অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, সোমবার, ১৫ই জুন ২০২৬ | ১লা আষাঢ় ১৪৩৩


স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সব অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫ই জুন ২০২৬ বিকাল ০৩:৫৮

remove_red_eye

৫০

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতৈক্যের ভিত্তিতে একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠন করা গেলে দেশে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

 

সোমবার (১৫ জুন) সকালে রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে তথ্য ভবনের ডিএফপি সম্মেলন কক্ষে ‘ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় মিডিয়ার ব্যর্থতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

 

 

তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় নীতি ও আইন প্রণয়ন, অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ, পেশাগত উৎকর্ষতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় একটি স্বাধীন কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি।

ফলে দেশে একটি শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এ অবস্থায় গণমাধ্যমের মালিক, সম্পাদক, সাংবাদিক, ট্রেড ইউনিয়ন, প্রেস ক্লাবসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে এক প্ল্যাটফর্মে এনে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের আয়না হিসেবে কাজ করে। তাই এ প্রতিষ্ঠানকে আরও নির্ভুল, দায়িত্বশীল ও পেশাদার করে তুলতে হবে। গণমাধ্যম-সংক্রান্ত যেকোনো সংস্কার কার্যক্রম সফল করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ ও মতৈক্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ভিন্নমতের সহাবস্থান গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের পেছনে ভিন্নমতকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধারণ ও চর্চা করতে না পারার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে। তাই মতের বৈচিত্র্যকে সংঘাতের পরিবর্তে প্রগতির শক্তিতে রূপান্তর করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

আলোচনায় তিনি উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ তুলে ধরেন। যুক্তরাজ্যের অফকম , যুক্তরাষ্ট্রের এফসিসি এবং ইউরোপের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মতো একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যেমন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়, তেমনি দায়িত্বশীলতার সীমারেখাও নির্ধারিত থাকে।

মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। সবার বক্তব্যে একটি স্বাধীন ও কার্যকর গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিষয়ে ব্যাপক মিল পাওয়া গেছে। এই ঐকমত্যকে ভিত্তি করে একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এ উদ্যোগে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা গেলে এটি গণমাধ্যম খাতের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কার্যকর অভিভাবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে।

বক্তৃতার শেষাংশে তিনি ১৯৭৫ সালে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে স্বাধীন ও প্রাতিষ্ঠানিক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বহুমতের চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক এবং ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং দৈনিক যুগান্তর-এর সম্পাদক কবি ও সাহিত্যিক আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, দৈনিক নয়াদিগন্ত-এর সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, দ্য ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক, বিএফইউজে, ডিইউজে ও ডিআরইউর নেতারা এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।

 





আরও...