অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট ২০২৬ | ২৯শে শ্রাবণ ১৪৩৩


জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতি করলে ১০ বছরের কারাদণ্ড


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ই আগস্ট ২০২৬ দুপুর ০১:০১

remove_red_eye

৩৮

কোনো ব্যক্তি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শনের ক্ষতিসাধন করলে অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আর জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার ও নষ্ট করলে অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রণীত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইন ২০২৬’-এ এমন বিধান রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, নিদর্শন ও দলিলাদি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শনের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল আইনটি প্রণীত হয়।

 

ছবি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

 

এই আইনের আলোকে প্রতিষ্ঠিত চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখার জন্য গড়ে তোলা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর গত ৫ আগস্ট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরদিন থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয় ঐতিহাসিক এই জাদুঘর।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আইনের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘরের প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকার গণভবনে। আর ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনামলে যেসকল গোপন কারাগারে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলো জাদুঘর হিসাবে ঘোষণা, সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করার অধিকার জাদুঘরের থাকবে। এক্ষেত্রে কোনো গোপন কারাগার যদি কোনো সংস্থার অধীন থাকে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত সংস্থা তা যে অবস্থায় রয়েছে সেই অবস্থাতেই জাদুঘরের নিকট হস্তান্তর করতে বাধ্য থাকবে এবং মানবতাবিরোধী কারাগারসমূহ জাদুঘরের শাখা জাদুঘর হিসাবে পরিগণিত ও পরিচালিত হবে।

 

 

আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, এই জাদুঘরের কার্যাবলির মধ্যে রয়েছে- জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও পলায়ন সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শন ও স্মৃতিচিহ্ন, পূর্ববঙ্গের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংশ্লিষ্ট নিদর্শন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারবিরোধী কার্যক্রম ও ফ্যাসিবাদের উত্থান সংক্রান্ত স্মৃতিচিহ্ন, প্রামাণ্য দলিল, সংশ্লিষ্ট বস্তু ও নিদর্শন অনুসন্ধান, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শন।

আইনের ১৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘর, পর্ষদের সুপারিশ ও সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে প্রদর্শন ও সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বা অন্য কোনো জাদুঘর বা কোনো ব্যক্তির সাথে জুলাই অভ্যুত্থানের নিদর্শন স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে বিনিময় করতে এবং উপহার প্রদান বা গ্রহণ করতে পারবে। তবে এরূপ স্থায়ী বা অস্থায়ী বিনিময়, উপহার প্রদান বা গ্রহণ করতে হলে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে।

 

ছবি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

 

আইনের ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট কোনো নিদর্শন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট রয়েছে মর্মে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকলে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মচারী উক্ত স্থান পরিদর্শন করতে পারবে এবং এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধান অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

জাদুঘরে প্রবেশাধিকার বিষয়ে আইনের ১৭ ধারায় বলা হয়েছে, পর্ষদ কর্তৃক নির্ধারিত প্রবেশ মূল্যের বিনিময়ে জনগণের জাদুঘরে প্রবেশাধিকার থাকবে।

আইনের ২২ ধারায় স্থাবর নিদর্শন ধ্বংস বা বিনষ্ট করলে দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো স্থাবর নিদর্শন বা উহার অংশবিশেষ ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করলে তা হবে অপরাধ এবং সে জন্য তিনি অনধিক ১০ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের কোনো অস্থাবর নিদর্শন চুরি, পাচার, ধ্বংস, বিনষ্ট, পরিবর্তন বা ক্ষতিসাধন করলে তা অপরাধ হবে এবং সেজন্য তিনি অনধিক পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অন্যদিকে ২৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি জাদুঘরের সংগৃহীত বা নিবন্ধিত কোনো নিদর্শনের উপর খোদাইকরণ, লিখন, লিপি উৎকীর্ণ বা স্বাক্ষর করলে তা হবে অপরাধ এবং সেজন্য তিনি অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

 

ছবি: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

 

এদিকে আইনের ২৫ ধারায় বলা হয়েছে, জাদুঘরের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উল্লিখিত ধারায় অপরাধসমূহের দায়ে অভিযুক্ত হলে প্রচলিত দণ্ডের পাশাপাশি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা যাবে। এক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলমান থাকলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।