হজের খরচ কমিয়ে তা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের নাগালে আনার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ আরও সাশ্রয়ী ও যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের এক টেবিলে উত্থাপিত তারকা-চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে হজের খরচ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, হজ একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা। এর মোট ব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ খরচ সৌদি আরব সরকার নির্ধারণ করে।
এর মধ্যে মিনা ও আরাফাতের তাবু ভাড়া, পরিবহন, মোয়াল্লেম সার্ভিস চার্জ, মক্কা-মদিনায় হোটেল ভাড়া এবং ভিসা-ইনস্যুরেন্স ফি অন্তর্ভুক্ত। বাকি মাত্র এক-চতুর্থাংশ ব্যয় বাংলাদেশ অংশে হয়, যার সিংহভাগই বিমান ভাড়া।
সংসদকে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২৬ সালে হজের খরচ ১১ হাজার ৭৫ টাকা কমানো সম্ভব হয়েছে। ফলে ২০২৬ সালে সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজ নির্ধারিত হয় ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা (কুরবানিসহ)।
২০২৬ সালের হজ প্যাকেজের বিস্তারিত:
সৌদি আরব পর্বের ব্যয়: ৩ লাখ ৭৯৭ টাকা।
বাংলাদেশ পর্বের ব্যয়: ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা (এর মধ্যে বিমান ভাড়া ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা)।
২০২৭ সালের জন্য নতুন পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের জন্য একটি সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও সৌদি আরবের খরচ বিবেচনায় নিয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ আরও কমিয়ে আনা বা যৌক্তিকভাবে নির্ধারণের জন্য সরকার সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।