অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শুক্রবার, ১৭ই জুলাই ২০২৬ | ২রা শ্রাবণ ১৪৩৩


মনপুরায় জোয়ারের পানিতে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ


মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭ই জুলাই ২০২৬ রাত ০৮:২৬

remove_red_eye

১১

মেঘনার পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত
 
মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরায় মেঘনার পানি বিপদসীমার ওপর প্রবাহিত হয়ে বেড়ীবাঁধের ভিতর ও বাহিরে নিম্নাঞ্চল ৫-৬ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও ঢাকা যাওয়ার একমাত্র রামেনওয়াজ লঞ্চঘাটটি জোয়ারের পানিতে ডুবে যাওয়ায় ঢাকাগামী শত শত যাত্রীরা বিপাকে পড়েন।
 
এদিকে উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন বেড়ীবাঁধহীন ৫ নং কলাতলীর ইউনিয়নের চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচরের অবস্থা খুবই নাজুক। ওই সমস্ত এলাকায় ৫-৭ ফুট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে জানান কলাতলী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আমিন তালুকদার।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় মেঘনার পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হচ্ছে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাফউদ্দৌলা। 
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডে পূর্বপাশে ৬০ কলোনীতে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বুকসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কলোনীতে বসবাসরত ৬০ পরিবারের বসবাসরত বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। কেউ ঘরের টিনের ছালে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। 
এদিকে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট এলাকায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। জোয়ারের পানি ডিঙ্গিয়ে লঞ্চ যেতে। অপরদিকে বেড়ীবাঁধহীন ৫ নং কলাতলী ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়।
জোয়ারের প্লাবিত ষাট কলোনীতে বসবাসরত বাসিন্দা ইয়াছিন, কামাল ও সখিনা বিবি সহ অনেকে জানান, দিনে-রাতে দুইবেলা জোয়ারের পানি প্লাবিত হচ্ছে। এতে তাদের পরিবারের সকলকে নিয়ে ঘরের ওপরে টিনের চালে আশ্রয় নিতে হয়। রাতের জোয়ারে বেশি বিপাকে পড়ি। রাত হলে অপেক্ষা করতে হয় কখন জোয়ার আসবে কখন যাবে। দুর্ভোগের মধ্যে আছি।
রামনেওয়া ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ, মোস্তফা, মমিন তালুকদার জানান, রামেওয়াজ ঘাট সহ এলাকায় জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
এই বাপারে পানি উন্নয়নের বোর্ড ডিভিশন-২ নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাফউদ্দৌলা জানান, মেঘনায় জোয়ারের পানি ১০০ সেন্টিমিটার ওপর প্রবাহিত হওয়ায় বেড়ী ও বেড়ীর বাহিরে প্লাবিত হয়েছে। রামনেওয়া এলাকার পুরানো বেড়ীবাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।