বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫শে জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:৪০
৩৭
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) ঐতিহাসিক গ্রেট হলে বৈঠকে মিলিত হবেন।
বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিষয়ক ১৫টি সমঝোতা স্মারক সই হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মুখপাত্র মাহদী আমিন আজ এখানে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা আশা করি, এসব চুক্তি চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি জানান, চীনের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সম্মানে একটি রাষ্ট্রীয় ভোজের আয়োজন করবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে) ঐতিহাসিক গ্রেট হলে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
মাহদী আমিন বলেন, উভয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে আমরা আশা করি, এসব আলোচনা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, যা বাংলাদেশের জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও সুসংহত করবে।’
প্রধামন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, চীনা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রসার, জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক জোরদার করা এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে আরও কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠা করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গুয়োয়িংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী খনন, নদীভাঙন রোধ, সেচ ও নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য হয়। চীনা মন্ত্রী এ খাতে একসাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আজ সকালে চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা’র যৌথ উদ্যোগে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে চীনের ৮০ জন প্রথম সারির ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে কীভাবে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা যায়, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন। একই সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা এবং বিনিয়োগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশ উৎপাদন ও শিল্প খাতের নতুন গন্তব্য হিসেবে একটি প্রতিযোগিতামূলক, নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক অংশীদার হতে পারে। তিনি জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপন এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিভিন্ন খাতে বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ১৫ দিনের কম সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নতুন লাইসেন্স প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের পার্টি-টু-পার্টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মাহদী আমিন জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এ সময় চীনা পক্ষ দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
উভয় পক্ষই উন্নয়ন, বিনিয়োগ, জনগণের সংযোগ ও পার্টি-টু-পার্টি সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র সাথে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একটি সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্বাক্ষরিত হয়।
মাহদী আমিন বলেন, ২০০২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে এসে তিনি এই দেশ থেকে অনেক সমৃদ্ধ স্মৃতি নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর বাবা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের ঐতিহাসিক সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে তাঁর মা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সাতটি স্মরণীয় সফরের মাধ্যমে সেই বন্ধুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিতা-মাতার সেই দলীয় ও পারিবারিক ঐতিহ্যকে ধারণ করে বাংলাদেশ-চীন অংশীদারিত্বকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে তাঁকে ও তাঁর প্রতিনিধিদলকে যে আন্তরিক আতিথেয়তা দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে মাথায় রেখে চীনের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।
মাহদী আমিন বলেন, আমরা দেশের স্বার্থ রক্ষা ও সম্পর্ক গঠনের ক্ষেত্রে সমতা ও ন্যায্যতাকে ভিত্তি হিসেবে ধারণ করতে চাই। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে আরও গভীর করতেই এই সফর। কৌশলগত সহযোগিতা থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক, সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, চীনে সফরকালে বেশ কয়েকটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সি, চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিনিয়োগকারী, মন্ত্রী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এবং চীন সফরে যে মর্যাদা পাচ্ছেন এবং যেভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করছেন, তা বিশ্ব দরবারে আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও মর্যাদার বিষয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।
ভোলায় যৌথ অভিযানে শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার
মনপুরার কোস্টগার্ড ও মৎস্য অফিসের যৌথ অভিযানে নিষিদ্ধ চায়না ও কারেন্ট জাল জব্দ
তিস্তা ও নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী
দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির কাছে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের পরিচয়পত্র পেশ
গ্রেট হলে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ২৮ জুন
৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করল ১১ দলীয় জোট
সুরঞ্জিতকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আরিফুল-বাবর ও গউছরা খালাস
ভোলায় বিষের বোতল নিয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকা
ভোলায় পাঁচ সন্তানের জননীকে গলা কেটে হত্যা
উৎসবের ঋতু হেমন্ত কাল
ভোলার ৪৩ এলাকা রেড জোন চিহ্নিত: আসছে লকডাউনের ঘোষনা
ভোলায় বাবা-মেয়ে করোনায় আক্রান্ত, ৪৫ বাড়ি লকডাউন
ভোলায় এবার কলেজ ছাত্র হত্যা, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার
ঢাকা-ভোলা নৌ-রুটের দিবা সার্ভিসে যুক্ত হলো এমভি দোয়েল পাখি-১র
কাশফুল জানান দিচ্ছ বাংলার প্রকৃতিতে এখন ভরা শরৎ
জাতীয় সংসদে জাতির পিতার ছবি টানানোর নির্দেশ
ভোলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন করোনা রোগী: এলাকায় আতংক