অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ২৭শে জুলাই ২০২৬ | ১২ই শ্রাবণ ১৪৩৩


ফিরে দেখা ২৭ জুলাই ২০২৪: কী হয়েছিল সেদিন


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭শে জুলাই ২০২৬ বিকাল ০৪:২৮

remove_red_eye

২০২৪ সালের ২৭ জুলাই। সারাদেশে কারফিউ। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। একের পর এক সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

রাজধানীর ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের মজুমদারকে তুলে নিয়ে যায় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরও দুই সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহকে হেফাজতে নিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এ ছাড়াও, গভীর রাতে হাতিরঝিলের বাসা থেকে ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে আটক করা হয়। তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুনের নেতৃত্বে আন্দোলনরতদের তুলে নেওয়া হয়। পাশাপাশি, সারাদেশে ব্লক রেইড নামে গণ-গ্রেফতার চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

‎জুলাই আন্দোলনকে ঘিরে সারাদেশে বিক্ষোভ, সংঘাত, ভাঙচুর, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাভেদে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, লেখক ও বুদ্ধিজীবীদের একটি বড় অংশ জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারকে চিঠি লিখে বাংলাদেশে চলমান সহিংসতা ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি এবং শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

‎ওইদিন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান এক বিজ্ঞাপ্তিতে জানিয়েছিলেন, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হামলা, নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে গ্রেফতার ব্যক্তিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী চক্রের নির্দেশনায় তারা হামলা ও নাশকতায় অংশ নেয়।

‎এসব ঘটনার পর রাতে অনলাইনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন তিন দাবিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। এসব দাবি মানা না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার কথা জানান তারা। শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে ছিল- রোববারের মধ্যে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদসহ আটক সব শিক্ষার্থীর মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও শিক্ষার্থী গণহত্যার সঙ্গে জড়িত মন্ত্রী পর্যায় থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষকরা কঠোর অবস্থান নেন। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের প্রতি হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানায়।

‎জুলাইয়ের শেষভাগে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিরুদ্ধে সরকারের দমন-পীড়ন ও সহিংসতা তীব্র হয়ে ওঠে। ২৭ জুলাই রাত পর্যন্ত কোটা আন্দোলনের সময় সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজধানীসহ সারাদেশে ৭৩৬টির বেশি মামলা হয়। ঢাকাসহ সারাদেশে ৭ হাজারের অধিক ব্যাক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। আন্দোলনে ঢাকাসহ সারাদেশে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।

সমন্বয়কদের আটকের পর অফলাইনে সরব আন্দোলন

ঢাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ আন্দোলনে সরব ৫ সমন্বয়ককে গ্রেফতারের পর ২৮ জুলাই থেকে সারাদেশে অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারণা চালানো, বিভিন্ন দূতাবাসে দলিল পেশ করা এবং দেওয়াল লিখন কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

২৯ জুলাই থেকে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা, উপজেলা ও নগরকেন্দ্রিক ‘হেলথ ফোর্স’ গঠন করে আহত-নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি এবং আহত-নিহত ছাত্র-নাগরিক ও তাদের পরিবারকে মানসিক এবং আর্থিকভাবে সহযোগিতা এবং ‘লিগ্যাল ফোর্স’ গঠন করে শিক্ষার্থীদের নামে মামলার ডকুমেন্টেশন এবং যাদের আইনি সাহায্যের প্রয়োজন তাদের সেই সাহায্যের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিন, সমন্বয়ক মাহিন সরকার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সরকার দাবি করছে আন্দোলনের মূল দাবি মানা হয়েছে। কিন্তু আমরা দাবি করেছিলাম একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে সমস্যার সমাধান করতে হবে, সেটি হয়নি। তাই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাখ্যান করছি।

অন্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছিলেন, এখন পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

আন্দোলন ঘিরে সরকার ও বিরোধীদের যৌথ বিবৃতি

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার উদ্দেশ্যেই এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।

অপরদিকে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রের দমননীতির নিন্দা করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন।





স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম প্রতিস্থাপনে উচ্চ পর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী

যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ মঙ্গলবার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ মঙ্গলবার

গভীর নিম্নচাপে উত্তাল উত্তর বঙ্গোপসাগর, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

গভীর নিম্নচাপে উত্তাল উত্তর বঙ্গোপসাগর, ৩ নম্বর সতর্কসংকেত

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানী ভাতা বাড়াল সরকার

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সম্মানী ভাতা বাড়াল সরকার

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্পিকারকে চিঠি, যা জানালো ইসি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে স্পিকারকে চিঠি, যা জানালো ইসি

দেশের ৮ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস

দেশের ৮ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস

গ্যাস সংকট নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

গ্যাস সংকট নিয়ে সুখবর দিলেন প্রতিমন্ত্রী অমিত

আরও...