অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


গাইড বই কোম্পানীর প্রশ্নের ফাঁদে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা


লালমোহন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩০শে জুন ২০২৬ সকাল ০৮:১৭

remove_red_eye

৬৯

লালমোহন প্রতিনিধি : সারা দেশে মাদরাসার অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষা চলছে। আর পরীক্ষার আগেই ইউটিউবে সকল শ্রেণির প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে সার্চ দিলেই। এনিয়ে ক্ষোভ অভিভাবক মহলে। সোমবার ভোলার লালমোহনে মাদরাসার অস্টম শ্রেণির আকাইদ ও ফিকহ, নবম শ্রেণির আরবী প্রথম পত্র, দমশ শ্রেণির হাদীস শরীফসহ অন্যান্য শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় । কিন্তু এসব পরীক্ষার প্রশ্ন কয়েকদিন আগেই ইউটিউবে আপলোড হয়েছে । যা সোমবারের প্রশ্ন হুবহু মিলে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লালমোহন উপজেলার প্রত্যেকটি মাদরাসা কোন না কোন গাইড কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন । গাইড কোম্পানীগুলো তাদের গাইড মাদরাসাগুলোতে পড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করে চুক্তিবব্ধ হয়। এতে গাইড কোম্পানী প্রত্যেক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে থাকে।    
ভোলার লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় আল ফাতাহ নামক কোম্পানী গাইডবই সরবরাহ করে। তারাই এই প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে প্রশ্নও সরবরাহ করে থাকে। এছাড়া বিভিন্ন মাদরাসায় দারসুন, ইমতেহান, লেকচার, পাঞ্জেরীসহ আরো কয়েকটি কোম্পানী গাইডবই সরবরাহ করে। তারাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে প্রশ্ন দেয়।
আগামী ১ জুলাই থেকে মাধ্যমিকের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেনির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানেও বিভিন্ন গাইড বই কোম্পানী প্রশ্ন সরবরাহ করে আসছে বলে জানা গেছে। 
সূত্রে জানা গেছে, লালমোহন উপজেলা মাদরাসার সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদরেছিনের দায়িত্ব প্রাপ্ত লোকজন বিভিন্ন গাইড কোম্পানির লোকজনের সাথে মাদরাসার প্রধানদের চুক্তি হতে বাধ্য করে। এতে দায়িত্ব প্রাপ্তদেরকে গাইড কোম্পানী একধরনের সুবিধা দিয়ে থাকে। গাইড কোম্পানী পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র মাদরাসার সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদরেছিনের কাছে হস্তান্তর করে। সংগঠন তখন সকল মাদরাসাগুলোতে ওই প্রশ্নপত্র বিতরণ করে। সেই প্রশ্নগুলোই পরীক্ষার আগে কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেলে পাওয়া যাচ্ছে। 
এ বিষয়ে লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও উপজেলা জমিয়াতুল মোদারেছিনের সভাপতি মাওলানা মোশাররফ হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কোম্পানীগুলো একাধিক সেটের প্রশ্নপত্র তৈরী করে থাকেন। কোনটি ইউটিউবে পাওয়া যায় তা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা কিছু প্রশ্ন হাতেও করি।   
লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর একেএম আবুল খায়েরকে এ ব্যাপরে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি ঢাকাতে প্রোগ্রামে আছি। ইউটিউবে প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে এ প্রশ্ন শুনে তিনি বলেন আমি ৩০-৩৫ বছর চাকুরি করি, ইউটিউবে প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে এটা আমার কাছে অলিক মনে হচ্ছে। আমাদের নির্দেশনা রয়েছে প্রশ্ন তৈরী করে পরীক্ষা নিতে হবে। তবে এখানে অনেক মাদরাসা প্রশ্ন তৈরী করে প্রিন্ট করার খরচ বেশি হওয়ায় তারা বিভিন্ন যায়গা থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে থাকে। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।