বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩শে জুলাই ২০২৬ সকাল ১০:০১
১১০
ভোলা-বরিশাল অংশের সম্ভাব্যতা যাচাই
বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক : দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ভোলা-বরিশাল-জাজিরা-মাওয়া-আমিনবাজার পাইপলাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোলা থেকে বরিশাল, খুলনা ও ঢাকা পর্যন্ত পৃথক পাইপলাইন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির কার্যবিবরণী ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভোলার গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১৮২ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে ১২২ এমএমসিএফডি স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং প্রায় ৩০ এমএমসিএফডি গ্যাস উদ্বৃত্ত থাকলেও পাইপলাইন না থাকায় তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ভোলা-বরিশাল পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। এ অংশের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার সাব-সি (সমুদ্রতল) পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাড়ে তিন বছর সময় লাগবে এবং এতে ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বিশেষ কমিটিকে জানিয়েছেন, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেলে দেশের গ্যাস সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১১৫ কোটি ঘনফুট। ফলে ঘাটতি পূরণে সরকারকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
এদিকে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নতুন সম্ভাবনাময় এলাকায় সাইসমিক জরিপ চলছে। ভোলার চরফ্যাশনে ৬৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনা বাড়াবে।
একই সঙ্গে দেশীয় অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদারে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন দুটি আধুনিক ড্রিলিং রিগ কেনা, জনবল প্রশিক্ষণ এবং যৌথ উদ্যোগে (জয়েন্ট ভেঞ্চার) কাজের মাধ্যমে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরের ২৬টি অফশোর ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক বিডিং আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থলভাগের (অনশোর) নতুন এলাকাতেও অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব গ্যাসসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সেই লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংসদে দেওয়া মন্ত্রণালয়ের জবাব এবং সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির কার্যবিবরণীতে কূপ খনন, সাইসমিক জরিপ, ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনা, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা, অনশোর-অফশোর বিডিং এবং জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজউদ্দীন খানের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সংসদে জানান, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে মজুদকৃত বা অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস আছে ৭ লাখ ৬৩ হাজার কোটি ঘনফুট। আটটি গ্রাহক শ্রেণিতে অনুমোদিত গ্যাস লোড অনুযায়ী, দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের বর্তমান চাহিদা দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এপ্রিল পর্যন্ত গড়ে সরবরাহ হয়েছে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট। সে হিসাবে দৈনিক ঘাটতির পরিমাণ ১১৫ কোটি ঘনফুটের মতো। মন্ত্রণালয়ের তথ্য ধরে হিসাব করলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি প্রায় ৩০ শতাংশ; সরবরাহ হচ্ছে চাহিদার ৭০ শতাংশের মতো। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানায়, দেশীয় উৎসের পাশাপাশি দৈনিক প্রায় ৯০ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস আমদানির প্রয়োজন পড়ে। কমিটির কার্যবিবরণীতে এপ্রিল-মে সময়ের এলএনজি আমদানি ব্যয়ের হিসাবও এসেছে। সেখানে বলা হয়, এপ্রিল মাসে ৯টি এলএনজি কার্গো আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা। মে মাসে ১১টি কার্গো আমদানিতে ব্যয় ধরা হয় ৭ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। তখনকার তিন মাসের হিসাবে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ২২ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আয় ১০ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। সে হিসাবে ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। এলএনজি আমদানির এই ব্যয়ই দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর যুক্তিকে সামনে আনছে। ১৫০ কূপে সরকারের ভরসা সরকার ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা নিয়েছে। সংসদে দেওয়া মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে ২৮টি কূপের খনন ও ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট কূপের জন্য ডিপিপি অনুমোদনসহ অন্যান্য কার্যক্রম মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা ও কোম্পানি পর্যায়ে চলমান। বিশেষ কমিটির কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, এসব কূপের মধ্যে যেগুলোর খনন ও ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে, সেখানে প্রত্যাশিত ৩৩ কোটি ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে ২৫ কোটি ঘনফুট নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ১৫০টি কূপ খনন শেষ হলে জাতীয় গ্রিডে আরো অন্তত ১৮৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নতুন কূপ খননের স্থান চিহ্নিত করতে সাইসমিক জরিপের কাজও হাতে নিয়েছে সরকার। সংসদে সরকারের তরফে জানানো হয়, ব্লক-৭ ও ৯-এ প্রায় ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার দ্বিমাত্রিক সাইসমিক ডেটা আহরণ করে উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের কাজ চলছে। হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক সাইসমিক ডেটা আহরণের কার্যক্রম শিগগির শুরু হবে। এর বাইরে ভোলার চরফ্যাশনে ৬৬০ বর্গকিলোমিটার, জামালপুরে ৬৫০ বর্গকিলোমিটার, তিতাস, হবিগঞ্জ ও নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্র সংলগ্ন ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এবং লামিগাঁও, লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাশটিলা সাউথ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচারে ৮৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক সাইসমিক জরিপের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাপেক্সের সক্ষমতা কতটুকু দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্সকে শক্তিশালী করার কথা সরকারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেয়েছে। সংসদে দেওয়া জবাবে বলা হয়েছে, বাপেক্সের জন্য দুটি নতুন রিগ কেনার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে একটি ২ হাজার হর্স পাওয়ার এবং অন্যটি ১ হাজার ৫০০ হর্স পাওয়ার ক্ষমতার। কিন্তু বিশেষ কমিটির বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, অভিজ্ঞতার অভাবে বাপেক্স অফশোর বিডিংয়ে অংশ নিতে পারছে না। বাপেক্সকে শক্তিশালী করার জন্য একটি বিজনেস প্ল্যান করা হয়েছে। শুরুতে জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করা এবং কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে কূপ খননের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার হর্স পাওয়ার ও দেড় হাজার হর্স পাওয়ার ক্ষমতার দুটি রিগ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে অর্থায়নকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন না তিনি। তার মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় কিছু ঘাটতি থাকলেও মূল বিষয় সময় ও প্রক্রিয়া। আব্দুল মান্নান বলেন, “অর্থায়নের ঘাটতি বলা ঠিক হবে না। প্রযুক্তির ঘাটতি ধরেন একটু তো আছেই। বাপেক্স তো এতটা অভিজ্ঞতা এখনও ওভাবে অর্জন করেনি। আর এ কাজটা এত দ্রুত সময়ে করা যায় না।” একটি কূপ খননে প্রায় এক বছরের মতো সময় লাগে জানিয়ে তিনি বলেন, মাটির নিচের গ্যাস নিশ্চিত করতে আগে জরিপ, সম্ভাবনা যাচাই ও সিদ্ধান্তের ধাপ পেরোতে হয়। অনশোর বিডিংয়ের উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “পরিকল্পনা আছে; বাস্তবায়নের পর্যায়ে গেলে তা দেখা যাবে।”
তথ্য সূত্র বিডি নিউজ
ভোলায় স্বামীকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
বোরহানউদ্দিনে ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের প্রধানসহ গ্রেপ্তার-৩
ভোলার মেঘনায় ভয়াবহ ড্রেজারডুবি ৩ জন উদ্ধার নিখোঁজ-১
ভোলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কমিটি থেকে যুগ্ম সম্পাদকের পদত্যাগ
মনপুরায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির কমিটি অনুমোদন
চরফ্যাসনে জলাবদ্ধতা নিরসন করলেন যুবদলের নেতা আতিক ওসমানি
চরফ্যাশনে কুইজ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ
দৌলতখানে সাঁতার প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ
লালমোহনে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু
ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় আন্তর্জাতিক দুর্নীতি বিরোধী দিবস পালিত