অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


মনপুরা নৌরুটে ৬ মাস বন্ধ যাত্রীবাহি সীট্রাক, পণ্যবাহি ট্রলারই ভরসা মনপুরাবাসীর


মনপুরা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২রা জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৪৫

remove_red_eye

৭১

মনপুরা প্রতিনিধি : ভোলার মনপুরা-তজুমুদ্দিন নৌরুটে যাতায়াতের জন্য বিআইডব্লিউটিসির একমাত্র নিরাপদ সি-ট্রাকটি ৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে।এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পণ্য পরিবহনের ট্রলারে মনপুরা-তজুমুদ্দিন যাতায়াত করছেন শত শত যাত্রী। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের। 
 
এদিকে মেঘনার ডেঞ্জার জোনে সি-সার্ভে ব্যতিত নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ হলেও অবৈধ ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে মাসের পর মাস। তবে এসব ট্রলার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর নেই কোন তদারকী। আর বড় দূর্ঘটনা এড়াতে জরুরী ভিত্তিতে অবৈধ নৌযান নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি সচেতন মহলের। তবে এ সংকট সমাধানে শিগগিরই সি-ট্রাকটি চালুর আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।  
 
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০ টায় দেখা যায়, মনপুরা থেকে শতাধিক যাত্রী নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে তজুমদ্দিন ঘাটে আসে পণ্য পরিবহনের এই ট্রলারটি। ত্রিপল দিয়ে ঢাকা খোন্দলের মধ্যে যাত্রী। যার নেই কোন ফিটনেস সার্টিফিকেট বা যাত্রী পরিবহনের বৈধ অনুমতি। তারপরও গত ৬ মাস ধরে যাত্র্রী পরিবহন করে যাচ্ছে এই ট্রলারটি।
ওইদিন দুপুর ২ টায় তজুমদ্দিন সি-ট্রাক ঘাট থেকে মনপুরার উদ্দেশ্যে ফিরতি ট্রলারের খোন্দলে ( ট্রলারের ভিতর) তোলা হয় নারী ও শিশু সহ শতাধিক যাত্রী। যেখানে মানুষ আর মালামাল একসাথে রাখা। নেই কোন বসার স্থান, নিরাপত্তা সরঞ্জাম। প্রচন্ড গরম আর বৈরি আবহাওয়ায় হাসফাঁস অবস্থা সকলের। এর মধ্যেই জীবন ঝঁকি নিয়ে প্রমত্তা মেঘনা পাড়ি দিচ্ছে শতাধিক মানুষ। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজেই এভাবে গত ৬ মাস যাতায়াত করছেন তারা।
 
গত কয়েকদি আগে ওই ট্রলারের যাত্রী ছিলেন মনপুরা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আমিমুল এহসান জসিম। সঙ্গে তার স্ত্রী। ট্রলারে বসার কোন স্থান না পেয়ে পল্টুনে দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে ছিলেন।
 
তিনি জানান, ওই ট্রলারে যাত্রা চরম এক ভোগান্তির নাম। তারপও গত ৬ মাস বাধ্য হয়ে মনপুরার মানুষে যাতায়াত করছেন। তিনি একাধিকবার উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে জানিয়েছেন কিন্তু কোন প্রতিকার পাননি। যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে ট্রলারটি মাসের পর মাস বন্ধ রাখা হয়। মনপুরার মানুষের ভোগান্তি লাগবে ওই রুটে একটি নতুন সি-ট্রাক বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
 
এদিকে স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে মনপুরা যাওয়ার জন্য ঘাটে আসেন হাজিরহাট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তপন চন্দ্র হাওলাদার। ট্রলার দুরাবস্থা ও নদীর ঢেউ দেখে ট্রলারে উঠতে সাহস পাচ্ছেন না তিনি। তপন চন্দ্রের ভাষ্য, মনপুরার প্রতিটি মানুষ জীবনের ঝঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন। 
রহম আলী নামের অপর এক যাত্রী বলেন, মালবাহি ট্রলারের খোন্দলে করে যাত্রী, গরু ছাগল, হাঁস মুরগি ও মালামাল এক সাথে পরিহন করা হয়। যাত্রীদের বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। গরমে হাঁসফাস অবস্থা। প্রয়োজনের আইন মানে না তাই বাধ্য হয়ে যাচ্ছি এমন মন্তব্য উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা আলী আকবরের।
 
ট্রলারের যাত্রী কলেজ ছাত্র রিয়াদ জানান, ট্রলারে যাত্রীদের জন্য কোন নিরাপদ সরঞ্জামদি নাই। 
 
জানা যায়, তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাত্রীদের নিরাপদ মেঘনা পারাপারের জন্য এসটি ইলিশা নামের বিআইডব্লিউটিসি একটি সি-ট্রাক বরাদ্দ দেয়। যা গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই বন্ধ রয়েছে। অথচ সরকারের নির্দেশনা রয়েছে ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর মেঘনার ডেঞ্জার জোনে সি-সার্ভে ছাড়া কোন নৌযানে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। সরকারের এ নির্দেশনা উপক্ষো করে মনপুরা-তজুমদ্দিন নৌরুটে পণ্য পরিবহনের ট্রলারে যাত্রী পারাপার করছে। জিম্মি করে আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। বিকল্প কোন উপায় না থাকায় সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধযানে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিতে বাধ্য হচ্ছেন। জান-মালের নিরাপত্তায় দ্রুত সি-ট্রাক চালুর দাবি স্থানীয়দের।
 
এই ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসির উপ-বাণিজ্য ব্যবস্থাপক (যাত্রী) খন্দকার মুহাম্মদ তানভী হোসেন জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি ও ইজারা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সি-ট্রাকটি বন্ধ ছিল। সে জটিলতা কাটিয়ে শিগগিরই সি-ট্রাক চালু করা হবে।
 
এই ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ সহকারি পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, ডেঞ্জারজোনে সী-সার্ভে ছাড়া কোন ট্রলারে যাত্রী পারাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মনপুরা-তজুমুদ্দিন নৌরুটে চলাচলকারী অবৈধ ট্রলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।