অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর ২০২৬ | ২৩শে আশ্বিন ১৪৩৩


জি-৩ রুইয়ের পোনা ও মৎস্য উপকরণ বিতরণ


চরফ্যাসন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৮ই অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:১৪

remove_red_eye

৫০

চরফ্যাশন প্রতিনিধি : দেশে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে চাষিদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর যৌথ উদ্যোগে উন্নত জাতের দ্রুত বর্ধনশীল জি-৩ রুই মাছের পোনা ও বিভিন্ন পুকুর ব্যবস্থাপনা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সংস্থা দুটির যৌথ পরিচালনায় এগ্রো মাইক্রো-এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট ইউনিট (AMDU)-এর আওতাধীন মৎস্য খাতের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই উপকরণগুলো বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে পাঁচজন সদস্যের মাঝে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ কামাল উদ্দিন দ্রুত বর্ধনশীল জি-৩ রুই মাছের পোনা, ঝাঁকিজাল, পুকুরের চুন, রাসায়নিক সার ও সাইনবোর্ডসহএসব উপকরণ তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এফডিএ-এর সিনিয়র প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী জনাব শংকর চন্দ্র দেবনাথ এবং মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ সাইদুর রহমান।

উদ্যোক্তারা জানান, আধুনিক চাষ পদ্ধতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে মৎস্য খাতের পাঁচজন নির্বাচিত ও সফল সদস্যের মাঝে প্রাথমিকভাবে এই উন্নত জাতের পোনা ও পুকুর ব্যবস্থাপনার আনুষঙ্গিক উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে। বিতরণের উদ্দেশ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে আমিষের চাহিদা পূরণ, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ সাইদুর রহমানজানান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই জি-৩ রুই মাছ সাধারণ রুইয়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি দ্রুত বর্ধনশীল এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। ফলে আধুনিক পদ্ধতিতে এই মাছ চাষ করলে চাষিরা অল্প সময়ে অধিক লাভবান হতে পারবেন। উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে পরিবার উন্নয়ন সংস্থা (এফডিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক জনাব মোঃ কামাল উদ্দিন চাষিদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু উপকরণ বিতরণই নয়, আধুনিক পদ্ধতিতে পুকুর প্রস্তুত করা, সঠিক নিয়মে সুষম খাদ্য প্রয়োগ এবং নিয়মিত পানির গুণাগুণ বজায় রাখার জন্য চাষিদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে।

তারা আরও জানান, পিকেএসএফ-এর সহযোগিতায় এফডিএ’র AMDU কার্যক্রমের আওতায় মৎস্য খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যচাষিদের আর্থিক সক্ষমতা ও জীবিকায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উন্নত জাতের এই পোনা ও উপকরণ পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগী মৎস্য চাষিরা। এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অন্যান্য চাষিদেরও আধুনিক মৎস্য চাষে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।