অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১০ই অক্টোবর ২০২৬ | ২৫শে আশ্বিন ১৪৩৩


মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগবঞ্চিত লালমোহনের ফয়জুল আলম


লালমোহন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০ই অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০:৪৫

remove_red_eye

৬৪

লালমোহন প্রতিনিধি : ভোলার লালমোহন উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি মো. ফয়জুল আলম। উপজেলা পর্যায়ে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেও যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কাগজপত্রে কোনো সমস্যা না থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাঁর নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এতে সরকারি চাকরির স্বপ্ন ভেঙে পড়ার পাশাপাশি অনিশ্চয়তায় পড়েছে তাঁর পরিবার।
 
ফয়জুল আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন তিনি। ভোলা জেলায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ২৫৬ জনের মধ্যে লালমোহন উপজেলার ছিলেন ৪৩ জন। তাঁদের মধ্যে ফয়জুল আলম ছাড়া অন্যরা নিয়োগপত্র পেয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
প্রথম পর্যায়ে দেশের ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। তবে ফয়জুল আলমসহ অনেকের নাম প্রথম দফার গেজেটে না আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বাদ পড়া প্রার্থীদের আন্দোলনের পর দ্বিতীয় দফায় গেজেট প্রকাশ করা হয়।
 
ফয়জুল আলমের দাবি, লালমোহন উপজেলার অন্য যেসব প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের নাম দ্বিতীয় দফার গেজেটে এলেও তাঁর নাম আসেনি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, যাচাই-বাছাইয়ে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ফয়জুল আলম বলেন, ‘চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে নিয়োগপত্র পাইনি। অথচ উপজেলা পর্যায়ে মেধা তালিকায় আমার অবস্থান দ্বিতীয়। আমার কাগজপত্রেও কোনো সমস্যা নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি হবে—এই আশায় আগের একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। এখন বেকার অবস্থায় হতাশায় দিন কাটছে।’
 
তিনি আরও বলেন, তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও ভাইবোন রয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করেছেন তিনি। এর আগে তিনবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চূড়ান্ত নিয়োগ পাননি। তবে এবার চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ না পাওয়ায় তিনি সবচেয়ে বেশি হতাশ। তাঁর সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সও শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
 
ফয়জুল আলমের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই। এরপরও কী কারণে তাঁকে যাচাই-বাছাইয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তাঁর দাবি, কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বা ট্যাগের কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর বিষয়টি পুনর্বিবেচনা ও নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
 
এ বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ভোলা জেলায় লালমোহনের একজনসহ মোট চারজন শিক্ষক বাদ পড়েছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে তাঁদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফয়জুল আলমের নিয়োগবঞ্চিত হওয়ার কারণ এবং যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।