অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ৭ই অক্টোবর ২০২৬ | ২২শে আশ্বিন ১৪৩৩


ভোলায় দুশ্চিন্তায় ২ লক্ষাধিক জেলে


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১:০২

remove_red_eye

৬

মা ইলিশ রক্ষায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু


বাংলার কন্ঠ প্রতিবেদক : ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মা ইলিশ সংরক্ষণে বুধবার (৮ অক্টোবর) মধ্যরাত ১২ টা থেকেই শুরু হয়েছে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এসময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করা হয়। এতে করে বেকার হয়ে পড়ছে উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার ২ লক্ষাধিক জেলে। ইতোমধ্যে নদী ও সমুদ্র মোহনা থেকে ফিরে এসেছে অধিকাংশ মাছধরা ট্রলার। এদিকে ২২ দিনের অভিযান সফল করতে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মা ইলিশ রক্ষার জন্য নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগের দিন থেকেই মেঘনা তেঁতুলিয়া নদী ও সাগর মোহনা থেকে ভোলার মাছ ঘাট গুলোতে ও তীরে নৌকা ট্রলার ভিড়েছে। জেলেরা তাদের নৌকা গুলো তীরে উঠিয়ে রেখেছে। কেউ জাল গোছাচ্ছেন । আবার কোথাও কোথাও দল বেঁধে জাল বুনছেন জেলেরা। সরকারের দেয়া নিষেধাজ্ঞা মানতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বলছে, সরকারি আইন মেনে তারা নিষেধাজ্ঞাকালিন সময় নদীতে যায় না। কিন্তু এই সময় তার কর্মহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন কাটাতে হয়। কিভাবে তাদের সংসার চলবে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত যে চাল দেয়া হয় এতে তাদের সংসার চালানো সম্ভব নয়। আবার অনেক জেলে সেই চালও পায় না। এমন অবস্থায় ঋণের বোঝায় জর্জরিত জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়বেন।
এদিকে জেলেদের অনেকেই নিষেধাজ্ঞা কালীন সময়ে বিভিন্ন এনজিও গুলোর সাপ্তাহিক যে কিস্তির চাপে তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। তাই এই সময়ে এনজিও কিস্তির টাকা নেয়া বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
পাশাপাশি মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কালিন সময়ের মধ্যে দ্রুত সরকারি সহায়তার চাল প্রকৃত জেলেদের মাঝে বিতরণেরও দাবী জানান কর্মহীন জেলেদের।

মৎস্য বিভাগ জানায়, নিষেধাজ্ঞা কালিন সহায়তা হিসাবে কর্মহীন ১লক্ষ ৪৩ হাজার ৬০০ জেলের জন্য ৩ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জানান, এ নিষেধাজ্ঞা সফল করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়াও নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলেদের ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া কথা জানান তিনি।