অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, শনিবার, ১১ই জুলাই ২০২৬ | ২৬শে আষাঢ় ১৪৩৩


ভোলায় সড়ক অবরোধ করে পাউবো ঘেরাও


বাংলার কণ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ই জুন ২০২৬ বিকাল ০৫:০৮

remove_red_eye

৪৯

মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে সিসি ব্লকের দাবিতে

নেয়ামত উল্যাহ : মেঘনা নদীর ভাঙনের কবল থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাকে রক্ষার দাবিতে সড়ক অবরোধ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঘেরাও করেছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা। এ পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ও দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের শতাধিক বাসিন্দা মিছিল নিয়ে ভোলা শহরের যুগীরঘোলে অবস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। পরে তারা সড়ক অবরোধ করে পাউবো কার্যালয় ঘেরাও করলে ভোলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ যুগীরঘোল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পাউবোর প্রধান ফটক ঠেলে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।


বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নিজেদের ভিটেমাটি রক্ষার দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেই পানি উন্নয়ন বোর্ড নামমাত্র কিছু জিওব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেগুলো তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়ায় ভাঙন আবারও শুরু হয়। ফলে প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা। পাউবো বালু ভর্তি নিন্মমানের বস্তা ফেলে । 
বিক্ষোভকারী একেএম নুর হোসেন, মো. মুনসুর, আব্দুল মোতালেব ও আমজাদ বলেন, “মেঘনা নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে চলতি বর্ষাতেই শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের অবশিষ্ট অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। হুমকির মুখে রয়েছে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধও। যে কোনো সময় বাঁধ ভেঙে শহর প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তারা আরও বলেন, “ইতোমধ্যে কয়েক দফা ভাঙনে আমরা সর্বস্ব হারিয়েছি। এলাকার অধিকাংশ মানুষ গরিব ও হতদরিদ্র। আমাদের আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। তাই আমরা স্থায়ী সমাধান হিসেবে দ্রুত সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের দাবি জানাচ্ছি।”
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, যখনই তারা সিসি ব্লকের দাবিতে আন্দোলনে নামেন, তখনই পাউবো আশ্বাস দিয়ে কিছু জিওব্যাগ ফেলে। কিন্তু তা কোনো কাজে আসে না। সম্প্রতি আবারও তীব্র ভাঙন শুরু হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ ও পাউবো ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছেন এবং দ্রুত সিসি ব্লক স্থাপনের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
তাদের ভাষ্য, “আমরা আর মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করি না। দ্রুত সিসি ব্লকের কাজ শুরু করতে হবে, অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভের পর পাউবোর কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রকল্পের আওতায় সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা এক মাসের আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেন।
ভোলা সদর মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মো. ফিরোজ আলম হাওলাদার বলেন, “সিসি ব্লকের দাবিতে স্থানীয়রা আন্দোলন করছিলেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।”
ভোলা-১ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, “শিবপুর ও মেদুয়া ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনরোধে সিসি ব্লক ডাম্পিংয়ের জন্য ৬৮৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে এটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি শিগগিরই প্রকল্পটি অনুমোদন হবে এবং কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, “স্থানীয়দের ভিটেমাটি হারিয়ে যাচ্ছে। সে বিবেচনায় তাদের আন্দোলন যৌক্তিক।”