অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬ই আশ্বিন ১৪৩৩


গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে এজাহারে যা বলা হয়েছে


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৫৪

remove_red_eye

৩৯

জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত লাশ ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় লাশ উদ্ধারের পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামকে হেফাজতে নেয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ।

সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় সোমবার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় এই দুজনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত মরিয়মের বাবা এস. এম. মাসুম বিল্লাহ।

 
মামলার অপর আসামি হলেন বাদীর শ্যালক মো. ওবায়দুর রহমান।

 

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আমি পেশায় একজন মুদি দোকানদার।

আমার তিন মেয়ে। ভিকটিম মরিয়ম (১৯) আমার বড় মেয়ে।
গত জুন মাসে ১ নম্বর আসামির সঙ্গে আমার মেয়ের ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকেই ১ নম্বর ও ২ নম্বর আসামি (গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম) তাদের বর্তমান ঠিকানার বাসায় আমার মেয়ে ভিকটিম মরিয়মকে রেখে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে মেয়ে বিভিন্ন সময় আমাদের মোবাইলে জানায়।

এজাহারে বাদী আরও বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার সময় ১ নম্বর আসামি আমাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বর্তমান ঠিকানার বাসায় যেতে বলে। তখন আমি আমার শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে একটি সিএনজিযোগে ১ নম্বর আসামির বর্তমান ঠিকানায় আসি। বাসায় এসে দেখি যে অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত আছে। তখন আমি জানতে পারি যে ১ নম্বর আসামির বর্তমান ঠিকানার বাসার ভেতরের রুমে আমার মেয়ে ভিকটিম মরিয়ম (১৯) ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে মর্মে তারা জানালা দিয়ে দেখেছে। রুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো আছে। তখন আমার উপস্থিতিতে শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় সাক্ষী মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬), (পিডব্লিউডিতে প্লাম্বার হিসেবে অস্থায়ী কর্মরত) সাবল দিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আমার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকা অবস্থায় দেখতে পাই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, তখন আমার মেয়ের বিছানার উপরে তার লেখা একটি সুইসাইড নোট পাই। যাতে লেখা আছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই... তাহা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই... আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি। আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষে দাঁড়িয়ে মুখে হাসি রেখেছি ভেবে নাও এই হাসির কারণেই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ’, আরও অনেক কিছু লেখা আছে।

আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি ২০ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ৩টা হতে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে আমার মেয়ে ঘটনাস্থলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আমার মেয়ে মরিয়মের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ মর্গে প্রেরণ করেন।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, ৩ নম্বর আসামি মো. ওবায়দুর রহমানের (৩৮) প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় ১ নম্বর আসামির সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। পরবর্তীতে ১ নম্বর আসামি জিএম নজরুল ইসলাম এবং ২ নম্বর আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলাম দুজনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় আমার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছে।