অনলাইন সংস্করণ | ভোলা, রবিবার, ৭ই জুন ২০২৬ | ২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


শিশু নির্যাতন রোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ফারজানা শারমীনের


বাংলার কণ্ঠ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ই জুন ২০২৬ বিকাল ০৪:৪৫

remove_red_eye

৫৯

শিশু নির্যাতন রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন। তিনি বলেছেন, আইন থাকলেও সচেতনতার অভাব ও বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে নিপীড়িত নারী ও শিশুদের আইনি ও স্বাস্থ্য সহায়তা সেলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, যা সুরক্ষা কার্যক্রমকে দুর্বল করছে।

 
দেশে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থাকলেও সেগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে শিশু সুরক্ষায় আরও বড় অগ্রগতি সম্ভব হতো।

 

শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ শুধু আইন দিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

এর জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-সব পর্যায়ে সচেতনতা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক অবহেলা ও অনিয়মও পরবর্তী সময়ে অপরাধপ্রবণতা তৈরিতে ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
ফারজানা শারমীন বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার, অনলাইন অপরাধ, মাদক ও জুয়ার বিস্তার শিশু ও কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করলেও সামাজিক সচেতনতা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় শৈশব। এ সময়ে পারিবারিক শিক্ষা ও পরিবেশ তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা রাখে। তাই অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার ১০৯৮ শিশু সহায়তা হেল্পলাইনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সেবা প্রদান করছে। তবে জনবল ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে সব কল তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। এ অবস্থায় তিনি বেসরকারি খাত ও সামাজিক সংগঠনগুলোর আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন।

তিনি বলেন, সাক্ষী সুরক্ষা, মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রিতা কমানো এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা হচ্ছে।

গোলটেবিল বৈঠকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক নাহরীন আই খান, ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম, ডা. মো. নিজাম উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফ উদ্দীন আহমেদ উজ্জ্বলসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।