অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১০ই অক্টোবর ২০২৬ | ২৫শে আশ্বিন ১৪৩৩


অনলাইনে পার্টটাইম চাকরির প্রলোভনে ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ই অক্টোবর ২০২৬ বিকাল ০৫:২১

remove_red_eye

৪৩

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে অনলাইনে পার্টটাইম চাকরি ও বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেফতার প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রার (২২) বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণায় জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য হিসেবে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী একজন ব্যবসায়ী। ২০২৫ সালের আগস্টে টেলিগ্রাম আইডি থেকে তাকে অনলাইনে পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি নকল ওয়েবসাইট ব্যবহার করে একটি ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের রেটিং ও ফিডব্যাক দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখায় চক্রটি।প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে কাজ শুরু করলে ভুক্তভোগীকে কয়েক দফায় পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। এতে তার বিশ্বাস অর্জন করে পরে তাকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমার স্লিপের ছবি দেখানো হলে তিনি বিনিয়োগে আগ্রহী হন।সিআইডির এই কর্মকর্তা জানান, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট ভুক্তভোগী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রথমে এক লাখ টাকা চক্রটির দেওয়া ব্যাংক হিসাবে পাঠান। পরে ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন রাউন্ডে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে তাকে আরও টাকা পাঠাতে প্ররোচিত করা হয়। এভাবে একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে মোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা নেওয়া হয়।চক্রটি ভুক্তভোগীর পাঠানো অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে। তবে প্রতিশ্রুত মুনাফা কিংবা বিনিয়োগের মূলধন কোনোটিই ফেরত দেওয়া হয়নি। পরে আরও অর্থ দাবি করা হলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ হয়। টাকা ফেরত চাইলে নতুন করে অর্থ পাঠানোর কথা বলা হয়। একপর্যায়ে চক্রটির সদস্যরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন।

সিআইডির তদন্তে লিজা নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনার সঙ্গে টাকা পাঠানোর সময়ের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জন করে তাকে ধীরে ধীরে বেশি অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করতে গ্রেফতার প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রার নামে নিবন্ধিত মোবাইল আর্থিক সেবার একটি হিসাব থেকে তাকে পারিশ্রমিক পাঠানো হয়েছিল।

তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ পাঠানোর নির্দেশদাতা সম্পর্কে গ্রেফতার নারী সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। প্রতারণায় তার সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ আরও জানান, একই মামলায় বিভিন্ন সময়ে আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।অনলাইন চাকরি, বিভিন্ন টাস্ক সম্পন্ন করে আয়ের প্রলোভন এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি।