কর্মসংস্থানের অভাবে বেড়েছে বেকারত্ব
জুয়েল সাহা বিকাশ : ভোলায় প্রচুর পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ থাকলেও আজ গড়ে উঠেনি পর্যপ্ত শিল্পকারখানা। ফলে তৈরি হয়নি বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান। অথচ ভোলার গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন শিল্প কারখানায়। তাই প্রয়োজনের তাগিতে ভোলার মানুষ কর্মসংস্থানের সন্ধানে ছুঁটে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগড়ি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে সচেতন মহলের দাবী কর্মসংস্থানের অভাবে ভোলায় বেকাত্ব ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড হচ্ছে।
ভোলা সুন্দরবন গ্যাস কোম্পনি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ৯০ দশকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর একে একে এখন পর্যন্ত ভোলা নর্থ ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র আরো দুইটি গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার হয়। ভোলার তিনটি গ্যাসক্ষেত্রের ৯টি কূপে প্রায় ২/৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট মজুদ রয়েছে। ওই গ্যাস ভোলার গ্যাস ভিত্তিক ৭টি শিল্প কারখানা, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লি: এর ২ টি সংযোগ, তিনটি পাওয়ার প্লান্টে, ভোলা সদরে ২ টি বাণিজ্যিক ও ভোলা পৌর সভার এলাকায় ২ হাজার ৩৭৬ টি ও বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকায় মাত্র ৫টি আবাসিক সংযোগে ব্যবহার হচ্ছে।
ভোলার স্থানীয় বাসিন্দা নূর মো: রুবেল জানান, ভোলার তিনটি গ্যাস ক্ষেত্রের ৯টি কূপে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস মজুদ রয়েছে। কিন্তু বিগত সরকারগুলো সেই গ্যাস দিয়ে ভোলায় শিল্প কারখানা গড়ে তোলেনি। যার ফলে ভোলার উন্নয়ন হয়নি। আমরা চাই বর্তমান সরকার ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে গ্যাস ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলে।শিক্ষিত বেকার যুবক মো: মেহেদী হাসান জানান, প্রতি বছরই ভোলা জেলের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বা সমমান পাশ করে প্রায় হাজারও শিক্ষার্থীরা বের হচ্ছে। কিন্তু তারা ভোলায় চাকরি সুযোগ পাচ্ছেন না। অথচ ভোলায় প্রচুর গ্যাস আছে সেই গ্যাস দিয়ে পর্যপ্ত শিল্প কারখানা গড়ে উঠেনি। যার ফলে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছে না। শিক্ষার্থী তাহমিনা ইসলাম শিশু জানান, তিনি ভোলা কলেজে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্রী। পড়াশুনা শেষ করে কোন বেসরকারি চাকরি জন্য ভোলায় কর্মসংস্থান নেই। তাই বেসরকারি চাকরি জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে করতে হবে। এসব কারণে আমাদের ভোলার মেয়েরা সরকারি চাকরি না পেলে বেকার থাকে।
তিনি আরো জানান, ভোলায় যদি পর্যপ্ত শিল্প কারখানা থাকতো তাহলে কর্মসংস্থান থাকতো। তখন শিক্ষার্থীরা পড়াশুনার পাশাপশিও চাকরি করে সংসারের হাল ধরতে পারতো। আরেক শিক্ষার্থী জিদান আনাবিল জানান, ভোলার বেকার যুবকরা কর্মসংস্থানের সন্ধানে ছুঁটে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগড়ি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তারপরও দিন দিনই বাড়ছে ভোলায় বেকারত্ব। যদি ভোলায় গ্যাস ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠতো তাহলে ভোলার যুবকদের কর্মসংস্থান হতো । তখন আর কেউ কর্মসংস্থানের জন্য ভোলার বাহিরে যেনো না। তাই আমি বর্তমান সরকারের কাছে দাবী করছি পর্যপ্ত শিল্প কারখানা স্থাপন করে বেকারত্ব দূরের জন্য ।ভোলা জেলার সুজনের সভাপতি মোবাশ্বের উল্লাহ চৌধুরী ও ভোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল হক অনু জানান, কর্মসংস্থানের অভাবে ভোলায় দিন দিনই বাড়ছে বেকারত্ব। আর বেকারত্বের কারণে অপরাধ মূলক কর্মকান্ড বাড়ছে। অপরাধ নির্মূলে ভোলায় গ্যাস ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তুলে বেকারত্ব দূর করা জরুরী প্রয়োজন বলে জানান তারা।
অন্যেদিকে ভোলা পরিচালক তরিকুল ইসলাম কায়েদ গত ১৮ বছর ভোলায় গ্যাসর উপর নির্ভর করে শিল্প কারখানা গড়ে না উঠায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিগত সরকারের আমলে শিল্প উদ্যোক্তারা ভোলায় শিল্প কারখানা করতে এসে নানাভাবে চাঁদাবাজী শিকার হয়ে চলে গেছেন। যার কারণে ভোলায় পর্যাপ্ত শিল্প কারখানা গড়ে উঠেনি। কিন্তু বর্তমানের আগের মত পরিস্থিতি নেই তাই এবার শিল্প কারখানা গড়ে উঠার আশা করছেন। পাশাপাশি তিনি দাবী করেন ভোলায় শিল্প কারখানার গড়ে উঠলে পণ্যের উৎপাদন খরচ অনেক কম হবে।ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, ভোলা গ্যাস ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে অবহিত করেছেন। ভোলায় শিল্প কারখানা করতে চাইলে উদ্যোক্তাদের সব ধরণের সহযোগীতা করা হবে। এছাড়াও ভোলায় পর্যন্ত শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে বেকারত্ব দূর হবে বলে জানান তিনি।