অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, বুধবার, ১০ই জুন ২০২৬ | ২৬শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


লালমোহনের বেতুয়া খালে অবৈধ ১০ লাখ টাকার জাল পুড়িয়ে ধ্বংস


লালমোহন প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৯ই জুন ২০২৬ বিকাল ০৩:৩০

remove_red_eye

২৩

আকবর জুয়েল,লালমোহন : ভোলার লালমোহন উপজেলার বেতুয়া খালে বসানো অবৈধ ও নিষিদ্ধ চায়না বিহন্দি, চায়না দুয়ারি এবং পকেট জালের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ।
রোববার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলার রমাগঞ্জ ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী হাফিজ উদ্দিন বাজার সংলগ্ন বেতুয়া খালে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লালমোহন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ানুল হক।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বেতুয়া খালে অবৈধ ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর উপজেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জাল সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। তবে নির্দেশনা অমান্য করে খালে জাল রেখে দেওয়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ চায়না বিহন্দি, চায়না দুয়ারি, পকেট জাল ও বিহন্দিসহ প্রায় ২০টি জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ধ্বংসকৃত জালের বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলী আহমদ আকন্দ বলেন, “বেতুয়া খালে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই সতর্কতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। জালের মালিকদের নিজ দায়িত্বে জাল সরিয়ে নিতে বলা হলেও তারা তা করেননি। ফলে অভিযান চালিয়ে জালগুলো জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অবৈধ জালের ব্যবহার মাছের প্রজনন ও জলজ সম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের জালের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে লালমোহন থানা পুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেন। এছাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির মো. মেহেদী হাসান, প্রধান সহকারী মো. মাসুদ আলম, মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মো. ছাইফুল ইসলাম সোহাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, “চায়না ও বিহন্দি জাল দিয়ে মাছ শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ছোট মাছ ও মা মাছ রক্ষা এবং মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এ ধরনের অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”