অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৮শে ভাদ্র ১৪৩৩


মনপুরায় জানাযা ও মৃত্যুর পর খাওয়ানো টাকা জমিয়ে মারা গেলেন ভারসাম্যহীন এক ভিক্ষুক


মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ০৮:২২

remove_red_eye

১৮

নিজের ভিক্ষা করা জমানো টাকায় দাফন
 
মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরায় নিজের জানাযা ও মৃত্যুর পর মানুষকে খাওয়ানোর জন্য একটু একটু করে টাকা জমিয়ে রাখতেন সত্তোর উর্ধ্ব এক ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক। স্থানীয়রা কাছে তিনি মপুর বাপ নামে পরিচিত হলেও প্রকৃত নাম ওয়াহাব পাটোয়ারী।
 
মৃত্যুর পর দাফনের খরচের কারণে জানাযা ও দাফন না হওয়ার আশংকা থেকে এই কাজ করতেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে ভিক্ষার টাকা-পয়সা জমা রাখতেন।
 
শুক্রবার ভোর রাত ৪ টায় ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক ওয়াহাব পাটোয়ারী উপজেলার বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নে কবির বাজারে নিজের মেয়ের বাড়িতে মৃত্যুবরণ করে।
 
পরে শুক্রবার জুম্মা নামাজের আগে তার জমানো টাকায় দিয়ে দাফনের কাপড় কিনে বিচ্ছিন্ন কলাতলীত ইউনিয়নের মনির বাজার জামে মসজিদে জানাযা শেষে দাফন করে স্থানীয়রা।
ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক সত্তর উর্ধ্ব ওয়াহাব পাটোয়ারী ওরপে মফুর বাপ উপজেলার মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক ওয়াহাব পাটোয়ারী সারাদিন বাজারে বাজারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন। ভিক্ষা করে যা টাকা-পয়সা পেতেন তা পুঁটলি (পলিথিন মোড়ানো) করে রাখতেন। পরে রাতে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদারের কাছে ওই টাকা-পয়সা আমানত রাখতেন। মৃত্যুর দিন ভারসাম্যহীন ভিক্ষুক রাতে মেয়ের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
 
ভিক্ষুকের মৃত্যুর পর চেয়ারম্যানের কাছে আমানত রাখা গচ্ছিত টাকা-পয়সার পুঁটলি গণনা করে ৮ হাজার নয়শত পঁচাশি টাকা পাওয়া যায়। তখন আলাউদ্দিন চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত ৫ হাজার টাকা, সাবেক যুবদল সভাপতি রাজিব চৌধুরী ৫ হাজার টাকা ও ব্যবসায়ী শাহীন দুই হাজার টাকা তুলে দেন ওই ভিক্ষুকের আত্নীয়দের কাছে।
স্থানীয়রা জানান, ওয়াহাব পাটোয়ারী মাথা সমস্যার পর থেকে পরিবারের সাথে থাকতেন না। পথে-বাজারে ভিক্ষা করতেন। পথে-ঘাটে ঘুমাতেন। পরিবার ও আত্নীস্বজনদের কাছে যেতেন না। ভিক্ষে করা টাকা সাবেক চেয়ারম্যানের কাছে রাখতেন। মৃত্যুরপর সাবেক চেয়ারম্যান ভিক্ষুকের জমানো টাকা ফেরত দিয়ে অনন্য নিদর্শন স্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই ব্যাপারে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন হাওলাদার ও উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি রাজিব চৌধুরী জানান, হৃদয়বিদারক ঘটনা। নিজের দাফনের টাকা নিজে জমিয়ে রেখেছেন। ওয়াহাব পাটোয়ারী ( ভিক্ষুক) দাদা'র ওছিয়ত মতে সবকিছু করা হবে। স্থানীয়রা সবাইমিলে আয়োজন করে খাওয়ানো হবে।