য আমেরিকা থেকে অস্ত্র কেনার ছল করে তথ্য জানতে আমেরিকান দূতাবাসে গিয়েছিল। তখন তারা সেনা বাহিনীর মধ্যে ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করে।  
মার্কিন দূতাবাস ফারুকের এই সাক্ষাতের বিষয়টি যতই অস্বাভাবিক অ্যাপ্রোচ বলে আখ্যায়িত করুক না কেন এবং  বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোন হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানালেও পরবর্তী সময়ে তাদের কিছু তৎপরতা  কিন্তু সেই অবস্থানকে প্রকাশ করে না। এধরনের খবরের নির্ভরযোগত্য যাচাইসহ অভ্যুত্থানের সম্ভাব্য দিক নিয়েও বিস্তর চিন্তা ভাবনা চর্চা করতে দেখা গেছে তাদের। স¦ল্পমেয়াদে সেনাবাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রন নেয়ার সক্ষমতা আছে কিনা, অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শেখ মুজিবকে হত্যা কিংবা জেলে নেয়া অথবা জোরপূর্বক  বিদেশে পাঠানো হলে এর ফলাফল কি হতে পারে এসব নিয়েও তাদের অনুসন্ধান অব্যাহত ছিল।  
এ ব্যাপারে বি জেড খসরু লিখেন, এর আগেও  আমেরিকান দূতাবাস ক্যু সংক্রান্ত খবরের অনেকগুলো রিপোর্ট পাঠায় ওয়াশিংটনে। তখন উল্লেখ করা হয় ২১ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সেনাআহিনী ক্যু ঘটাতে পারে। এই সব রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ স্টেট ডিপার্টমেন্ট এমন খবরের নির্ভরযোগ্যতা সর্ম্পকে জানতে চায় দূতাবাসের কাছে। তারা জানতে চায়Ñস্বল্পমেয়াদে সেনাবাহিনীর কার্যকর নিয়ন্ত্রন নেয়ার সক্ষমতা আছে কিনা, অভ্যুত্থান ঘটিয়ে শেখ মুজিবকে হত্যা কিংবা জেলে নেয়া অথবা জোরপূর্বক  বিদেশে পাঠানো হলে এর ফলাফল কি হতে পারে? অভ্যুত্থান হলে শেখ মুজিব কি তাঁর নেতৃত্ব অভ্যুত্থান পরবর্তী নেতাদের হাতে ছেড়ে দেবেন? এইসব প্রশ্ন ছাড়াও স্টেটডিপার্টমেন্ট  জানতে চায় অভ্যুত্থান চেষ্টা ব্যর্থ হলেও  কিংবা পরিকল্পনা আগে ফাঁস হয়ে গেলে বাংলাদেশ সরকারের গতি প্রকৃতি কি হবে ? স্টেটডিপার্টমেন্ট আমেরিকার জন্য এমন অভ্যুত্থানের প্রভাব কি হবে সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রিপোর্ট দিতে বলে।
ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাস ২২ মার্চ আট পৃষ্টার এক বিশ্লেষণে স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রশ্নমালার জবাব দেয়।  ডেপুটি চিফ অব মিশন আরভিং চেসলো উল্লেখিত মেয়াদের মধ্যে কেন অভ্যুত্থান ঘটতে পারে তার বিশ্লেষণ করে লিখেন, বাকশাল গঠিত হওয়ায় ভারতপন্থি ও সোভিয়েটপন্থি ন্যাপ - কমিউনিস্ট পার্টিকে সাথে নিয়ে শেখ মুজিবের ক্ষমতা সুসংহতকরণের আগেই হয়তো তারা অভ্যুত্থান ঘটাতে পারে। তবে, তাদের  মধ্যে যেমন ধৈর্য্যহীনতা আছে, তেমনি আছে পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়।
আমেরিকান কূটনীতিকগণ ধারনা করেছিলেন ১৯৭৫ সালের শুরুর দিকে যখন শেখ মুজিব বাকশাল গঠন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন তখন এই অভ্যুত্থান ঘটতে পারে। তবে, অভ্যুত্থান চেষ্টার সম্ভাবনা নিয়ে চেসলোর সন্দেহ ছিল। তিনি লিখেন ‘আমাদের প্রশ্ন জাগেÑঅপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ তরুন অফিসারদের এমনটা করার আতœবিশ^াস কতটুকু আছে? কতটা সক্ষমতা আছে এবং তাদের সহকর্মীদের উপর  কতটা নির্ভর তারা করতে পারবে? অথচ এর উপরেই  হয়তো নির্ভর করবে তাদের পরিকল্পনার সাফল্য।
অন্যদিকে চেসলো তার এই বিশ্লেষণে  আবার অভ্যুত্থান সফল হওয়ার দিকও বর্ণনা করেছেন। তিনি লিখেন, যদি সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে স্বল্পমেয়াদে দেশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার শক্তি থাকবে তাদের। তবে, তাদের সফলতার শর্ত হবে শেখ মুজিবকে জিন্মায় নেয়ার পর সেনাবাহিনীর ঐক্য বজায় রাখা। যদি তাদের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয় এবং উপদলীয় কোন্দল  প্রাধান্য পায় তাহলে তারা  কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হবে। আর যদি তারা একত্রে মিলে একে সফল করে তাহলে বাঙালি জনগনণ তাদের পক্ষে এসে দাঁড়াবে।  তবে, রিপোর্টে ২১ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিলের মধ্যে সেনাআহিনী ক্যু ঘটাতে পারে বলা হলেও  ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট এই অভ্যুত্থান ঘটানো হয়।
’৭৫-এর শোকাবহ এই কালোদিবসে সূর্য ওঠার আগে খুব ভোরে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ঘাতকরা শুধু বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করেনি, তাদের হাতে একে একে প্রাণ হারিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর সন্তান শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশু শেখ রাসেলসহ পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজি জামাল।
 আমেরিকান দূতাবাস প্রেরিত স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি গোপন দলিলে বলা হয়েছে, ক্যু এর পরিকল্পনা হয়েছে সেনাবাহিনীর মধ্য থেকে। রিপোর্টে বিশদ কিছু না থাকলেও ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান সম্পর্কে ঢাকায় আমেরিকান এক্সপ্রেসে কর্মরত ফিনলে মোদি তার কোম্পানিকে লিখে জানান যে, জুনিয়র সেনা অফিসারদের দ্বারা পরিচালিত এই অভ্যুত্থান দক্ষিণপন্থি ও ইসলামপন্থিদের বলে মনে হয়। এতে অধিকাংশ সেনার কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। সেনাবাহিনী বিভক্ত হয়ে আছে। ভবিষ্যতে এর বিরুদ্ধে পাল্টা ক্যু হতে পারে। নিউ ইয়র্কে অবস্থিত কোম্পানির সদর দপ্তরে পৌঁছে দেয়ার জন্য ঢাকাস্থ আমেরিকান দূতাবাস তার এই বার্তাটি ওয়াশিংটনে পাঠায়। 

সুত্র বাসস





জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন: পুলিশের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল মা: মির্জা ফখরুল

জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল মা: মির্জা ফখরুল

জনগণের আস্থা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জনগণের আস্থা অর্জন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

পুলিশকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়তে যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশকে আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়তে যৌক্তিক দাবি পূরণ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ

প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ প্রার্থীর তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে: রিজভী

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে: রিজভী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ

শপথ নিয়েই ২০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুতের ঘোষণা বিজয়ের

শপথ নিয়েই ২০০ ইউনিট ফ্রি বিদ্যুতের ঘোষণা বিজয়ের

নাটকীয়তার পর যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী হলেন থালাপতি বিজয়

নাটকীয়তার পর যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী হলেন থালাপতি বিজয়

আরও...