অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১০ই অক্টোবর ২০২৬ | ২৫শে আশ্বিন ১৪৩৩


ভোলায় বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতা বাড়ছে বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ই অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১১:০৬

remove_red_eye

১০

এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাসের সংকট

 

 
মলয় দে : ভোলায় গত এক মাস ধরে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে থাকা ২৮টি কোম্পানির মধ্যে বর্তমানে মাত্র ৩-৪টি কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে সরবরাহ থাকা কোম্পানির গ্যাসও পর্যাপ্ত নয়। এক কোম্পানির খালি সিলিন্ডার দিয়ে অন্য কোম্পানির গ্যাস নেওয়ার সুযোগ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও সাধারণ ক্রেতারা। এর সঙ্গে গ্যাসের দাম বাড়ায় ক্ষোভ ও অসন্তোষও বাড়ছে। নিরুপায় হয়ে অনেকে গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন।
 
ভোলা শহরের বিভিন্ন এলপিজি বিক্রির দোকান ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই কাঙ্ক্ষিত কোম্পানির গ্যাস নেই। দু-একটি দোকানে সিলিন্ডার থাকলেও তা অল্প এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে ফ্রেশ, ওমেরা ও বিএম কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যান্য অনেক কোম্পানির সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে ক্রেতারা অন্য কোম্পানির খালি সিলিন্ডার নিয়ে এলে তা রেখে সরবরাহ থাকা কোম্পানির গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না।
 
নতুন বাজারের নূর এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. আবদুর নূর বলেন, আগে প্রতিদিন ১৫-২০টি সিলিন্ডার বিক্রি হলেও এখন ২-৩টির বেশি বিক্রি হচ্ছে না। সিলিন্ডার জটিলতা ও দাম বৃদ্ধির কারণে কেনাবেচা কমে গেছে। মানুষ গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা কিনছেন।
 
নতুন বাজার এলাকার আরেক ব্যবসায়ী মো. জামাল বলেন, তিনি ওমেরা কোম্পানির গ্যাস বিক্রি করেন। ক্রেতারা অন্য কোম্পানির খালি বোতল নিয়ে এলে তা নিতে পারেন না। কারণ কোম্পানির লোকজন অন্য কোম্পানির বোতল নিতে চান না।
 
ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, বসুন্ধরা, ইউএমআই, নাভানা, বেঙ্গল, আইগ্যাস, ফ্রেশ ও বিএম কোম্পানির ১২ কেজি সিলিন্ডারের আগের পাইকারি দাম ছিল ১ হাজার ৫৩০-৫৫০ টাকা। এখন তা বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৯০০ টাকা হয়েছে। ওমেরার সিলিন্ডার আগে পাইকারি ১ হাজার ৬৩০ ও খুচরা ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন যথাক্রমে ১ হাজার ৯০০ ও ২ হাজার টাকা। সংকটে থাকা কোম্পানির গ্যাস কোথাও কোথাও ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
 
বসুন্ধরা স্টোরের মালিক মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সব কোম্পানির গ্যাস না পাওয়ায় তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।বেচা-কোনা একদমই নেই।
 
এদিকে বেঙ্গল কোম্পানির খালি সিলিন্ডার নিয়ে গ্যাস কিনতে এসে হতাশ হন গৃহিণী বিবি মরিয়ম। তিনি জানান, মঙ্গলবার দুপুর থেকে তার চুলা জ্বলছে না। বিভিন্ন দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাননি। কিভাবে রান্না করবেন তা নিয়ে ভাবছেন।
 
একই সমস্যায় ফেরদাউস নামের আরেক গৃহিণী বললেন, কয়েকদিন ধরে গ্যাস না পেয়ে এখন বৈদ্যুতিক চুলাই একমাত্র ভরসা। দাম কমানো সহ দ্রুত সংকট সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা।