অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ৭ই অক্টোবর ২০২৬ | ২২শে আশ্বিন ১৪৩৩


আজ মধ্যরাত থেকে মা ইলিশ রক্ষায় মাছধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ই অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০:০৩

remove_red_eye

৪০

কর্মহীন ভোলার ২ লাখের বেশি জেলে বিপাকে

মলয় দে : মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) মধ্যরাত ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে নদীতে ২২ দিনের মাছধরার উপর নিষেধাজ্ঞা।

এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়বেন ভোলার ২ লাখের বেশি জেলে। ইতোমধ্যে মেঘনা, তেঁতুলিয়া নদী ও সাগর মোহনা থেকে মাছধরা নৌকা-ট্রলার ঘাটে ফিরতে শুরু করেছে। নিষেধাজ্ঞার আগে ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ও নদীর তীরে জেলেদের ব্যস্ততা বেড়েছে।
ভোলার বিভিন্ন মাছ ঘাট ঘুরে দেখা গেছে,নদী থেকে ফিরে নৌকা-ট্রলার তীরে উঠিয়ে মেরামত করছেন অনেকে। কেউ জাল গুছিয়ে রাখছেন, আবার কেউ দলবেঁধে ছেঁড়া জাল মেরামত ও নতুন করে জাল বুনছেন। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে নদীতে না যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।অন্যদিকে মাছ ঘাটের আড়ৎদারদের দেখা গেছে মাছ বিক্রি করার সরঞ্জাম ও বাক্সগুলো ধুয়েমুছে পরিষ্কার করতে।


জেলেরা জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ কারণে তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চললেও টানা ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায়। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
জেলে রাজ্জাক মাঝির ভাষ্য, “নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে মাছ ধরতে পারি না। তখন আমাদের কোনো আয় থাকে না। সরকার যে চাল দেয়, তা দিয়ে ২২ দিন পরিবারের খরচ চালানো কঠিন। শুধু চাল দিয়েই তো আর সংসার চলে না।এর সাথে যাবতীয় অনেক কিছুই প্রয়োজন হয়।এসব কেনার জন্য প্রতি জেলেকে চালের পাশাপাশি নগদ অর্থও দেয়ার দাবি জানাই।”
জেলে মো. সেলিমের বক্তব্য , “নিষেধাজ্ঞার সময় কাজ বন্ধ থাকায় সংসারে অভাব দেখা দেয়। পরিবারের খরচ চালাতে অনেক সময় ধারদেনা করতে হয়। জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা আরও বাড়ানো হলে এই সময়টা কিছুটা স্বস্তিতে পার করা সম্ভব হবে।জেলে সিরাজ মাঝি বলেছেন, “নদীতে মাছ ধরতে না পারলেও এনজিওর কিস্তি দিতে হয়। আয় না থাকায় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন এনজিওর কিস্তি বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করলে জেলেদের জন্য অনেক সুবিধা হবে।”
এদিকে জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় কর্মহীন থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের সাপ্তাহিক কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। আয় না থাকায় কিস্তি দিতে গিয়ে অনেকেই নতুন করে ঋণের বোঝায় পড়েন অথবা বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেল -জরিমানার শিকার হতে হয়।

ইলিশা ঘাটের আড়ৎদার শাহাবুদ্দিন ফরাজি বলেছেন,” জেলেদের পাশাপাশি আমরাও এ ২২ দিন ক্ষতির সমুক্ষিন হবো।সরকারের উচিত এ সময়টাতে জেলেদের পাশাপাশি মাছ ব্যবসায়ীদের পাশেও দাড়ানো।”

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাকালীন খাদ্য সহায়তা হিসেবে ভোলার নিবন্ধিত ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬০০ জেলেকে ২৫ কেজি করে মোট ৩ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন চাল চাল দেওয়া হবে। তবে জেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার। নিবন্ধনের  বাহিরেও আছেন অসংখ্য জেলে। এসকল জেলেদের দাবি, তাদের যেন সরকারি প্রনোদনার আওতায় নিয়ে আসা হয়।

এদিকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল করতে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মাছ ঘাট,বাজার ও নদী তীরবর্তী এলাকায় সচেতনতা সভা, লিফলেট বিতরন করতে দেখা গেছে। উপজেলাগুলোতে টাস্কফোর্সের সভা করা হয়েছে। নদী ও সাগর মোহনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসন,নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে কার্যক্রম চালানো হবে বলেও জানা গেছে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেছেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের ২৫ কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।”জেলেরা মা ইলিশ রক্ষায় এ ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে এমনটাই প্রত্যাশা এ কর্মকর্তার।