রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলেও অবসরকালে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে অবসরভাতা, একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট এবং দাপ্তরিক ব্যয়, মন্ত্রীর প্রাপ্য চিকিৎসা-সুবিধাদির সমপরিমাণ চিকিৎসা-সুবিধাদি; সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার; একটি টেলিফোন সংযোগ এবং একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট।
বিনা ভাড়ায় দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে অবস্থানের সুযোগও পেয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি।
মেয়াদ শেষ হওয়া বা পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতির জন্য এতসব সুযোগ দেওয়া আছে ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন, ২০১৬’ আইনে।
শপথের তিন বছরের মাথায় ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়ে রোববার (২৬ জুলাই) বিকেলে গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কের নিজ বাড়ি ‘গ্রিন ভিলা’য় উঠেছেন তিনি।
রাষ্ট্রপ্রধানের পদ ছেড়ে দেওয়ায় তিনি কী সুবিধা পাবেন, বা কোনো সুবিধা পাবেন কি না তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। আইন বলছে, একজন রাষ্ট্রপতি ন্যূনতম ছয় মাস পদে থাকলে পরে তিনি আইন অনুযায়ী উল্লিখিত সব সুবিধা পাবেন।
সে হিসেবে সাহাবুদ্দিনও এসব সুবিধাভোগী হবেন।
আইনের ৩ ধারা মতে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে অন্যূন ছয় মাস অধিষ্ঠিত থেকে পদত্যাগ করলে অথবা মেয়াদ সমাপ্তির কারণে ওই পদে অধিষ্ঠিত না থাকলে, তিনি আমৃত্যু রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার আহরিত সর্বশেষ মাসিক বেতনের ৭৫ (পঁচাত্তর) শতাংশ হারে মাসিক অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী হবেন।
তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে অন্য কোনো চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করে অবসরভাতা পেলে ভিন্ন কথা। এখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ইচ্ছা অনুযায়ী যে কোনো একটি গ্রহণ করতে পারবেন।
অবসরভাতা গ্রহণ করে কোনো সাবেক রাষ্ট্রপতির মৃত্যু হলে তার স্ত্রী, বিপত্নীক স্বামী অবসরভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিক অবসরভাতা পাবেন।
ধারা ৪ অনুযায়ী অবসরভাতার পরিবর্তে আনুতোষিক গ্রহণ করতে পারবেন। আনুতোষিকের পরিমাণ এক বছরের জন্য প্রদেয় অবসরভাতার তত গুণ হবে, যত বছর কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত থাকবেন।
শুধু অবসরভাতা বা আনুতোষিকই নয়, সাবেক রাষ্ট্রপতি আরও বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন।
আইনের ৫ ধারা মতে, একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট এবং দাপ্তরিক ব্যয় পাবেন। যেটা সময়ে সময়ে সরকার নির্ধারণ করবে। একজন মন্ত্রী যে ধরনের চিকিৎসা-সুবিধাদি পান, একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিও সে ধরনের চিকিৎসা-সুবিধা পাবেন।
এছাড়া সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনামূল্যে সরকারি যানবাহন ব্যবহার; আবাসস্থলে একটি টেলিফোন সংযোগ এবং একটি কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন।
পাবেন দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণকালে সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় অবস্থানের সুবিধা।
তবে ৬ ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধা লাভের অধিকারী হবেন না, যদি তিনি- (ক) রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠান শেষে এমন কোনো দপ্তরে, আসনে, পদে বা মর্যাদায় দায়িত্ব পালন করছেন বা করেছেন, যার জন্য তিনি সংযুক্ত তহবিল হতে বেতন বা অন্য কোনো সুবিধা পাচ্ছেন বা পেয়েছেন; (খ) এই আইনের অধীন অবসরভাতার প্রাধিকার অর্জনের পর কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নৈতিক স্খলনজনিত কোনো অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হন; অথবা (গ) অসাংবিধানিক পন্থায় বা অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বা হয়েছিলেন মর্মে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক ঘোষিত হন’।
পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুসারে যেসব সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার, সেটা তিনি পাবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার জন্য আইন অনুযায়ী ছয় মাস পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা সুবিধা রয়েছে। এ সময় তিনি এসএসএফ, পিজিআরসহ নির্ধারিত নিরাপত্তা পাবেন। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’