বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১শে জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:১২
৬৪
বছরে ২০০কোটি টাকার বেশি মাছ বেচাকেনা বদলে যাচ্ছে শত শত পরিবারের ভাগ্য
বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক : ভোলায় চরসামাইয়া গ্রামে জলকপাটপ দিয়ে নদীর পানির মাধ্যমে শত শত পুকুরে বাণিজ্যিক মাছ চাষ করে নীরব এক বিপ্লব ঘটেছে। সরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী—বিভিন্ন পেশার মানুষ এখন লাভজনক এই মৎস্য খামারে ঝুঁকে পড়েছেন। এতে করে বাড়ছে মাছের উৎপাদন, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান। অনেক চাকরি ছেড়ে মাছের খামার করে সফলতার মুখ দেখেন। আর বছরে এখান থেকে ২০০ কোটিরও বেশি টাকার মাছ বেচাকেনা হওয়ায় এই মৎস্য খাত দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে চরসামাইয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সুইজ গেটের মাধ্যমে নদীর পানি পুকুরে প্রবেশ করিয়ে তেলাপিয়া, পাঙাস, রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বাণিজ্যিক চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে ইউনিয়নের ৫ শতাধিক মাছ চাষি এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, দোকানদারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ নিজ নিজ পেশার পাশাপাশি মাছ চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। অনেকেই একটি পুকুর দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও এখন ১০, ২০ এমনকি ৩৫টি পর্যন্ত পুকুরের মালিক হয়েছেন। কেউ কেউ মাছ চাষের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন কোটি টাকার সফল খামার। তেমনি এক মাছ চাষি মাকসুদ মাতাব্বরের ভাষ্য, “শূন্য থেকে শুরু করেছিলাম মাছ চাষ।আজ ৩৫টি পুকুরে মাছ চাষ করছি।নদীর পানিতে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। খাবারের খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও কমে আসে। পরিশ্রম করলে মাছ চাষে ভালো লাভ করা সম্ভব।”
আরেক মাছ চাষি মো. সানাউল্লাহ বললেন, “আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি মানুষ মাছ চাষে আসছেন। বাজারে মাছের ভালো দাম থাকায় সবাই উৎসাহ পাচ্ছেন।এ এলাকা থেকে বছরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মাছ কেনা বেচা হয়।”
প্রতিদিন ভোররাত থেকেই চরসামাইয়ার বিভিন্ন পুকুরে মাছ আহরণ শুরু হয়। মাছ ধরা শুরু হতেই ভোলা, বরিশালসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক, পিকআপ ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ছুটে আসেন। কেনাবেচা শেষে এসব মাছ জেলার বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। স্থানীয় মাছ চাষিদের দাবি, শুধু চরসামাইয়া ইউনিয়ন থেকেই বছরে ২০০ কোটিরও বেশি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়। লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন নতুন উদ্যোক্তা যুক্ত হচ্ছেন এই খাতে।
নতুন উদ্যোক্তা আমির হোসেন বললেন, “ঢাকা থাকতাম আগে।এলাকায় এসে কি করবো বুঝতে পারছিলাম না।পরে অন্যদের সফলতা দেখে মাছ চাষ শুরু করেছি। শুরুতেই ভালো ফল পেয়েছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মাছ চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।”
এদিকে চরসামাইয়ার মাছ শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। এখান থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাছ সংগ্রহ করে পাইকাররা জেলার বিভিন্ন খুচরা বাজার, হাট-বাজার এবং পাড়া-মহল্লায় সরবরাহ করেন। মাছের মান ভালো এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় ব্যবসাও ভালো হচ্ছে বলে জানান পাইকারী কয়েকজন মাছ ব্যবসায়ী।
এদের মধ্যে পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন বলেছেন, “এখানকার মাছের মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর আলাদা চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন মাছ কিনে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। ব্যবসায় ভালো লাভ হচ্ছে।”
আরেক পাইকারি মাছ ব্যবসায়ী মো. ফোরকান জানান, চরসামাইয়া এখন মাছের বড় সংগ্রহকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে নিয়মিত মাছ কিনে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন। মাছের চাহিদা ভালো থাকায় তারাও লাভবান হচ্ছেন।
অন্যদিকে মাছ চাষকে কেন্দ্র করে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থান। মাছ ধরা, বাছাই, ওজন করা, খাদ্য সরবরাহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণসহ বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন শত শত শ্রমিক কাজ করছেন। নদীতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক জেলেও পেশা বদলে এখন মাছের খামারে কাজ করছেন। এই আয়ের ওপর নির্ভর করেই চলছে তাদের সংসার।
শ্রমিক মো. কাজল বললেন, “আগে নিয়মিত কাজ পাওয়া যেত না। এখন প্রায় প্রতিদিনই মাছের খামারে কাজ করি। এতে পরিবারের খরচ চালাতে আর আগের মতো কষ্ট হয় না।”
আরেক শ্রমিক মো. জামালের ভাষ্য, “মাছ চাষের কারণে আমাদের মতো অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। নিয়মিত কাজ থাকায় সংসার ভালোভাবে চলছে।”
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তির আরও বিস্তার এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হলে চরসামাইয়া ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক মাছ উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। মাছ চাষকে কেন্দ্র করে এই জনপদে যে নীরব বিপ্লব শুরু হয়েছে, তা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হবে বলেও তাদের প্রত্যাশা।
ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ভূইয়া জানান, ভোলা সদর উপজেলায় ৮ হাজার ৫ শত পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে চরসামাইয়া ও দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নে। চরসামাইয়ার মাছ চাষিরা জেলার মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরামর্শ দিয়ে তাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মৎস্য চাষ কে সম্প্রসারণ করা যায় তা হলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে ও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান হবে। এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রনী ভূমিকা পালন করবে।
একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন
বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় : তথ্যমন্ত্রী
অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, আগস্টে তফসিলের প্রস্তুতি ইসির
মাদ্রাসায় প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ ফুটবলের দল গঠনের নির্দেশ
এসএসসির ফল প্রকাশ নিয়ে বোর্ডের নতুন সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ-নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর সুপারিশ ইকোসকের
আরও ৫ দিন বৃষ্টির আভাস, উপকূলে অতিভারী বর্ষণের শঙ্কা
এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক হচ্ছে
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপির কবর রচিত হবে: সারজিস আলম
এমপি পদ হারাতে পারেন গাজী নজরুল
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক